হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। এই নিবন্ধে আমরা হাম জ্বরের প্রধান লক্ষণ যেমন—শরীরে লালচে দানা, তীব্র জ্বর এবং কাশি নিয়ে আলোচনা করেছি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং টিকা গ্রহণের মাধ্যমে কীভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব
হামের ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়:
প্রাথমিক লক্ষণ: উচ্চ জ্বর, শুকনো কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।
কপলিক স্পট (Koplik spots): ফুসকুড়ি ওঠার ২-৩ দিন আগে মুখের ভেতরের গালে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দেয়।
ফুসকুড়ি (Rash): জ্বরের ৩-৫ দিন পর লালচে বা বাদামি রঙের দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এটি সাধারণত মুখ ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে উপসর্গ অনুযায়ী পরিচর্যা করলে দ্রুত সেরে ওঠা যায়:
বিশ্রাম ও তরল খাবার: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি বা ফলের রস খাওয়াতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার: রোগীকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। ভিটামিন এ (Vitamin A) সমৃদ্ধ খাবার যেমন—গাজর, শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়াতে হবে। অনেক সময় ডাক্তাররা হামের রোগীদের জন্য ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা চোখের জটিলতা ও জটিল সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুছিয়ে রাখা যেতে পারে।
বিচ্ছিন্নকরণ (Isolation): রোগ ছড়ানো রোধ করতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৫-৭ দিন অন্য সবার কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।
প্রথম থেকে বায়োকেমিক ফেরাম ফস ও কেলি-মিউর পর্যায়ক্রমে ব্যবহার্য (২ বড়ি) । নাক চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ হাঁচি থাকিলে নেট্রাম মিউর ৬x পূর্বের ঔষধের সাথে যোগ করবে। ২। গোটা বসে গেলে ফেরাম ফস ও কেলি সালফ ৬x ব্যবহার করবে । ৩। গোটা বের হতে দেরী হলে কেলি সালফ ৬x ব্যবহার করবে। ৪। পীড়া আরোগ্যান্ডে ক্যালকে ফস ১২x ব্যবহার করবে । *৫। হামের জ্বরে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মবিলিনাম ৩০, দিনে ২/৩ বার ব্যবহারে আর কোন ঔষধের দরকার হয় না। ৬। হাম ভালভাবে উঠিলে ব্রায়োনিয়া ৩০, দিনে ৩/৪ বার সেব্য, পরে রাসটক্স ৩০ ব্যবহার্য। ৭। হামের সাথে নিউমোনিয়া দেখা দিলে চেলিডোনিয়াম তিন ঘন্টাত্তর, ব্রঙ্কাইটিস হলে এন্টিমটার্ট ব্যবহার্য। ৮। হুপিং কাশির পর হাম হলে এবং তার পর নিউমোনিয়া বা ব্রডাইটিস হলে চেলিডোনিয়াম আরোগ্য করে। ৯। হাম সহ স্বরভঙ্গে স্পঞ্জিয়া ৩০। ১০। হামের পর স্বরভঙ্গ হলে ব্রায়ো, ড্রসেরা। কাশিতে ঠিকটা (শুকনা কাশি) পালস (তরল কাশি) টিউবার বভি। কান পাকা বা অন্য যে কোন কুফলে কার্বোভেজ। হামের সাথে কান ব্যথা বা উদরাময়ে পালস ৩০ চার ঘন্টান্তের ।
*ডাঃ ক্লার্ক হামে বেলেডোনা 30 ও মর্বিলিনাম 30 পর্যায়ক্রমে ব্যবহারে সুন্দর ফল লাভ হয় বলে উল্লেখ করেছেন। হাম আরোগ্য হবার সময় গায়ে চুলকানি দেখা দিলে এক মাত্রা সালফার।
সাধারণত একবার হাম হলে শরীরে এর বিরুদ্ধে স্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তাই জীবনে দ্বিতীয়বার হাম হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
হামের ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে শুরু করে র্যাশ ওঠার ৪ দিন পর পর্যন্ত একজন রোগী অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। এটি বাতাসের মাধ্যমে বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়।
হ্যাঁ, কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা বা শরীর মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এটি রোগীর শরীরের তাপমাত্রা কমাতে এবং চুলকানি বা অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন রোগীর ঠান্ডা লেগে না যায়।
মোট 1টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন