শিশুর বমি
All ২৮ ভিউ

শিশুর বমি

রোগ সম্পর্কে

শিশুরা প্রায়ই দুধ খাওয়ার পর বা ভারি খাবার খাওয়ার পর বমি করে থাকে। কখনো কখনো এটি সাধারণ বদহজম থেকে হয়, আবার কখনো এটি সংক্রমণের সংকেত হতে পারে। যেহেতু শিশুদের শরীর খুব নরম ও স্পর্শকাতর, তাই তাদের বমি বন্ধে প্রাকৃতিক ও মৃদু চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। সঠিক লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করলে খুব দ্রুত শিশুর বমিভাব দূর করা সম্ভব।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

শিশুর বমি হওয়া বাবা-মায়ের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের হজম ক্ষমতা বড়দের তুলনায় সংবেদনশীল হওয়ায় তারা দ্রুত এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়। হোমিওপ্যাথিতে শিশুদের বমির জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন প্রতিকার রয়েছে।

শিশুর বমির প্রধান কারণসমূহ:

  • অতিরিক্ত খাবার খাইয়ে ফেলা (Overfeeding)।

  • খাবার হজম না হওয়া বা পেটে গ্যাস হওয়া।

  • পেটে ইনফেকশন বা ভাইরাসজনিত সমস্যা।

  • খাবার সময় বাতাস গিলে ফেলা।

লক্ষণ অনুযায়ী কিছু কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ:

  • Ipecac (ইপিকাক): যদি শিশুর সবসময় বমি বমি ভাব থাকে এবং বমি করার পরেও সেই ভাব না কমে, তবে এটি শ্রেষ্ঠ ওষুধ। বমির সাথে যদি জিহ্বা পরিষ্কার থাকে, তবে এটি খুব ভালো কাজ করে।

  • Antim Crud (এন্টিম ক্রুড): যদি অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে বমি হয় এবং শিশুর জিহ্বায় দুধের মতো সাদা পুরু আস্তরণ থাকে, তবে এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়।

  • Aethusa (ইথুজা): এটি শিশুদের জন্য একটি বিশেষ ওষুধ। বিশেষ করে দুধ পানের পরপরই যদি শিশু দইয়ের মতো জমাট বাঁধা দুধ বমি করে দেয় এবং এরপর খুব দুর্বল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে এটি মহৌষধ।

  • Nux Vomica (নাক্স ভূমিকা): যদি বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর শিশু বমি করে, তবে এটি কার্যকর।

  • Chamomile (ক্যামোমিল): বমির সাথে যদি শিশু খুব খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায় এবং ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদে, তবে এটি দ্রুত আরাম দেয়।

শিশুর বমি বা দুধ সহ্য না হওয়া— ১। শিশুর বমি বমি ভাব, কিছু খাইবার পরই বমি হয়, দুধ পান করিবার পরই জমাট দুধ (মলও দধির ডেলার মত) ইহার পর আর দুধ পান করিতে চায় না। শিশুর মেজাজ খিটখিটে (কাহারো দৃষ্টি পর্যন্ত সহ্য করিতে পারে না। জিহবা সাদা ইত্যাদি লক্ষণে এন্টিমক্রুড ৩০, দিনে ৩ বার।

২। শিশু দুধ যেমন খাইয়াছিল ঠিক তেমন অবস্থায় প্রবল বেগে নাক মুখ দিয়া দুধ উঠিয়া যায় অথবা দুধ পানের পর ছানা কাটা দধির ডেলার মত বমি করে (তবে বমি বমি ভাব থাকে না) বমির পর শিশু দুর্বল হইয়া যায়, ঘুমাইয়া পড়ে এবং জাগিয়া পুনরায় দুধ খাইতে চায় ইত্যাদি লক্ষণে ইথুজা ৩০, দিনে ৩ বার। ৩। শিশুর টক গন্ধযুক্ত বমনে রোবিনিয়া ৩০, দিনে ৩ বার। ৪। শিশুর বমনের সহিত তড়কা (খেঁচুনি) থাকিলে ইথুজা ৬ দুই ঘন্টা পর পর। ৫। শিশু টক গন্ধযুক্ত ছানাকাটা বমি করিলে ক্যাঙ্কে কার্ব ৩০, দিনে ৩ বার। ৬। জমাট বাঁধা দুধ বা ছানা কাটা বমি করিলে ভ্যালেরিয়েনা ৩x দুই ঘন্টা পর পর । ৭। শিশুর অবিরত গা বমি বমি লক্ষণে ইপিকাক ৩০ তিন ঘন্টাত্তর । ৮ । দধির মত ঢাকা বমনে স্যানিকিউলা ৩০, দিনে ২ বার (খিটখিটে মেজাজী শিশু)। দুধ পান করা মাত্রই বমি করিলে আর্সেনিক ৩০, ২০০ । ৯। দুধ পান করার ৫/১০ মিনিট পরে বমি করিলে ফসফরাস। ১০। মোটা ও অস্থির শিশু, মাথায় ঘাম হইলে ক্যাল্কে-আর্স ।

বিশেষ সতর্কতা ও ঘরোয়া যত্ন

মনে রাখুন: বমির ফলে শিশুর শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, যা থেকে 'ডিহাইড্রেশন' হতে পারে। তাই শিশুকে বারবার খাবার স্যালাইন (ORS) বা তরল খাবার দিতে হবে। যদি বমি না থামে বা শিশুর প্রস্রাব কমে যায়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঘরোয়া টিপস:

  1. শিশুকে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিন।

  2. খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই তাকে শুইয়ে দেবেন না।

  3. খাওয়ানোর পর শিশুর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিন যাতে গ্যাস বেরিয়ে যায় (Burping)।

 

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

বমির সাথে পাতলা পায়খানা হলে করণীয় কী?

বমি ও পাতলা পায়খানা একসাথে হওয়া পেটে ইনফেকশনের লক্ষণ। এক্ষেত্রে প্রচুর তরল পান করানোর পাশাপাশি লক্ষন অনুযায়ী 'পডোফাইলাম' (Podophyllum) বা 'আর্সেনিক অ্যালবাম' (Arsenic Alb) ভালো কাজ করে। তবে অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

বমি হলে কি শিশুকে শক্ত খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে?

হ্যাঁ, বমি চলাকালীন শিশুকে ভারি বা শক্ত খাবার না দিয়ে তরল খাবার যেমন—রাইস ওয়াটার, ডাবের পানি বা ওআরএস (ORS) দেওয়া উচিত। পাকস্থলী শান্ত হলে ধীরে ধীরে নরম খাবার শুরু করা যেতে পারে।

বমির ওষুধ খাওয়ানোর কতক্ষণ পর শিশুকে খাওয়ানো যাবে?

ওষুধ খাওয়ানোর অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর শিশুকে হালকা তরল খাবার দেওয়া ভালো। এতে পাকস্থলী ওষুধটি গ্রহণ করার সময় পায়।

হোসনেআরা হিমু

হোমিও বিশেষজ্ঞ

ডা. হোসনে আরা একজন অভিজ্ঞ ও সেবাপরায়ণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তিনি...

শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন