শিশুর দুধ খাওয়াজনিত সমস্যা
Child ৫৫ ভিউ

শিশুর দুধ খাওয়াজনিত সমস্যা

রোগ সম্পর্কে

শিশুর প্রধান ও একমাত্র খাবার হলো দুধ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় শিশু দুধ পান করার পরেই বমি করে দেয়, কান্নাকাটি করে অথবা তার পেট ফেঁপে থাকে। এটি সাধারণত দুধ হজম করতে না পারা বা 'ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স'-এর কারণে হতে পারে। অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের চেয়ে হোমিওপ্যাথি শিশুদের এই ধরনের সংবেদনশীল সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর পরিপাকতন্ত্রকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে এবং কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

শিশুর দুধ খাওয়ার সমস্যাগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথিতে কিছু চমৎকার ওষুধ রয়েছে:

১. প্রধান হোমিওপ্যাথিক ওষুধসমূহ:

  • Aethusa Cynapium (ইথুজা): এটি শিশুদের দুধ হজমের সমস্যার জন্য শ্রেষ্ঠ ওষুধ। যদি শিশু দুধ খাওয়ার সাথে সাথেই দইয়ের মতো জমাট বাঁধা বমি করে এবং এরপর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে এটি ব্যবহার করা হয়।

  • Magnesium Carb (ম্যাগনেসিয়াম কার্ব): যদি শিশুর পায়খানা ও বমি থেকে টক গন্ধ আসে এবং পেটে প্রচুর গ্যাস হয়, তবে এই ওষুধটি অত্যন্ত কার্যকর।

  • Calcarea Carb (ক্যালকেরিয়া কার্ব): যেসব শিশু একটু স্থূল বা ঘাম বেশি হয় এবং দুধ একেবারেই সহ্য করতে পারে না, তাদের জন্য এটি উপকারী।

২. সাধারণ লক্ষণসমূহ:

  • দুধ খাওয়ার পর পেট শক্ত হয়ে থাকা।

  • ঘন ঘন বমি বা টক গন্ধযুক্ত পায়খানা।

  • পেট ব্যথার কারণে পা পেটের দিকে গুটিয়ে কান্নাকাটি করা।

  • দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে কিছুক্ষণ পিঠ চাপড়ে দিন (Burping), যাতে বাতাস বেরিয়ে যায়।

  • মায়ের খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

১। শিশুর দুধ সহ্য হয় না, পেট কামড়ায় এবং সামান্য মাত্র দুধ পান করলেও ছানার ন্যায় জমাট বাঁধা দুর্গন্ধ বা অম্লগন্ধযুক্ত (নেট-ফস) ৰমন করলে ক্যাঙ্কে ফস। ৬x - ২ বড়ি দিনে ৩/৪ বার সেব্য ।

২। শিশু দুধ হজম করতে পারে না, পেটে বেদনা হয়, অজীর্ণ অবস্থায় বের হয় লক্ষণে ম্যাগ কার্ব অথবা ম্যাগ মিউর ৩০ দিনে ৩ বার।

৩। দুধ খেলেই শিশু পীড়িত হয়, পেটের গোলমাল দেখা দেয়, অস্যমক পরিপোষণ ক্রিয়া দেখা যায়-ল্যাক ডিফ্লোরেটাম ৩০ দিনে ২/১ বার ।

৪। দুধ অসহ্য, খেলেই চাকা চাকা দুধ বমি করে, শিশু নিস্তেজ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, জেগে আবার খেতে চায়- ইজা ১২/৩০, দিনে ৩/৪ বার। বিপরীত লক্ষণে অর্থাৎ খেতে চায়না - - এন্টিমক্রুড।

৫। দুধ ও তার সাথে বেশ চিনি খাওয়ার কারণে শিশুর অসুস্থতা নেট্রাম ফস ৬x দিনে ৩/৪ বার (আর্জ নাইট)।

৬। মায়ের দুধে শিশুর অনিহা (aversion) খেলেই ঢাকা ঢাকা বমি করে বা ডায়রিয়া হয়— সাইলিসিয়া, নেট্রাম কার্ব।

৭। দুধ হজম করতে পারে না। চাকা চাকা বমি করে – ইজা

৮। দুধ অসহ্য, খাওয়ার সাথে সাথেই বমি ও পায়খানা দেখা দেয় - আর্সেনিক ৩০, দিনে ২/৩ বার ।

9) Milk Allergy- টিউবারকুলিনাম বর্তিনাম ২০০ থেকে । ১০। স্তনদুগ্ধ পান করার সময় শিশু কাঁদে বোরাক্স ৩০। দুধের স্বাদ তিতা বোরাক্স, ব্রোয়ো, পালস ।

সহায়ক পরামর্শ:

  • দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে কিছুক্ষণ পিঠ চাপড়ে দিন (Burping), যাতে বাতাস বেরিয়ে যায়।

  • মায়ের খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

. শিশু দুধ খাওয়ার পর বমি করলে কি চিন্তার কিছু আছে?

সামান্য পরিমাণ দুধ তুলে দেওয়া (Spit-up) স্বাভাবিক। কিন্তু যদি শিশু বড় আকারে দইয়ের মতো বমি করে এবং তার ওজন না বাড়ে, তবে এটি হজমের সমস্যা হতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

এই ওষুধগুলো কতদিন খাওয়াতে হয়?

এটি সাধারণত শিশুর সমস্যার গভীরতার ওপর নির্ভর করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ডোজ ওষুধেই শিশু আরাম বোধ করে। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্য কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে

এই ওষুধগুলো কতদিন খাওয়াতে হয়?

এটি সাধারণত শিশুর সমস্যার গভীরতার ওপর নির্ভর করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ডোজ ওষুধেই শিশু আরাম বোধ করে। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্য কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন