সরলান্ত্র বাহির হওয়া বা মলদ্বার বের হয়ে আসা একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে মলাশয়ের একটি অংশ মলদ্বার দিয়ে নিচে ঝুলে পড়ে। এটি সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে হয়ে থাকে। অ্যালোপ্যাথিতে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও, হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে মলদ্বারের পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।
হোমিওপ্যাথিতে রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বিচার করে ঔষধ দেওয়া হয়। সাধারণত এই সমস্যায় নিচের ঔষধগুলো জনপ্রিয়:
PodoPhyllum (পডোফাইলাম): বিশেষ করে শিশুদের মলদ্বার বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
Ruta G. (রুটা): ভারি বস্তু তোলা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের চাপে মলদ্বার বের হয়ে আসলে এটি ব্যবহৃত হয়।
Ignatia (ইগ্নেশিয়া): মলত্যাগের সময় ব্যথাহীনভাবে সরলান্ত্র বের হলে এটি নির্দেশিত।
Sepia (সিপিয়া): দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দুর্বলতার কারণে এই সমস্যা হলে এটি কার্যকরী।
প্রতিরোধে করণীয় (Prevention Tips)
আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফলমূল) বেশি করে খাওয়া।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বন্ধ করা।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা।
সরলাস্ত্র নির্গমন (হারিশ বাহির হওয়া)-উদরাময়ের সহিত সরলাস্ত্র বাহির হইলে পডোফাইলাম বা এলোজ ২০০, দিনে ১ বার । শিশু ও বালকদিগের সরলাস্ত্র নির্গমনে প্রথমে ইগনেশিয়া ৩০, দিনে ৩ বার (পরে উচ্চশক্তি ব্যবহার্য)। বাহ্যে বসিয়া সামান্য মাত্র বেগ দিলেই সরলাস্ত্র থেকে রসপড়া-এনাকার্ডি, এন্টমক্রুড, সিপিয়া ২০০ থেকে ব্যবহার্য ।
সতর্কতা: হোমিওপ্যাথি ঔষধ সবসময় একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিত।
হ্যাঁ, প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
প্রধানত দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গোলযোগ, বা মলদ্বারের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে এটি হতে পারে।
সঠিক মাত্রায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করলে হোমিওপ্যাথি ঔষধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।
মোট 5টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন