শিশুর জন্মের প্রথম কয়েক মাস বাবা-মায়ের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি অনেক সময় উদ্বেগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যদি সোনামণি অকারণে কান্নাকাটি শুরু করে, তবে এর অন্যতম সাধারণ কারণ হতে পারে পেটে গ্যাস বা 'গ্যাস্ট্রিক ট্রাবল'। ছোট শিশুদের পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি পরিপক্ক না হওয়ায় তারা খুব সহজেই পেটে গ্যাস তৈরি হওয়া বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় ভোগে। অনেক সময় খাওয়ার সময় বাতাস পেটে ঢুকে যাওয়া কিংবা দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করার ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। খুব সহজেই কিছু ঘরোয়া উপায়ে আপনি আপনার শিশুর পেটের গ্যাস কমিয়ে তাকে শান্ত রাখতে পারেন।
শিশুর পেটে গ্যাসের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি বিষয়, যা সাধারণত হজম প্রক্রিয়ার অপরিপক্বতার কারণে হয়ে থাকে। নিচে এর কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া কিছু সমাধান তুলে ধরা হলো:
খাওয়ানোর সময় বাতাস ঢোকা: শিশু যখন খুব দ্রুত দুধ পান করে বা কান্নাকাটি করে, তখন পেটে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে যায়।
হজম প্রক্রিয়া: শিশুদের পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি তৈরি হতে সময় লাগে, যার ফলে অনেক সময় দুধের শর্করা ঠিকমতো হজম হয় না।
মায়ের খাবার: যদি শিশু বুকের দুধ পান করে, তবে মা এমন কিছু খেলে (যেমন: অতিরিক্ত ডাল, বাঁধাকপি বা মসলাযুক্ত খাবার) যা গ্যাস তৈরি করে, তার প্রভাব শিশুর ওপর পড়তে পারে।
পেট ফেঁপে থাকা বা শক্ত হওয়া।
খাওয়ানোর পর অতিরিক্ত কান্না করা (বিশেষ করে বিকেলের দিকে)।
পা গুটিয়ে পেটের কাছে নিয়ে আসা।
ঘন ঘন বায়ু ত্যাগ করা।
১. সঠিক পজিশনে খাওয়ানো: শিশুকে খাওয়ানোর সময় মাথা একটু উঁচু করে রাখুন যাতে দুধ সহজে নিচে নেমে যায় এবং বাতাস কম ঢোকে।
২. পিঠ চাপড়ানো (Burping): প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর মাঝে এবং শেষে শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতো করে পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। এটি বাতাস বের করে দিতে সাহায্য করে।
৩. সাইক্লিং ব্যায়াম: শিশুকে চিত করে শুইয়ে তার দুই পা ধরে সাইকেল চালানোর মতো করে ধীরে ধীরে নাড়ান। এটি পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করতে বেশ কার্যকর।
৪. পেটে মালিশ: হালকা গরম সরিষার তেল বা বেবি অয়েল দিয়ে নাভির চারপাশে ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) আলতো করে মালিশ করুন।
৫. টামি টাইম (Tummy Time): দিনের কিছুটা সময় শিশুকে পেটের ওপর ভর দিয়ে শুইয়ে রাখুন (অবশ্যই আপনার তত্ত্বাবধানে)। এটি পাকস্থলীর ওপর হালকা চাপ তৈরি করে গ্যাস বের হতে সাহায্য করে।
যদি শিশু একদমই খেতে না চায়।
পেট অনেক বেশি শক্ত হয়ে থাকে।
জ্বর বা বমি ভাব থাকলে।
মলে রক্ত দেখা দিলে।
শিশুর অস্বস্তি খুব বেশি হলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ না খাইয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
নবজাত শিশুর পেটে গ্যাস হইয়া কান্নাকাটি করিলে নাক্স ৬ দুই ঘন্টাস্তর। হইতে লাইকোপডিয়াম বা আর্জ নাই ৩০, দিনে ২ বার। সেন্না ৩০ ভাল ঔষধ । ক্যামোমিলা ৩০ সুন্দর ঔষধ।
Gemini said শিশুর পেটে গ্যাসের সমস্যা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ) নিচে দেওয়া হলো: ১. শিশুর পেটে গ্যাস হলে বুঝবো কীভাবে? শিশু যদি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে, বারবার পা পেটের দিকে গুটিয়ে নেয়, হাত শক্ত করে মুষ্টি পাকিয়ে রাখে এবং পেট কিছুটা ফোলা বা শক্ত অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে তার পেটে গ্যাস হয়েছে।
হ্যাঁ, হতে পারে। শিশু যদি ভুলভাবে স্তনবৃন্ত মুখে নেয় (Latching problem), তবে দুধের সাথে বাতাস ঢুকে গ্যাস হতে পারে। এছাড়া মা যদি খুব বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী খাবার খান, তবে তার প্রভাবও শিশুর ওপর পড়তে পারে।
যদি শিশু সলিড খাবার শুরু করে থাকে, তবে অতিরিক্ত ডাল, ব্রকলি, ফুলকপি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার থেকে গ্যাস হতে পারে। আর বুকের দুধ খেলে মায়ের অতিরিক্ত চা, কফি বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
মোট 3টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন