শিশুদের গলার দুপাশে থাকা গ্রন্থি বা টনসিল যখন ভাইরাাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়, তখন একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'টনসিলাইটিস' বলা হয়। অনেক শিশু সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই বা একটু ঠান্ডা লাগলেই এই সমস্যায় ভোগে। এর ফলে শিশুর জ্বর আসা, কান ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া এবং এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই টনসিল বাড়লে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি এই ক্ষেত্রে একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে। এটি কেবল সাময়িকভাবে ব্যথা কমায় না, বরং শিশুর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিশুকে চিরস্থায়ীভাবে টনসিল থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
টনসিলের বিভিন্ন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের ঔষধগুলো ব্যবহার করেন:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Belladonna | হঠাত করে টনসিল ফুলে লাল হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড গলা ব্যথা এবং সেই সাথে উচ্চ জ্বর থাকলে। |
| Baryta Carb | যেসব শিশু বারবার টনসিল সমস্যায় ভোগে এবং যাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি কিছুটা ধীর। |
| Hepar Sulph | যদি টনসিলে পুঁজের মতো অবস্থা হয় এবং গলায় মাছের কাঁটা বিঁধে থাকার মতো অনুভূতি হয়। |
| Phytolacca | টনসিল কালচে লাল বর্ণ ধারণ করলে এবং ব্যথা কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে। |
| Mercurius Sol | রাতে মুখ দিয়ে লালা পড়া, গলায় দুর্গন্ধ এবং টনসিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর হলে। |
শিশুর টনসিল — (১) ইহাতে প্রথম প্রাদাহিক অবস্থায় বেলেডোনা ৩০, দু-ঘন্টাত্তর ব্যবহার্য। (২) জ্বর থেমে গেলে ব্যারাইটা কার্ব ৩০, দিনে ২/৩ বার ব্যবহার্য। সপ্তাহ পরে অন্যান্য শক্তি সেবা পেকে গেলে হিপার সালফ ২০০ থেকে ব্যবহার্য (৪) ক্রণিক অবস্থায় টনসিল বড় ও শক্ত হয়ে থাকলে (ঠান্ডায় বাড়ে লক্ষণে)
শিশুকে হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করার অভ্যাস করান (যদি শিশু করতে পারে)।
অত্যধিক ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম পরিহার করুন।
সতর্কতা: শিশুর গলার ভেতরের অবস্থা এবং সঠিক লক্ষণ বুঝে ঔষধের মাত্রা ও শক্তি নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই যেকোনো ঔষধ দেওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
না, সব ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। যদি টনসিল ইনফেকশন ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী না হয়, তবে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। হোমিওপ্যাথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে টনসিল গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনে।
প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া, গলার দুপাশে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, জ্বর, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়া এবং অনেক সময় কানে ব্যথা হওয়া।
টনসিল ফুলে থাকলে শক্ত খাবার এড়িয়ে নরম ও তরল খাবার দেওয়া ভালো। হালকা কুসুম গরম সুপ, আদা চা বা মধু মিশ্রিত পানি গলার আরামদায়ক অনুভূতির জন্য বেশ কার্যকর। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা ফ্রিজের খাবার পুরোপুরি বর্জন করা উচিত।
মোট 7টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন