খোঁস পাঁচড়া ও চুলকানি
All ৫৩ ভিউ

খোঁস পাঁচড়া ও চুলকানি

রোগ সম্পর্কে

খোঁস-পাঁচড়া (Scabies) এবং সাধারণ চুলকানি (Itching) আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। খোঁস-পাঁচড়া মূলত এক ধরণের অতি ক্ষুদ্র জীবাণু বা মাইটের (Sarcoptes scabiei) সংক্রমণে হয়ে থাকে, যা ত্বকের নিচে গর্ত তৈরি করে ডিম পাড়ে। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, তাই পরিবারের একজনের হলে দ্রুত অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, এলার্জি, শুষ্ক ত্বক বা ঘামের কারণেও শরীরে তীব্র চুলকানি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে বিছানার গরমে চুলকানির তীব্রতা বেড়ে যাওয়া, ছোট ছোট ফুসকুড়ি হওয়া এবং চুলকানোর পর জ্বালাপোড়া বা রস বের হওয়া এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ। চর্মরোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।হোমিওপ্যাথি কেবল ত্বকের ওপরের লক্ষণের চিকিৎসা করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্ত পরিষ্কার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চর্মরোগকে মূল থেকে নির্মূল করে। কোনো ধরণের কড়া রাসায়নিক বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান প্রদান করে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

লক্ষণ অনুযায়ী প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

চুলকানির ধরণ এবং অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত কিছু কার্যকরী ঔষধ:

ঔষধের নাম ব্যবহারের লক্ষণ
Sulphur খোঁস-পাঁচড়া বা চুলকানির প্রধান ঔষধ। যদি চুলকানি রাতে বিছানার গরমে বাড়ে এবং চুলকানোর পর প্রচণ্ড জ্বালা করে।
Psorinum যদি প্রতি বছর শীতকালে চুলকানি ফিরে আসে, শরীর খুব নোংরা দেখায় এবং ফুসকুড়ি থেকে দুর্গন্ধযুক্ত রস বের হয়।
Graphites যদি কানের পেছনে, কনুইয়ে বা আঙুলের ফাঁকে আঠালো রসযুক্ত চুলকানি থাকে এবং ত্বক ফেটে যায়।
Mezereum মাথায় বা শরীরে যদি চুলকানি হয় এবং চুলকানোর পর মোটা চটা বা খুশকির মতো আবরণ পড়ে ও নিচে পুঁজ থাকে।
Arsenic Album যদি ত্বকে শুষ্ক চুলকানি থাকে, শরীর ফ্যাকাশে দেখায় এবং চুলকানির সাথে প্রচণ্ড জ্বালা ও অস্থিরতা থাকে।
Hepar Sulph যদি চুলকানিতে পুঁজ হওয়ার প্রবণতা থাকে এবং সামান্য ঠান্ডাতেই ব্যথা বা অস্বস্তি বেড়ে যায়।

১। ইহাতে প্রথমে সালফার ২০০১ মাত্রা দিয়া ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ইহাতে খোসগুলি কিছুটা বাড়বে, তখন সালফার ৬/৩০, প্রত্যেহ ১ বার সেবনে ২/৩ দিনে খোসগুলি শুকাইয়া যাইবে। ২। খোস পাঁচড়ায় অসহ্য চুলকানি, চুলকাইয়া রক্ত বাহির করিয়া ফেলে রাত্রে বৃদ্ধি ইত্যাদি লক্ষণে মেজেরিয়াম ৩, তিন ঘন্টাস্তর। ৩। চুলকানির প্রাবল্যে রোগী পাগলের মত হইবার উপক্রমে ফ্যাগোপাইরাম ৩০, তিন ঘন্টাস্ত ৱ। ৪ । অসহ্য চুলকানি কিন্তু কোন উদ্ভেদ নাই লক্ষণে ডলিকস ৩০ তিন ঘন্টাস্তর। ৫। পুঁজ পূর্ণ খোসে চুলকানি লক্ষণে মার্কসল ৩০, আট ঘন্টাস্ত র। ৬। অসহ্য চুলকানিতে সালফার ৩০ পানিতে দিয়ে ৩ ঘন্টান্তর সেবনে ভাল ফল পাওয়া যায় (ডাঃ লিলিয়েছাল)। ৭। খোস-পাঁচড়ার চুলকানিতে কোন ঔষধের কাজ না করিলে দুর্গন্ধ ও রোগীর শীতকাতরতা লক্ষণে সোরিণাম ২০০, ৫ দিন অন্তর ১ মাত্রা। ৮। গায়ের জামা কাপড় খুলিলেই চুলকানি বৃদ্ধি হইলে নেট্রাম সালফ ২০০, ৪ দিন অন্তর ১ বার অথবা রিউমেক্স ৩০ দিনে ৩ বার। ৯। জননেন্দ্রীয় অংশে অসহা চুলকানিতে রেডিয়াম ব্রোমেটাম ৩০, সপ্তাহে ১ মাত্রা। জননেন্দ্রিয় প্রদেশের যুদ্ধরি ও পূজ পূর্ণ চুলকানিযুক্ত উদ্ভেদে ক্রোটনটি ২০০, তিন দিন অন্তর ১ মাত্রা। দানাদার ও ফাটামুক্ত রক্তস্রাবী উদ্ভেদে পেট্রোলিয়াম ২০০, চার দিন অন্তর ১ মাত্রা। তথায় আগুনের মত জ্বালাযুক্ত উদ্ভেদে (চুলকানিসহ) রাসটক্স ২০০, দিনে ১ বার। তথায় শুকনা/রক্তস্রাবী, রাে ভয়ানক চুলকানিযুক্ত একজিমায় সার্সাপেরিলা ৩x দিনে ৩ বার। ১০। চুলকানির পর আক্রান্ত স্থানে ঝিন ঝিন করিলে সেলিনিয়াম ২০০, ৪ দিন অন্তর আর জ্বালা করিলে সালফার ৩০, ৪ ঘন্টাস্তর ৩/৪ ডোজ । ১১। সর্বাঙ্গে চুলকানি ও জ্বালা লক্ষণে রেডিয়াম ব্রোমাইড ৩০, ৫ ঘন্টান্তর, ২/৩ মাত্রা । ১২। হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে চুলকানি হইলে সিপিয়া, সেলিনিয়াম, সোরিনাম ২০০, তিন দিন অন্তর ১ মাত্রা। (যেকোন ১টি) ১৩। ভীষণ চুলকানি, আর্চড়াইলে চুলকানি স্থান পরিবর্তন করে লক্ষণে স্ট্যাফিসেগ্রিয়া বা মেজেরিয়াম ৩০, দিনে ১ বার। ১৪। হাতের তালুতে চুলকানি সেলিনিয়াম (ডাঃ কেন্ট) ৩০/২০০ 

প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সতর্কতা

  • পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদর প্রতিদিন গরম পানিতে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে।

  • সাবান পরিহার: চুলকানি অবস্থায় অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করে নিম পাতা ভেজানো পানি দিয়ে গোসল করা ভালো।

  • খাদ্যাভ্যাস: যাদের এলার্জি আছে তারা হাঁসের ডিম, চিংড়ি, ইলিশ মাছ বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলুন।

  • সতর্কতা: চুলকানির জায়গা নখ দিয়ে অতিরিক্ত চুলকাবেন না, এতে ইনফেকশন বা ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চর্মরোগ জটিল আকার ধারণ করলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

চুলকানি দূর করতে ঘরোয়াভাবে কী করা যেতে পারে?

চুলকানি কমাতে নিম পাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। নিম একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক। এছাড়া নারকেল তেলের সাথে কর্পূর মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। তবে স্থায়ী মুক্তির জন্য সঠিক ঔষধ সেবন জরুরি।

খোঁস-পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস কেন হয়?

খোঁস-পাঁচড়া মূলত 'সারকপটিস স্ক্যাবি' নামক এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র পরজীবী বা মাইটের কারণে হয়। এই জীবাণু ত্বকের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং সেখানে ডিম পাড়ে, যার ফলে ত্বকে তীব্র চুলকানি ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এটি সাধারণত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়।

চুলকানি কি ছোঁয়াচে? সব ধরণের চুলকানি কি একজনের থেকে অন্যজনে ছড়ায়?

সব চুলকানি ছোঁয়াচে নয়। তবে খোঁস-পাঁচড়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন (দাউদ) অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক, তোয়ালে বা বিছানা ব্যবহার করলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও দ্রুত এতে আক্রান্ত হতে পারেন। অন্যদিকে, এলার্জিজনিত চুলকানি ছোঁয়াচে নয়।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন