শিশুর কান্না
Child ৬০ ভিউ

শিশুর কান্না

রোগ সম্পর্কে

শিশুরা কথা বলতে পারে না, তাই কান্না হলো তাদের যোগাযোগের একমাত্র ভাষা। ক্ষুধা, ঘুম, অস্বস্তি বা কোনো শারীরিক সমস্যার কথা তারা কান্নার মাধ্যমেই প্রকাশ করে। অনেক সময় দেখা যায়, সব প্রয়োজন মেটানোর পরেও শিশু থামছে না বা রাতে অকারণে চিৎকার করে কাঁদছে। এই পরিস্থিতি বাবা-মায়ের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।হোমিওপ্যাথি শিশুদের এই ধরণের সমস্যায় অত্যন্ত কার্যকরী এবং নিরাপদ। এটি কেবল কান্নার উপসর্গকে নয়, বরং শিশু কেন কাঁদছে—সেই মূল কারণ যেমন পেটে ব্যথা (Colic), দাঁত ওঠা বা স্নায়বিক অস্থিরতা—তার সমাধান করে শিশুকে শান্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

শিশুর কান্নার সাধারণ কারণসমূহ (Common Causes)

  • পেটে গ্যাস বা ব্যথা (Infantile Colic): নবজাতকদের কান্নার এটি অন্যতম প্রধান কারণ।

  • দাঁত ওঠা (Teething Period): দাঁত ওঠার সময় মাড়িতে ব্যথা ও অস্বস্তি।

  • কান ব্যথা বা সর্দি: শিশুদের ইউস্টেশিয়ান টিউব ছোট হওয়ায় সহজেই কানে ইনফেকশন হতে পারে।

  • ভয় পাওয়া: হঠাৎ কোনো শব্দে বা স্বপ্নে দেখে আতঙ্কিত হওয়া।

  • হজমজনিত সমস্যা: কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানার কারণে পেটে অস্বস্তি।


কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ (Description)

শিশুর মেজাজ এবং কান্নার ধরণ দেখে চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের ঔষধগুলো নির্বাচন করেন:

ঔষধের নাম প্রধান লক্ষণসমূহ
Chamomilla (ক্যামোমিলা) শিশু রাগী মেজাজের হয়, কোলে নিলে শান্ত থাকে কিন্তু নামালেই কাঁদে। দাঁত ওঠার ব্যথায় এটি অদ্বিতীয়।
Colocynth (কলোসিন্থ) পেটে ব্যথার কারণে যদি শিশু সামনের দিকে ঝুঁকে কাঁদে এবং পেট চেপে ধরলে আরাম পায়।
Cina (সিনা) শিশু খুব খিটখিটে হয়, রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে এবং নাকে আঙুল দেয় (কৃমির লক্ষণ থাকলে)।
Belladonna (বেলেডোনা) যদি হঠাৎ কান্নাকাটি শুরু হয়, মুখ লাল হয়ে যায় এবং শরীর উত্তপ্ত থাকে।
Calcarea Phos (ক্যালকেরিয়া ফস) যে সব শিশু রিকেটগ্রস্ত বা দেরিতে দাঁত ওঠে এবং হাড্ডি দুর্বল তাদের কান্নায় কার্যকর।
Jalapa (জালাপা) শিশু সারাদিন শান্ত থাকে কিন্তু রাতে ঘুমানোর বদলে কান্নাকাটি ও ছটফট করে।

শিশুর কান্না — ১ । সারাদিন মোটামুটি শান্ত থাকে, রাত্রির আরম্ভেই চিৎকার করিয়া কাঁদিতে থাকে লক্ষণে জালাপা, সোরিণাম রাসটক্স, সাইপ্রিডিয়াম, ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া- যে কোন একটি ২০০, দুই দিন অন্তর ১ বার । ২। শিশু সারাদিন কাঁদে ও রাত্রে ঘুমায় লাইকোপডিয়াম ২০০ সপ্তাহে ১ বার। ৩। শিশু দিন রাত্র কাঁদে লক্ষণে সোরিণাম ২০০ সপ্তাহে ১ বার। ৪। শিশু সারা রাত্রি কাঁদিয়া ভোরের দিকে ঘুমায় লক্ষণে ক্যাঙ্কে ফস ১২x, ২ বড়ি দিনে ২ বার । ৫।শিশু রাত্রে কিছু খাইবার জন্য কাঁদে লক্ষণে ফসফরাস বা সোরিণাম হাজার সপ্তাহে ১ বার। ৬। শিশুকে ধরিলে বা তার দিকে চাহিলেই কাঁদে লক্ষণে ক্যামো, এন্টিমক্রুড (মেডো) ২০০, দিনে ১ যার (৪ দিন)। ৭। শিশু একা থাকলে কাঁদে নেট্রাম মিউর ২০০। ৮। শিশুকে গোসল দিবার সময় কাঁদে সালফার ২০০। ৯। শিশুকে প্রত্যেক বার খাওয়ানোর সময় কাঁদে পালস ২০০ রোজ সকালে (৫ দিন)। ১০। শিশুর সাথে কথা বলিলেই কাঁদে লক্ষণে সাইলিসিয়া ২০০ সকালে (নেট্রাম মিউর)। ১১। শিশু ঘুম থেকে উঠে কাঁদে, গালি গালাচ করে ও পা ছোঁরে লক্ষণে লাইকোপডিয়াম ২০০ সকালে খাবে । (৪ দিন) ১২। শিশুকে মৃদু ভৎসনা করলে কাদে এন্টিম টার্ট ২০০ থেকে। ১৩। শিশু মায়ের স্তন পান করার সময় কাঁদে— বোরাক্স ৩০, দিনে ২ বার(ডাঃ ৰরিক) ১৪ । প্রস্রাব করিবার আগে শিশু কাঁদে লক্ষণে বোরাক্স, সার্সা, যে কোন একটি (বা প্রথমটির ব্যর্থতায় দ্বিতীয়টি) ৩০ শক্তিতে দিনে ২ বার ব্যবহার্য । ১৫। শিশু নিদ্রার মধ্যে ভয়ে চিৎকার সিফিলিনাম (ডাঃ করে উঠে লক্ষণে বোরাক্স ৩০, দিনে ২ বার (ডাঃ বরিক)।

১৬। জন্মের পর শিশু ক্রমাগত কাঁদতে থাকে মহিমা রঞ্জন) ২০০ রোজ ১ বার সকালে ২/৩ দিন খাবে (ঔষধ ১০ ঝাঁকি সহকারে খাওয়াতে হবে)। ১৭। শিশু পেটে গ্যাস হওয়ার জন্য কাঁদে লক্ষণে——ক্যামো ম্যাগফস, কার্বোভেজ, চায়না, জালাপা, কেটেরারিয়া নেপিটা ৩০, দিনে ২/৩ বার সেব্য। ১৮।পেটে চাপ দিলে ও গরম থেকে আরাম হলে কলোসিন্থ দিনে ৩ বার ব্যবহার করা যায়। এই অবস্থায় ম্যাগ-ফস ৬x (বায়োকেমিক) ১ বড়ি দিনে ৩ বার ব্যবহার করা যায়।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

শিশু কেন রাতে অকারণে চিৎকার করে কাঁদে?

শিশুদের রাতের কান্নার প্রধান কারণ হতে পারে পেটে গ্যাস (Colic Pain), কানে ব্যথা, ভয় পাওয়া বা কৃমির সমস্যা। তবে অনেক শিশু দিনের তুলনায় রাতে বেশি সংবেদনশীল থাকে, যা হোমিওপ্যাথিক ঔষধ 'জালাপা' বা 'সিনা' দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পেটে ব্যথার কারণে কাঁদলে বুঝব কীভাবে?

: শিশু যদি কান্নার সময় দুই পা পেটের দিকে গুটিয়ে নেয়, পেট শক্ত হয়ে থাকে এবং হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে, তবে বুঝতে হবে তার পেটে গ্যাস বা ব্যথা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কলোসিন্থ (Colocynth) বা ম্যাগ ফোস (Mag Phos) ভালো কাজ করে।

শিশুদের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দেওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নবজাতক থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের শিশুদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শে মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন