শিশু শুকিয়ে যাওয়া
Child ৫১ ভিউ

শিশু শুকিয়ে যাওয়া

রোগ সম্পর্কে

একটি সুস্থ ও সবল শিশু প্রতিটি পরিবারের আনন্দ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, শিশু পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরেও তার শারীরিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হচ্ছে না, বরং শিশু দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। একে গ্রাম বাংলায় অনেকে 'রিকেট' বা 'অপুষ্টি' বলে থাকেন। শিশুর শরীর শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে কৃমির উপদ্রব, হজমের সমস্যা, লিভারের দুর্বলতা কিংবা জন্মগত কোনো শারীরিক ত্রুটি দায়ী থাকতে পারে। যেখানে সাধারণ অনেক ওষুধ ব্যর্থ হয়, সেখানে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। হোমিওপ্যাথি শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভেতর থেকে পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে, যার ফলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিশু হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাধারণত শরীর শুকিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিচের ওষুধগুলো লক্ষণভেদে ব্যবহৃত হয়:

ঔষধের নাম প্রধান লক্ষণসমূহ
Abrotanum শিশুর পাগুলো খুব সরু হয়ে যায়, ঘাড় সোজা রাখতে পারে না এবং ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও শুকিয়ে যায়।
Calcarea Phos শিশু দেখতে ফ্যাকাশে, হাড় দুর্বল এবং বারবার পাতলা পায়খানা হওয়ার প্রবণতা থাকে।
Iodium প্রচুর খাওয়ার পরেও শিশু মোটা হয় না, সবসময় ক্ষুধার্ত থাকে এবং গরম সহ্য করতে পারে না।
Natrum Mur বিশেষ করে শিশুর ঘাড় শুকিয়ে যায় এবং শিশু লবণাক্ত খাবার পছন্দ করে।
Sulphur শিশু নোংরা থাকতে পছন্দ করে, শরীর থেকে দুর্গন্ধ আসে এবং পেটে কৃমির সমস্যা থাকে।

শিশু শীর্ণতা বা শুকিয়ে যাওয়া- ১। কোন কারণ ব্যতীত যে শিশু ক্রমশঃ শুকিয়ে যেতে থাকে অথবা যে শিশু সারাক্ষণ খেতে চায় ও খায় তার পরেও শুকিয়ে যেতে থাকে লক্ষণে ক্যালকে ফস ৬x, ১২x, ২ বড়ি দিনে ২/১ বার কিছুদিন সেবনীয় । (২) অরুচির কারণে শিশু শুকিয়ে যেতে তাকলে সাইলিসিয়া অথবা ফেরাম ফস ১২x. (2 বড়ি দিনে ২/১ বার) কিছুদিন সেবনীয় । (৩) শিশু প্রচুর খায় দায় তবুও শুকিয়ে যায় লক্ষণে এব্রোটেনাম, অরাম মেট, ক্যাঙ্কে কাৰ্য, ক্যাঙ্কে ফস, আইওডিন, নেট্রাম মিউর, ফস, স্যানিকিউলা, সালফার, টিউবার- লক্ষণ মত যে কোন একটি ২০০ থেকে ব্যবহার্য। (৪) শরীরের উপর দিক বেশী শুকালে লাইকো, মেট্রাম মিউর। (৫) শিশুর পাগুলো বেশী শুকাতে থাকলে Aurum met, Argent Nit, এব্রোটেনাম হাজার থেকে । (৬) সারা শরীর শুকাতে থাকাসহ ঘন ঘনখাওয়ার চাহিদা ও ঠান্ডা প্রিয় হলে ফস, নেট-মি, আইওডিন আর গরম পছন্দ করলে সোরিনাম বা ক্যাল্কে ফস। (৭) শরীরের তুলনায় শিশুর মাথা বেশী বড় হলে ক্যাঙ্কে কার্ব, সাইলি, টিউবার ৰভি ২০০ থেকে ব্যবহার্য। (৮) পেট বড় হতে থাকলে এবং সারা শরীর ও হাত পা শুকালে এব্রোটেনাম, ক্যাল্কে কার্ব, সাইলি, সালফার স্টাফিসেগ্রিয়া (৯) হাত-পা শুকনা কিন্তু মাথা ও পেট বড় এরকম শুকিয়ে যেতে থাকলে ক্যাঙ্কে ফস, নেট্রাম-মি, লাইকো, সার্সা হাজার থেকে। (১১) কোন ঔষধে ভাল ফল না পেলে মেডোরিনাম বা টিউবার ভিনাম উচ্চ শক্তিতে ব্যবহার্য। **শিশুকে মোটা করার জন্য দু'বেলা আহারের পূর্বে আলফালফা Q ১০ ফোঁটা আর সকালে ও বিকেলে ফাইভ ফস ৬x চার বড়ি (২/৩ মাস খাওয়াবেন) । শীর্ণতার কারণে শিশু মাথা সোজা করে রাখতে না পাড়লে এব্রোটেনাম, ইথুজা, ক্যাল্কে ফস।

কিছু জরুরি পরামর্শ

সতর্কবার্তা: শিশুর বয়স এবং সঠিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে কোনো ওষুধ সেবন করানো উচিত নয়। উপরে উল্লেখিত ওষুধগুলো শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আপনার শিশুর সঠিক চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন নিবন্ধিত অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

শিশু পর্যাপ্ত খাওয়ার পরেও কেন শুকিয়ে যাচ্ছে?

অনেক সময় কৃমির উপদ্রব, পেটের পীড়া বা হজম প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। এছাড়া মেটাবলিজমের ভারসাম্যহীনতা বা বংশগত কারণেও এমনটি হতে পারে।

৪. ঔষধের পাশাপাশি শিশুকে কী ধরনের খাবার দেওয়া উচিত?

ঔষধের সাথে শিশুকে উচ্চ প্রোটিন ও ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন—ডিম, দুধ, কলা, এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খিচুড়ি দেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, বাইরের প্যাকেটজাত খাবার বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শিশুর হজম শক্তি আরও কমিয়ে দেয়।

কৃমির সমস্যা কি শরীর শুকিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ?

অনেক ক্ষেত্রে হ্যাঁ। কৃমি শিশুর শরীরের পুষ্টি শুষে নেয়, ফলে শিশু ফ্যাকাশে ও রোগা হয়ে পড়ে। তাই শরীর শুকিয়ে যাওয়ার চিকিৎসা শুরু করার আগে কৃমির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন