শিশুর মুখের ঘা (Mouth Ulcers or Stomatitis) অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, যার ফলে শিশু খেতে চায় না এবং কান্নাকাটি করে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ।শিশুর মুখের ভেতরের নরম চামড়ায় লালচে বা সাদাটে ক্ষত হলে তাকে মুখের ঘা বলা হয়। এটি মূলত ভিটামিনের অভাব, পেট খারাপ বা মুখগহ্বরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হতে পারে।
শিশুর মুখের ঘা: হোমিওপ্যাথিক সমাধান
হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। সাধারণত নিচের ঔষধগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়:
Borax (বোরাক্স): শিশুর মুখের ভেতরটা যদি খুব গরম থাকে এবং সাদাটে দইয়ের মতো আস্তরণ পড়ে (Thrush), তবে এটি সবথেকে ভালো কাজ করে। শিশু স্তন্যপান করার সময় ব্যথায় মুখ সরিয়ে নেয়।
Merc Sol (মার্ক সল): যদি মুখ থেকে প্রচুর লালা পড়ে, মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয় এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে এই ঔষধটি দেওয়া হয়।
Nitric Acid (নাইট্রিক অ্যাসিড): ঘায়ের রঙ যদি কিছুটা হলদেটে হয় এবং শিশু তীব্র ব্যথায় ছটফট করে, তবে এটি কার্যকরী।
Antim Crud (অ্যান্টিম ক্রুড): যদি বাচ্চার জিহ্বায় সাদা মোটা আস্তরণ থাকে এবং বাচ্চা খুব খিটখিটে মেজাজের হয়।
ঔষধ সেবনের নিয়ম
সাধারণত 30 বা 200 শক্তি (Potency) ব্যবহার করা হয়।
এক ফোঁটা ঔষধ অল্প পানির সাথে মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খাওয়ানো যেতে পারে।
সতর্কতা: শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে ঔষধের মাত্রা ভিন্ন হয়, তাই অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশুর মুখে ঘা— ইহাতে বোরাক্স, মার্কসল ও সালফিউরিক এসিড ব্যবহার্য। মুখ থেকে খুব লালা পড়ে ও দুর্গন্ধ লক্ষণে মার্কসল 200 থেকে। মুখে ঘা-সহ শ্বাস-প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ লক্ষণে সালফিউরিক এসিড ৩০ থেকে ব্যবহার্য । শিশুর মুখে গ্যাংগ্রীণ জাতীয় ক্ষতে আর্সেনিক ২০০ থেকে ব্যবহার্য। সর্বাবস্থায় ক্যালেন্ডুলা Q দ্বারা কুলি করালে ভাল হয়।
পরিচ্ছন্নতা: ফিডার বা বাচ্চার খেলার খেলনা সবসময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।
মধু: ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঘায়ের স্থানে খাঁটি মধু লাগিয়ে দিলে আরাম পাওয়া যায়।
তরল খাবার: গরম বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন। ডাবের পানি বা ঠান্ডা তরল খাবার খাওয়ান।
মায়ের সতর্কতা: শিশু যদি বুকের দুধ খায়, তবে মাকে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে।
*** বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো শুধুমাত্র সাধারণ সচেতনতার জন্য। যেকোনো ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
প্রধানত ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অভাব, পেট পরিষ্কার না থাকা (কোষ্ঠকাঠিন্য), মুখগহ্বরের অপরিচ্ছন্নতা বা কোনো ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিশুর মুখে ঘা হতে পারে।
যখন শিশুর মুখের ভেতর সাদা দইয়ের মতো দাগ দেখা যায় এবং মুখ খুব গরম থাকে, তখন বোরাক্স দারুণ কাজ করে। বিশেষ করে শিশু যখন খেতে গেলে ব্যথায় কান্নাকাটি করে।
এই সময়ে শক্ত বা ঝাল খাবার একদম দেওয়া উচিত নয়। শিশুকে ঠান্ডা দুধ, ডাবের পানি, দই বা নরম খিচুড়ি দেওয়া যেতে পারে যা গিলতে কষ্ট হবে না।
মোট 7টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন