গণোরিয়া (Gonorrhea) হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং বেদনাদায়ক যৌনবাহিত রোগ (Sexually Transmitted Disease), যা ‘নিসেরিয়া গণোরিয়া’ (Neisseria gonorrhoeae) নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ঘটে থাকে। সাধারণ পরিভাষায় এটিকে অনেক সময় ‘প্রমেহ রোগ’ বলা হয়। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত শরীরের উষ্ণ ও আর্দ্র স্থানগুলোতে, যেমন—প্রস্রাবের নালী (Urethra), যোনিপথ, জরায়ুর মুখ (Cervix), পায়ুপথ এবং কখনো কখনো চোখের ভেতর ও গলায় বংশবৃদ্ধি করে। অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই রোগটি একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। গণোরিয়ার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও সুঁই ফোটার মতো ব্যথা হওয়া, মূত্রনালী বা যোনিপথ দিয়ে ঘন হলদেটে বা সবুজ রঙের পুঁজ বা আঠালো শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া এবং যৌনাঙ্গ ফুলে যাওয়া। অনেক সময় নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না, যার ফলে রোগটি জরায়ু ও ডিম্বনালীতে ছড়িয়ে পড়ে 'পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ' (PID) বা দীর্ঘস্থায়ী তলপেটে ব্যথার সৃষ্টি করে। সঠিক সময়ে এর কার্যকর চিকিৎসা না করালে নারী ও পুরুষ উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট বা বন্ধ্যাত্ব (Infertility) দেখা দিতে পারে।গণোরিয়ার মতো জটিল ও সংবেদনশীল রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত গভীরক্রিয়, নিরাপদ এবং স্থায়ী একটি সমাধান দেয়। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে শক্তিশালী করে তোলে, যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে পুরোপুরি দূর করে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলে।
রোগের তীব্রতা এবং পুঁজ বা ক্ষরণের ধরণ অনুযায়ী ব্যবহৃত প্রধান কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Medorrhinum | এটি গণোরিয়ার চিকিৎসায় একটি অত্যন্ত গভীরক্রিয় নোসোড (Nosode) ঔষধ। বিশেষ করে পুরনো বা চাপা পড়া গণোরিয়ার ইতিহাস থাকলে এবং তার ফলে অন্য কোনো রোগ দেখা দিলে এটি ব্যবহার করা হয়। |
| Cannabis Sativa | গণোরিয়ার তীব্র বা প্রাথমিক অবস্থায় এটি এক নম্বর ঔষধ। প্রস্রাবের নালীতে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া, ক্ষতভাব, লিঙ্গ খাড়া হলে তীব্র ব্যথা এবং মূত্রনালী থেকে প্রচুর পরিমাণে পুঁজ নির্গত হওয়া। |
| Mercurius Solubilis | ক্ষরণটি যদি কালচে-সবুজ বা হলদেটে রঙের হয়, রাতে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা বৃদ্ধি পায়, যৌনাঙ্গে চুলকানি ও দুর্গন্ধ থাকে এবং রোগীর অতিরিক্ত ঘাম ও লালা ঝরার প্রবণতা থাকে। |
| Thuja Occidentalis | ভুল চিকিৎসায় গণোরিয়ার ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যদি শরীরে বাতের ব্যথা, আঁচিল বা অন্য কোনো সাইকোটিক জটিলতা দেখা দেয়, তবে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। |
| Sarsaparilla | প্রস্রাব করার ঠিক শেষ মুহূর্তে যদি তীব্র এবং অসহনীয় শূলানি বা কাটা ফোটার মতো ব্যথা হয় এবং প্রস্রাবের সাথে সামান্য পুঁজ বা রক্তবিন্দু দেখা যায়। |
তরুণ পীড়াতে, ক্যান্থারিস ৩০ দিনে ৪ বার। ভেসিকেরিয়া কমিউনিস (), ১০ ফোঁটা যাত্রায় দিনে ৪ বার (Dr. P.S.Rawar অথবা ক্যানাবিস ইন্ডিকা ১x. ৫ ফোঁটা মাত্রায় দিনে ৪ বার অথ ক্যানাবিস স্যাটাইভা ( পাঁচ ফোটা চার আউন্স পানির সহি মিশাইয়া ১ চা চামচ দিনে ৩ বার। প্রদাহিক লক্ষণ উপশম হইয়া যা ঘন বা পাতলা ও সবুজ হইলে মার্কসল ৩ বিচূর্ণ ১ গ্রেণ মাত্রা দিনে ৩ বার ব্যবহার্য ইহাতে যদিও বা সামান্য লালা মেহের ন্যায় সাব অবশিষ্ট থাকে তখন সালফার বা ক্যাপসিকাম অথবা কেলি আয়োড ২০০ শক্তি ব্যবহার্য। অনেক ক্ষেত্রে ক্যানাবিস স্যাট ব্যবহারেই রোগারোগ্য হয় । তবে প্রয়োজনে ইহার পর (ক্যান সাটি) স্রাব ঘন ও সবুজ হইলে এবং জ্বালা করিলে মার্ককর অথবা স্রাব ঘন ও অনুত্তেজক হইলে পালসেটিলা অথবা সিপিয়া উচ্চশক্তি। আর স্রাব লালা মেহের ন্যায় হইলে সালফার সি.এম শক্তি ব্যবহার্য (ডাঃ ন্যাস)। অর্জিত গণোরিয়ায় খুঁজা, প্রাপ্ত দোষে মেডোরিনাম সুন্দর কাজ করে ।
সঙ্গীর চিকিৎসা: গণোরিয়া একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় স্বামী বা স্ত্রী যেকোনো একজন আক্রান্ত হলে উভয়েরই একসাথে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী, অন্যথায় রোগটি বারবার ফিরে আসবে।
শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা: রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো ধরণের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: প্রতিদিন ব্যবহৃত অন্তর্বাস গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং নিজের ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
পর্যাপ্ত পানি পান: ব্যাকটেরিয়া ও পুঁজ সহজে মূত্রনালী থেকে বের করে দেওয়ার জন্য সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
গণোরিয়া হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক যৌনবাহিত রোগ (STD), যা 'নিসেরিয়া গণোরিয়া' নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ঘটে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি প্রমেহ রোগ নামেও পরিচিত। এই রোগটি মূলত মূত্রনালী, যোনিপথ, জরায়ুর মুখ এবং পায়ুপথের শ্লেষ্মাঝিল্লিকে আক্রান্ত করে।
** পুরুষদের ক্ষেত্রে: প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া ও সুঁই ফোটার মতো ব্যথা হওয়া, লিঙ্গের মাথা দিয়ে ঘন হলদেটে বা সবুজ রঙের পুঁজ পড়া এবং অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া। **নারীদের ক্ষেত্রে: অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে সাধারণ লক্ষণ হিসেবে যোনিপথে অতিরিক্ত স্রাব বা পুঁজ নির্গত হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা এবং ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
হ্যাঁ, সঠিক সময়ে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে গণোরিয়া বা প্রমেহ রোগটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ এবং স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব। তবে এর জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই অবহেলা না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
মোট 10টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন