হাঁচি
All ৩০ ভিউ

হাঁচি

রোগ সম্পর্কে

"হাঁচি আমাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা নাক থেকে ধূলিকণা বা ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এই হাঁচি অনবরত হতে থাকে এবং প্রাত্যহিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তখন একে আর সাধারণ বলা যায় না। বিশেষ করে অ্যালার্জি বা ধুলোবালির কারণে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি পদ্ধতিতে হাঁচির স্থায়ী এবং কার্যকরী চিকিৎসা সম্ভব।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

হাঁচি-১। একবার হাঁচি আরম্ভ করিলে ক্রমান্নয়ে কিছুক্ষণ হাঁচি হইতে থাকে লক্ষণে এগারিকাস মাস্কেরিয়াস ২০০, দিনে ২ বার। ২। সকালে বিছানা হইতে উঠিবার পরই অত্যন্ত হাঁচি হইতে থাকে (সেই সাথে কাশি ও নাকে তরল সর্দি থাকিতে পারে) লক্ষণে আর্সেনিক আইওড ২০০ হইতে উচ্চতর শক্তি। ৩। অতিরিক্ত হাঁচি হওয়া লক্ষণে টিউবার বভিনাম হাজার হইতে উচ্চশক্তি মন্ত্রের মত কাজ করে।

ইহা ছাড়া ইন্ডিয়ম ৩০, দিনে ৩ বার আশাতীত ফল দেয়। ৪। সকালে খুব হাঁচি হইতে থাকে, সেই সাথে নাক ও চোখ দিয়া জল পড়ে এমোনিয়াম ফসফোরিকাম ৩০, দিনে ৩/৪ বার ব্যবহার্য । ৫। হাঁচির প্রবণতায় সেবাডিলা ২০০, দিনে ১ বার সুন্দর কাজ করে । ৬। সকালে শয্যা ত্যাগে বৃদ্ধি হলে এলিয়াম সেপা ৩০।

ঠান্ডায় ও ধূলাবালিতে বৃদ্ধি নেট্রাম আর্স ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি । ঘর ও বিছানা ঝাড় দিতে হাঁচি হলে নেট্রাম আর্স। ৮। গরমে বৃদ্ধি হলে নাক্স । ৯। সকালে ৯/১০টা পর্যন্ত বাড়লে নাক্স, কষ্টি, সাইলি, নেট্রাম আর্স।

১০। বিকালে ৰাড়ে-অরাম ট্রিফাই, মার্কসল, সিফিলিনাম । ১৩। ঘরের মধ্যে বাড়ে (খোলা বাতাসে কমে) এলিয়াম সিপা, পালস, আর্স, নাক্স। ১৪। খোলা বাতাসে বাড়ে-সেবাডিলা। ঘরে কমে সেবাডিলা।

১৫। জলের মত প্রবহমান সর্দি সহ হাঁচি-নেট্রাম আর্স, আর্স আয়োড, অরাম ট্রি. সেবাডিলা, এলি সিপা। ১৬। ঠান্ডায় কমে- আয়োডিন, পালস । ১৭ নাক বন্ধসহ-নাক্স লাইকো, এমন কার্ব, অরাম ট্রি, স্যাম্বুকাস। ১৮ অবিরত হাঁচি-সেবাডিলা, আর্স আয়োড (নাকে সুড়সুড়ি থাকে)সকালে সর্দিসহ হাঁচি-ক্যাল্কে-আর্স, নেট্রাম-মিউর

(দুপুরে বেশী বেড়ে যায়)। পালসেটিলা (বিকালে বৃদ্ধি), এলিয়াম সিপী (গরম ঘরে বৃদ্ধি), আয়োডিয়াম (গরম ঘরে বৃদ্ধি), কেলি আয়োড (খোলা বাতাসে আরাম), আর্সেনিক (গরমে আরাম), আর্স- আয়োড (গরম ঘরে বৃদ্ধি), সাইলিসিয়া।

প্রধান ঔষধ ও বর্ণনা (Description/Remedies)

হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণের ভিন্নতা অনুযায়ী ঔষধ আলাদা হয়:

  • অ্যালিয়াম সেপা (Allium Cepa): যদি হাঁচির সাথে নাক দিয়ে প্রচুর জল পড়ে এবং নাক-চোখ জ্বালাপোড়া করে (পেঁয়াজ কাটলে যেমন হয়)।

  • সাবাডিলা (Sabadilla): বারবার হাঁচি এবং নাকের ভেতরে ভীষণ চুলকানি থাকলে। বিশেষ করে ফুলের গন্ধ বা সুগন্ধিতে হাঁচি বাড়লে এটি চমৎকার কাজ করে।

  • আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenic Album): যদি ঠান্ডা বাতাস বা ধুলোবালিতে হাঁচি বাড়ে এবং হাঁচির সাথে অস্থিরতা অনুভব হয়।

  • ডালকামারা (Dulcamara): বর্ষাকালে বা হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা লেগে হাঁচি শুরু হলে এটি বেশ কার্যকর।

  • অ্যারাম ট্রাইফিলাম (Arum Triphyllum): হাঁচির সাথে যদি নাকের চামড়া উঠে যায় বা নাক ভীষণ হাজা (Sore) হয়ে যায়। 

  • সাবধানতা

  • ধুলোবালি থেকে দূরে থাকা: বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।

  • পরিচ্ছন্নতা: বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

  • ডাক্তারের পরামর্শ: সঠিক মাত্রা বা পোটেন্সি নির্বাচনের জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

অনবরত হাঁচি হওয়ার প্রধান কারণ কী?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনবরত হাঁচির প্রধান কারণ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Allergic Rhinitis)। ধুলোবালি, ফুলের পরাগ রেণু, পোষা প্রাণীর লোম কিংবা তীব্র সুগন্ধির সংস্পর্শে এলে শরীরে ইমিউন সিস্টেম প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে ঘনঘন হাঁচি হয়।

হাঁচি ও সর্দি কি শুধু হোমিওপ্যাথি ঔষধেই ভালো হয়?

হোমিওপ্যাথি ঔষধ অ্যালার্জির মূল কারণ বা সংবেদনশীলতা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। সঠিক ঔষধ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অ্যালার্জির সমস্যা এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় হওয়া হাঁচি থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ঘরোয়াভাবে হাঁচি কমানোর উপায় কী?

হাঁচি শুরু হলে হালকা কুসুম গরম জল পান করা যেতে পারে। এছাড়া আদা চা বা কালোজিরার ঘ্রাণ নিলেও সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। তবে ধুলোবালি ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিকার।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন