জলবসন্ত বা চিকেনপক্স একটি পরিচিত সংক্রামক ব্যাধি। এটি সাধারণত জ্বর এবং সারা শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোস্কার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যদিও এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর সেরে যায়, কিন্তু এই সময়ে প্রচণ্ড চুলকানি, শরীরে ব্যথা এবং অস্বস্তি রোগীকে বিপর্যস্ত করে তোলে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি এই রোগের কষ্ট দ্রুত লাঘব করতে এবং পরবর্তী জটিলতা রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
জলবসন্ত সাধারণত বায়ুর মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়ায়। ফুসকুড়িগুলো প্রথমে লালচে দাগ হিসেবে দেখা দেয় এবং পরে তরল পূর্ণ ফোস্কার রূপ নেয়।
প্রধান লক্ষণসমূহ:
হালকা থেকে তীব্র জ্বর এবং গায়ে ব্যথা।
পিঠ, বুক ও পেটে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া যা পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়িতে প্রচণ্ড চুলকানি এবং জ্বালা-পোড়া।
খাওয়ায় অরুচি এবং ক্লান্তি বোধ করা।
রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং গুটিগুলোর ধরণ দেখে নিচের ওষুধগুলো নির্বাচন করা হয়:
| ওষুধের নাম | ব্যবহারের ক্ষেত্র/লক্ষণ |
| Variolinum | জলবসন্তের প্রাথমিক অবস্থায় এবং প্রতিষেধক হিসেবে এটি চমৎকার কাজ করে। |
| Rhus Tox | যদি ফুসকুড়িতে প্রচণ্ড চুলকানি থাকে এবং রোগী অস্থির বোধ করে। বৃষ্টির দিনে বা ঠান্ডা লাগার ইতিহাস থাকলে এটি কার্যকরী। |
| Antimonium Tart | যখন ফুসকুড়িগুলো বড় হয় এবং শিশুর বুকে কফ জমার প্রবণতা থাকে। এটি গুটি শুকাতে সাহায্য করে। |
| Pulsatilla | যদি রোগীর মুখে স্বাদ না থাকে, তৃষ্ণা কম থাকে এবং সে খোলা বাতাস পছন্দ করে। |
| Apis Mellifica | ফুসকুড়িতে হুল ফোটানোর মতো ব্যথা এবং ফোলা ভাব থাকলে। |
শিশুর জল বসন্ত রোগ — ইহাতে বায়োকেমিক ফেরাম ফস ৬x, কেলি মিউর ৬x ও নেট্রাম মিউর ৬x প্রত্যেকটি হইতে ১টি মোট ৩টি বড়ি একত্রে দিনে ৩ বার সেবনে ভাল ফল পাওয়া যায়। গোটা বসিয়া গেলে কেলি সালফ ৬x, ২ বড়ি ৫ ঘন্টাত্তর অথবা রাসটক্স ৩০, দিনে ৩ বার । জল বসন্ত রোগে রাসটক্স এককভাবেও ব্যবহার করা যায় ।
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরাতে হবে। ২. গুটিগুলো নখ দিয়ে চুলকানো যাবে না, এতে স্থায়ী দাগ বা সংক্রমণ হতে পারে। ৩. প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল এবং তরল পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। ৪. নিম পাতা মিশ্রিত হালকা গরম জল দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা: জলবসন্তের গুটি শুকিয়ে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে, তা দূর করার জন্যও হোমিওপ্যাথিতে ভালো ওষুধ রয়েছে। রোগীর বর্তমান অবস্থা (জ্বর বা চুলকানির তীব্রতা) কেমন, তা জানালে সঠিক শক্তি ও মাত্রা বলা সম্ভব।
শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ১-২ দিন আগে থেকে শুরু করে গুটিগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এই রোগ ছড়াতে পারে। সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত এটি অত্যন্ত সংক্রামক থাকে।
হ্যাঁ, তবে হালকা গরম জল ব্যবহার করা ভালো। জলে নিম পাতা মিশিয়ে নিলে তা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং চুলকানি কমায়। শরীর মোছার সময় ঘষা না দিয়ে আলতো করে মুছে নিতে হবে।
যেহেতু এটি বায়ুবাহিত রোগ, তাই পরিবারের অন্যদের (বিশেষ করে যাদের আগে হয়নি বা টিকা দেওয়া নেই) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের আগেই প্রতিষেধক হিসেবে Variolinum বা Malandrinum সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
মোট 6টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন