হুপিং কাশি বা 'পার্টুসিস' (Pertussis) হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এই কাশির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটানা কাশির দমক, যার শেষে রোগী যখন জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন একটি অদ্ভুত 'হুপ' (Whoop) শব্দ শোনা যায়। এই কাশি এতোটাই তীব্র হতে পারে যে রোগীর দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় এবং অনেক সময় কাশির চোটে বমি হয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হুপিং কাশির জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত পথ। যেখানে সাধারণ কাশির ঔষধ অনেক সময় এই তীব্র আক্ষেপিক কাশি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, সেখানে হোমিওপ্যাথি ঔষধগুলো ফুসফুসের বায়ুনালীর সংকোচন কমিয়ে দ্রুত আরাম দেয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণের মূল উৎস নির্মূল করে এবং কোনো প্রকার তন্দ্রাচ্ছন্নভাব বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিশুকে সুস্থ করে তোলে।
হুপিং কাশির বিভিন্ন পর্যায় ও লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো ব্যবহৃত হয়:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Drosera | এটি হুপিং কাশির প্রধান ঔষধ। যদি রাতে শুলেই কাশি বাড়ে এবং কাশির দমকে রোগী নীল হয়ে যায়। |
| Ipecacuanha | যদি কাশির সাথে প্রচণ্ড বমি ভাব থাকে এবং কাশির দমকে শরীর শক্ত হয়ে যায়। |
| Antim Tart | যদি বুকে প্রচুর কফ জমে থাকার শব্দ হয় কিন্তু কাশির সময় কফ বের হতে চায় না। |
| Cuprum Met | যদি কাশির দমক এতো তীব্র হয় যে রোগীর হাত-পা খিঁচিয়ে আসে এবং ঠাণ্ডা পানি খেলে কাশি একটু কমে। |
| Coralium Rub | যদি কাশির দমকগুলো খুব ঘনঘন আসে (একটির পর একটি) এবং মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়। |
১। ইহার সুন্দর ঔষধ হইল ড্রসেরা ২x (ঠাণ্ডা জল পানে কাশি বৃদ্ধি) দিনে ২ বার । ২ । ইহার আরেকটি মহৌষধ হইতেছে পাটুসিন ৩. দিনে তিন বার (পাটুসিন দেওয়ার আগের দিন রাত্রে ১ মাত্রা সালফার ৩০, প্রয়োগ করা ভাগ-(ডাঃ এলেন)। পাটুসিন 200, ১ মাত্রা হুপিং কাশির প্রতিষেধক। ডাঃ এডমন্ড বলেন তিনি বেলাডোনা এর ড্রসেরা ৩ং পর্যায়ক্রমে ৩ ঘন্টাত্তর প্রয়োগ করিয়া অনেক রোগী আরোগ্য করিয়াছেন।*৪। হুপিং কাশিতে আক্ষেপ দেখা দিলে প্যাসিফ্লোরা ইনকারনেটা (Q) পাঁচ ফোঁটা মাত্রায় আধ ঘন্টাস্তর সেবা । অথবা কুগ্রাম বা বেলাডোনা কিংবা গ্রাম বা ড্রসেরা ৩০ তিন ঘন্টাস্তর সেবা । ঠিকটা ৬x হুপিং কাশির সুন্দর ঔষধ (ডাঃ কার্ড) । ৫. আক্ষেপিক ও হুপিং কাশি দম বন্ধ হওয়ার মত কাশি, দিনে কম থাকে, রাত্রে কিছুক্ষণ পর পরই কাশি, ভীষণ আক্ষেপিক কাশি, রাজো বৃদ্ধি,শিশুকে উঠাইয়া ধরিতে হয়, মুখমণ্ডল নীলাভ হইয়া যায়, শ্বাস ত্যাগ করিতে পারে না, বুকে শ্লেষ্মার ঘড় ঘড়ি শুনা যায় লক্ষণে মেফাইটিস ৬. পানিতে দিয়ে দিনে ৩ ঘন্টাত্তর সেব্য । ইহাতে কাশির মধ্যে হুপ শব্দ থাকে। ৬। রাত্রি ৩ টার সময় কাশির বৃদ্ধি, ঠান্ডা জল পানে উপশম, আক্ষেপ থাকে, মুখমণ্ডল নীল/লাল বর্ণ, বমি ও বমনভাব থাকে লক্ষণে কুপ্রামমেট ৩০ শক্তি দিনে ২ বার। ৭। হুপিং কাশির প্রথমেই কার্বোভেজ ৩০ ব্যবহারে রোগারোগ্য হয় ।হুপিং কাশি (Whooping Cough) বিশেষ করে শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং যন্ত্রণাদায়ক শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।
বিশ্রাম ও শুশ্রুষা: রোগীকে শান্ত ও ধুলোবালি মুক্ত ঘরে রাখুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ফুসফুসের ওপর চাপ কমায়।
তরল খাবার: বারবার কাশি এবং বমির ফলে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে, তাই প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা পাতলা পুষ্টিকর খাবার দিন।
আর্দ্রতা বজায় রাখা: ঘরের বাতাস খুব বেশি শুষ্ক হতে দেবেন না; প্রয়োজনে হালকা গরম পানির ভাপ (Steam) নেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা: যদি শিশুর শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, ঠোঁট বা নখ নীল হয়ে যায়, তবে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
হ্যাঁ, হুপিং কাশি বা পার্টুসিস একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি Bordetella pertussis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে এই জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যদের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়।
হুপিং কাশির ক্ষেত্রে কাশির চোটে বমি হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বমির কারণে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়। যদি শিশু বারবার বমি করে এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তীব্র কাশির দমকের পর যখন ফুসফুস থেকে সব বাতাস বেরিয়ে যায়, তখন রোগী বাঁচার তাগিদে খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে। এই দ্রুত বাতাস নেওয়ার সময় শ্বাসনালীর সরু পথ দিয়ে বাতাস যাওয়ার সময় একটি তীক্ষ্ণ 'হুপ' শব্দ তৈরি হয়।
মোট 6টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন