প্রসবকালীন উপসর্গ
Female ৫৭ ভিউ

প্রসবকালীন উপসর্গ

রোগ সম্পর্কে

একটি সুস্থ সন্তানের জন্মদান প্রতিটি মায়ের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি প্রসবের সময়টি শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক সময় দেখা যায় প্রসব বেদনা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, জরায়ুর মুখ ঠিকমতো না খোলা কিংবা অসহ্য যন্ত্রণার কারণে মা ও শিশু উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই সংকটময় সময়ে হোমিওপ্যাথি হতে পারে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পথ। হোমিওপ্যাথি প্রসবের সময় জরায়ুর পেশিকে নমনীয় করতে এবং প্রসব বেদনাকে নিয়মিত ও সহনীয় করতে সাহায্য করে। এটি কোনো কৃত্রিম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসবের (Normal Delivery) সম্ভাবনা অনেকাংশ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ বা দুর্বলতা কাটাতেও হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দারুণ কার্যকর। সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এই চিকিৎসা গ্রহণ করলে প্রসবকালীন যাত্রা অনেকটাই সহজ ও নিরাপদ হয়।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

 

প্রসবকালীন সাধারণ কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

প্রসবের বিভিন্ন অবস্থায় লক্ষণভেদে নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত হয়:

ঔষধের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্র/লক্ষণ
Caulophyllum জরায়ুর মুখ খুলতে দেরি হলে এবং প্রসব বেদনা অনিয়মিত বা দুর্বল হলে এটি জরায়ুর শক্তি বাড়ায়।
Cimicifuga প্রসবের সময় যদি তীব্র কাঁপুনি, প্রচণ্ড অস্থিরতা এবং উরুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।
Pulsatilla যদি প্রসব বেদনা বারবার থেমে যায় এবং রোগী খোলা বাতাস বা শান্ত পরিবেশ পছন্দ করে।
Gelsemium প্রসবের ভয়ে শরীর থরথর করে কাঁপলে এবং জরায়ুর মুখ শক্ত হয়ে থাকলে এটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
Arnican Mont প্রসব পরবর্তী ক্ষত নিরাময় এবং শরীরের ব্যথা ও রক্তক্ষরণ দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।

(১) মিথ্যা বা অপ্রকৃত প্রসব ব্যথা- অনিয়মিতভাবে ব্যথা উঠে ও থেমে গেলে তাকে অপ্রকৃত প্রসব ব্যথা বলে । ইহাতে পালস (রোগিনী ঠান্ডা ভালবাসে। কিংবা সিমিসি (রোগিনী-গরম পছন্দ করে) ২০০ থেকে ব্যবহার্য । ইহাতে কলোফাইলাম, জেলস, বেল, ক্যামো, নাক্সমস, সিপিয়া, চাইবানাম গুনি ইত্যাদি ঔষধ ও ব্যবহার করা যায়। “কোন ঔষধে কাজ নাহলে খুজা বা মেডোরিনাম ব্যবহার্য । কৃত্রিম প্রসব বেদনা-গর্ভের প্রথম দিকে হলে সিমিসি ৩০ আর শেষের দিকে হলে কলোফাইলাম ৩০ (ডা: সরকার) **(2) স্বাভাবিকভাবে সঠিক স্থানে বাচ্চা স্থির না হলে সিমিসিফিউগা ২০০ এবং সন্তান সঠিকভাবে উপস্থিত (মাথা না এসে অন্য অঙ্গ আসলে) |না হলে পালসেটিলা হাজার/১০ হাজার থেকে ব্যবহার্য । (৩) নিয়মিত প্রসব বেদনা সত্ত্বেও জরায়ুর মুখ (Os uteri) না খুললে জলস ২০০ বা সিমিসিফিউগা ৩০, ২০০ ব্যবহার্য । (৪) বাধার সময় পুনঃ পুনঃ পায়খানা বা প্রস্রাবের বেগ হলে নাক্স ৩০, ১৫/২০ মিঃ পর পর (৫) ব্যথা হঠাৎ থেমে গেলে বেলাডোনা ২০০। (৬) ব্যথা উপরের দিকে চাপ দিলে সিপিয়া, পালস, সিকেলি। (৭) ব্যথা রানের দিকে নামলে সিমিসিফিউগা। **(৮) অতিরিক্ত রক্ত বা পানি ভাংগার পরও বেদনা ন থাকার কারণে প্রসর না হলে সিকেলিকর ৩০। ব্যর্থ হলে মেডোরিনাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রসবের সময় খুব বেশী রক্তস্রাব হতে থাকলে সিনামন (৫ ফোঁটা ১৫/২০ মিঃ পর পর অথবা সেবাইনা ২০০ শক্তি পরিবর্তন নিয়মে ১ ঘন্টা পর পর। (১০) অসহ্য বেদনায় ক্যামো, কফিয়া, সিপিয়া ৩০ থেকে ব্যবহার্য। (১১) রোগিনীর শারীরিক দুর্বলতা বশত ঠিকমত রাখা না উঠলে কেলি ফস ৪x ১০ বড়ি ২০ মিঃ অন্তর। (১২) সন্তানের বড় মাথার কারণে প্রসব যন্ত্রণায় ক্যাঙ্কে ফ্লোর ১২x বা ২০০ ব্যবহার্য। ** (১৩) প্রসব বেদনা থাকিয়া থাকিয়া আসে। বেদনা স্বাভাবিকভাবে আরম্ভ হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে লক্ষণে কালোফাইলাম ৩০। ডাঃ হেল বলেন- অনিয়মিত প্রসব বেদনা, নিস্তেজ প্রসব বেদনা এবং জরায়ুর মুখ শীঘ্র প্রশস্ত না হলে কালোফাইলাম (ব্যথা থেমে থেমে নীচের দিকে চাপ দেয়) ২x বা ৩x বারংবার প্রয়োগ করা কর্তব্য। ইহা প্রসব বেদনা বাড়িয়ে সত্ত্বর প্রসব করিয়ে দেয়। রোগিনীর ঠান্ডা অসহ্য। (১৪) অনিয়মিত বেদনা, কখনও কম কখনও বেশী আবার কখনও মোটেই থাকেনা, বেদনার জোর না থাকায় জরায়ুর মুখ খোলে না- পালসেটিলা । ইহার রোগিনী ঠান্ডা বাতাস চায়। (১৫) সন্তান মরে গিয়ে প্রসব দেনার সমাপ্তি হলে পালস উচ্চশক্তি ব্যবহার্য। ক্যান্থারিসও চিন্তা করা যায়। (১৬) বায়োকেমিক কেলি ফস 8x (১০ বড়িতে ১ মাত্রা) সর্বপ্রকার প্রসব বেদনাতেই উপযোগী, ইহার প্রয়োগ প্রায় অমোঘ, ১৭।এ সময় রোগিনীর কম্পন দেখা দিলে সিমিসিফিউগা ব্যবহার করবে(সরকার)। (১৮) এক্লাম্পসিয়া (Eclamptia) (ক) এটা ডেলিভারির পর পরই দেখা দিলে এমিল নাইট্রেট। (খ) প্রসবকালে ও প্রসবের পর দেখা দিলে হায়োসিয়েমাস। (গ) ডেলিভারির পূর্বে, সময়ে ও পরে দেখা নিয়ে সিকিউটা ৩০ শক্তি থেকে ব্যবহার্য। অনেকের মতে গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে এপিস ও বেলাডোনা ২০০ শক্তিতে ২/১ মাত্রা সেবনে এরাম্পসিয়া দেখা দেয় না।

জরুরি পরামর্শ ও সতর্কতা

  • গর্ভাবস্থার শেষ মাস থেকেই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত।

  • প্রসবের সময় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

  • সতর্কবার্তা: প্রসবকালীন পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যেকোনো ঔষধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনার গাইনোকোলজিস্ট এবং একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা সবসময় জরুরি।

বিঃ দ্রঃ- প্রসবকালে লক্ষণানুযায়ী ঔষধ দিয়ে ভাল ফল না পেলে মেডোরিনাম ব্যবহার করবে। তবে স্বামীর গণোরিয়া রোগে ভোগার ইতিহাস থাকলে প্রথমে থুজা দিতে হবে এবং থুজা ব্যর্থ হলে মেডোরিনাম ব্যবহার করবে ।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

হোমিওপ্যাথি কি স্বাভাবিক প্রসব (Normal Delivery) নিশ্চিত করতে পারে?

হোমিওপ্যাথি কোনো জাদুকরী উপায় নয়, তবে এটি প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে দারুণ সাহায্য করে। এটি জরায়ুর পেশিকে নমনীয় করে এবং প্রসব বেদনাকে সঠিক ছন্দে আনে, যা স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দেয়।

প্রসবের কতদিন আগে থেকে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শুরু করা উচিত?

সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ মাস (৯ম মাস) থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবন করা হয়। এটি প্রসবের সময় জরায়ুর মুখ সহজে খুলতে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধে সাহায্য করে।

. সিজারিয়ান অপারেশনের পর কি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নেওয়া যায়?

অবশ্যই। সিজারের পর শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষত দ্রুত শুকাতে, ব্যথা কমাতে এবং ইনফেকশন রোধ করতে হোমিওপ্যাথি (যেমন: Arnica বা Staphysagria) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

হোসনেআরা হিমু

হোমিও বিশেষজ্ঞ

ডা. হোসনে আরা একজন অভিজ্ঞ ও সেবাপরায়ণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তিনি...

শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন