নবজাতকের একশিরা
Child ৫৬ ভিউ

নবজাতকের একশিরা

রোগ সম্পর্কে

নবজাতক ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে একশিরা (Hydrocele) একটি সাধারণ সমস্যা। এটি মূলত অণ্ডকোষের চারদিকে তরল জমা হওয়াকে বোঝায়, যার ফলে অণ্ডকোষ ফুলে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি জন্মের সময় বিদ্যমান থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা (Homeopathic Treatment)

একশিরা দুই ধরণের হতে পারে: কমিউনিকেটিং (যেখানে পেটের সাথে অণ্ডকোষের সংযোগ থাকে) এবং নন-কমিউনিকেটিং (যেখানে সংযোগ থাকে না)। নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয়। তবে এটি যদি ইনগুইনাল হার্নিয়ার (Inguinal Hernia) সাথে যুক্ত থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

লক্ষণগুলো হলো:

  • অণ্ডকোষের এক বা উভয় পাশ ফুলে যাওয়া।

  • ফোলা অংশটি সাধারণত নরম অনুভূত হয়।

  • কান্না করলে বা চাপ দিলে ফোলা অংশটি বড় হতে পারে।


হোমিওপ্যাথি লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। নবজাতকের শরীরের কোমলতা বিবেচনা করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাত্রার ওষুধ নির্বাচন করা হয়। নিচে সাধারণ কিছু ওষুধের নাম দেওয়া হলো (তবে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা অনুচিত):

ওষুধের নাম ব্যবহারের ক্ষেত্র/লক্ষণ
Arnica Montana যদি জন্মের সময় কোনো আঘাত বা চাপের কারণে একশিরা হয়।
Abrotanum যদি শিশুর শরীর দুর্বল থাকে এবং অণ্ডকোষে তরল জমে ফুলে যায়।
Pulsatilla যদি একশিরা পর্যায়ক্রমে বড় বা ছোট হয় এবং শিশু খুব অভিমানী স্বভাবের হয়।
Rhododendron যদি অণ্ডকোষ শক্ত অনুভূত হয় এবং বিশেষ করে বাম দিকে ফোলা বেশি থাকে।
Silicea দীর্ঘস্থায়ী একশিরার ক্ষেত্রে যেখানে শিশু শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল।

নবজাত শিশুর একশিরায়— ব্রায়োনিয়া ৩ দিনে ৩ বার পিতামাতার যক্ষ্মা রোগ হইয়া থাকিলে ব্যাসিলিনাম ২০০ পনর দিন পর পর ১ মাত্রা। পিতামাতার চর্মরোগের ইতিহাস থাকিলে সালফার ২০০ পনর দিন পর পর ১ মাত্রা। (এমন ২/৩ মাত্রা ।)

 নবজাত শিশুর নাভী দেশে হার্নিয়ায় প্রথমে নাক্স ৩০, দিনে ৩ বার করে । অন্ডকোষের অভ্যন্তরে হার্ণিয়ায় ম্যাগমিউর ২০০ সপ্তাহে ১ বার। শিশুর পিতা-মাতার গণোরিয়ার ইতিহাস থাকিলে মেডোরিণাম হাজার, মাসান্তে ১০ হাজার প্রয়োগ করিবেন। ডান দিকের হার্নিয়ায় লাইকো, বাম দিকে নাক্স। কুঁচকির হার্নিয়া- বাম দিকে নাক্স, থুজা। ডান দিকে, লাইকো ।

নবজাত শিশুর অন্ডকোষ না থামিলে থাইরয়েডিনাম ২x আধ গ্রেগ দিনে ২ বার। ইহাতে অরামমেট ২০০ হইতে উচ্চ শক্তি ব্যবহার্য। অণ্ডকোষে জল নামিলে পালস ব্যবহার্য। সাইলিসিয়াও ব্যবহার হয়।

নবজাতকের একশিরা বা Hydrocele মা-বাবার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হলেও, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এটি সহজে নিরাময়যোগ্য। নিচে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

সতর্কতা: নবজাতকের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা (Potency) এবং প্রয়োগ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. সাধারণত ১ বছর বয়স পর্যন্ত ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিক উপায়েই সেরে যায়।

***যদি অণ্ডকোষ লাল হয়ে যায়, শিশু প্রচণ্ড কান্নাকাটি করে বা বমি করে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

 

 

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

একশিরা এবং হার্নিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?

একশিরা হলো কেবল তরল জমা হওয়া। অন্যদিকে, হার্নিয়া হলো পেটের কোনো অংশ (যেমন নাড়িভুঁড়ি) অণ্ডকোষের থলিতে নেমে আসা। হার্নিয়া হলে শিশু কান্নাকাটি করলে বা জোরে চাপ দিলে জায়গাটি ফুলে ওঠে এবং এটি সাধারণত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এটি কি অপারেশন ছাড়া সেরে যায়?

হ্যাঁ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। শিশুর জন্মের পর প্রথম এক বছরের মধ্যে এই তরল শরীরে শোষিত হয়ে যায় এবং অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

একশিরা কি ভবিষ্যতে শিশুর প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে?

সাধারণ একশিরা বা হাইড্রোসিল প্রজনন ক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে যদি এটি বড় কোনো সংক্রমণের কারণে হয় বা দীর্ঘ সময় অবহেলা করা হয়, তবে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া ভালো।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন