শিশুর দাঁত উঠা
Child ৫৫ ভিউ

শিশুর দাঁত উঠা

রোগ সম্পর্কে

সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সের মধ্যে শিশুদের দুধদাঁত ওঠা শুরু হয়। এই সময়টি শিশুর শারীরিক পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও মাড়িতে অস্বস্তি, অতিরিক্ত লালা পড়া এবং কান্নাকাটির কারণে শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর হজমে গোলমাল বা হালকা জ্বরও দেখা দেয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং মৃদু হওয়ার কারণে শিশুর এই কষ্টের দিনগুলোতে হোমিওপ্যাথি হতে পারে সবথেকে নিরাপদ সমাধান।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

দাঁত ওঠার সময় শিশুদের মাড়ি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। এই সময়ে সঠিক যত্ন এবং চিকিৎসা শিশুর অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

১. দাঁত ওঠার সাধারণ লক্ষণসমূহ:

  • মাড়ি ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া।

  • অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ (Drooling)।

  • সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা।

  • খিটখিটে মেজাজ এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত।

  • হালকা জ্বর বা পাতলা পায়খানা।

২. কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক ওষুধ (লক্ষণ অনুযায়ী):

  • Chamomilla: এটি দাঁত ওঠার সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওষুধ। শিশু যদি প্রচণ্ড খিটখিটে হয়, সারাক্ষণ কোলে থাকতে চায় এবং যন্ত্রণায় কান্না করে, তবে এটি চমৎকার কাজ করে।

  • Calcarea Phosphorica: যে সব শিশুর দাঁত উঠতে দেরি হয় বা যারা শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল, তাদের দাঁত মজবুত করতে এবং দ্রুত ওঠাতে এটি ব্যবহৃত হয়।

  • Magnesia Carb: দাঁত ওঠার সময় যদি শিশুর সবুজ রঙের পাতলা পায়খানা হয়, তবে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

  • Belladonna: যদি মাড়ি খুব বেশি লাল হয়ে ফুলে যায় এবং সাথে শিশুর শরীর গরম বা জ্বর থাকে।

 

শিশুর দাঁত উঠার সময়ে ক্যাঙ্কে ফস ৬x, ২ বড়ি দিনে ২/৩ বার খাওয়ালে কোন রকম সমস্যা ছাড়াই দাঁত উঠবে । মোটা-সোটা ও অলস স্বভাবী শিশুদের জন্য ক্যাল্কে কার্ব ২০০ থেকে । খুব যন্ত্রনাদায়ক দাঁত উঠায় ক্যামো বা ক্রিয়োজোট ৩০, দিনে ২/১ বার। এ সময় শিশু মাড়ীতে কামড়ায় বা যা পায় তাই কামড়াতে চাইলে ফাইটো ৩০, তিন ঘন্টাস্তর। উদরাময় দেখা দিলে এবং শিশু দাঁতের মারী চেপে ধরলে পডোফাইলাম হাজার ২/১ মাত্রা। দাঁত উঠতে দেরী হলে ক্যাল্কে কার্ব, সাইলি, ক্যাল্কে ফস, টিউবার যে কোন একটি লক্ষণানুসারে ব্যবহার করবে। শিশু ক্রমাগত দাঁত চাপিতে থাকে— Lyco, Podo, Phyto.

মা-বাবার জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:

  • পরিচ্ছন্নতা: শিশু এই সময় হাতে যা পায় তাই মুখে দেয়, তাই তার খেলনা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।

  • মাড়ি মালিশ: পরিষ্কার আঙুল দিয়ে শিশুর মাড়িতে আলতো করে মালিশ করে দিলে তারা আরাম পায়।

  • টিথার (Teether): ভালো মানের সিলিকন টিথার বা পরিষ্কার ঠান্ডা সুতির কাপড় চিবোতে দিলে মাড়ির চুলকানি ও অস্বস্তি কমে।

উপসংহার

দাঁত ওঠা কোনো রোগ নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে এই সময়ে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায় বলে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। সঠিক হোমিওপ্যাথিক নির্বাচন শিশুর এই যন্ত্রণাদায়ক সময়টিকে সহজ করে তুলতে পারে।

***বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিশুর বয়স ও সঠিক লক্ষণ বিচার করে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণের জন্য একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

সাধারণত কত বছর বয়সে শিশুর দাঁত ওঠা শুরু হয়?

অধিকাংশ শিশুর ৬ থেকে ১০ মাস বয়সের মধ্যে প্রথম দাঁত ওঠে। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এটি ৪ মাসেই শুরু হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এটি সম্পূর্ণভাবে শিশুর শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে।

দাঁত ওঠার সময় কি পাতলা পায়খানা হওয়া স্বাভাবিক?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, দাঁত ওঠার সাথে পায়খানার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে এই সময়ে মাড়িতে চুলকানির কারণে শিশুরা হাতের কাছে থাকা নোংরা জিনিস মুখে দেয়, যার ফলে পেটে সংক্রমণ হয়ে পাতলা পায়খানা হতে পারে। হোমিওপ্যাথিতে Magnesia Carb বা Chamomile এই সমস্যা সমাধানে বেশ জনপ্রিয়।

দাঁত উঠতে দেরি হলে কি কোনো ভয়ের কারণ আছে?

যদি শিশুর বয়স ১৩ মাস পার হওয়ার পরেও দাঁত না ওঠে, তবে তাকে 'Delayed Teething' বলা হয়। এটি সাধারণত ক্যালসিয়ামের অভাব বা বংশগত কারণে হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে Calcarea Phos এর মতো ওষুধগুলো বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন