বারবার গলা খাঁকারি দেওয়া (Frequent Throat Clearing) কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং এটি শরীরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার একটি অন্যতম লক্ষণ। অনেকেরই দেখা যায় গলার ভেতর সবসময় কিছু একটা আটকে আছে—এমন অনুভূতি (Globus Sensation) হয় এবং তা পরিষ্কার করার জন্য তারা অনবরত "খঁক খঁক" শব্দ করে গলা খাঁকারি দিয়ে থাকেন। এই সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পোস্ট-নাজাল ড্রিপ (Post-Nasal Drop), যেখানে নাক বা সাইনাসের অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বা কফ গলার পেছন দিক দিয়ে নিচে নেমে আসে। এছাড়া ক্রনিক সাইনুসাইটিস, অ্যালার্জি, গ্যাস্ট্রিকের অম্লতা বা এসিড রিফ্লাক্স (GERD/LPR) এবং থ্রোট ইনফেকশনের কারণেও গলার ভেতরের সংবেদনশীল মিউকাস মেমব্রেন উত্তেজিত হয়ে এই অভ্যাসের সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে অনবরত গলা খাঁকারি দিলে ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রীতে বারবার ঘর্ষণ লাগে, যা গলার স্বর ভেঙে যাওয়া বা কণ্ঠনালীর স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।হোমিওপ্যাথিক ঔষধ গলার ভেতরের আঠালো শ্লেষ্মা প্রাকৃতিকভাবে তরল করে বের করে দেয় এবং গলার স্পর্শকাতরতা কমিয়ে অনবরত খাঁকারি দেওয়ার প্রবণতা স্থায়ীভাবে দূর করে।
রোগীর ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ ও কফের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত প্রধান কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Argentum Nitricum | গলার ভেতর সবসময় একটা খসখসে ভাব বা কাঠি ফুটে থাকার মতো অনুভূতি হয়, যার কারণে রোগী অনবরত গলা খাঁকারি দিতে বাধ্য হন এবং গলা দিয়ে ঘন শ্লেষ্মা বের হয়। |
| Hydrastis Canadensis | পোস্ট-নাজাল ড্রিপের জন্য এটি একটি সেরা ঔষধ। নাকের পেছনের অংশ থেকে ঘন, আঠালো এবং হলদেটে কফ অনবরত গলার ভেতরে ঝরতে থাকে এবং গলা খাঁকারি দিলেও সহজে পরিষ্কার হতে চায় না। |
| Wyethia Helenioides | গলার পেছনের অংশে প্রচণ্ড চুলকানি, শুষ্কতা এবং অস্বস্তি থাকে, যার কারণে রোগী বারবার গলা খাঁকারি দেন এবং তালু দিয়ে এক ধরণের শব্দ করার চেষ্টা করেন। |
| Causticum | গলার ভেতর আঠালো কফ জমে থাকে যা কাশির মাধ্যমে বা খাঁকারি দিয়েও সহজে উপরে ওঠে না, রোগীকে অনেক সময় তা গিলে ফেলতে হয়। সকালে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। |
| Nux Vomica | যদি অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের এসিড গলার দিকে উঠে আসার কারণে (LPR) গলায় অনবরত অস্বস্তি ও খাঁকারি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। |
ইহাতে আর্জ নাইট ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি ব্যবহার্য। পরে দরকার হলে টিউবারকুলিনাম বডি ব্যবহারে রোগারোগ্য হয়। *ক্যালকে ফস ৬x থেকে ব্যবহারে রোগারোগ্য হয়। কষ্টিকাম (ডাঃ কেন্ট) ভাল কাজ করে, ২০০ থেকে ব্যবহার্য। রোগী বার বার গলা খাখারি দিয়ে ল্যারিংস পরিষ্কারের চেষ্টা করে লক্ষণে সেলিনিয়াম ২০০ থেকে ।
জোর করে খাঁকারি বন্ধ করুন: যখনই গলা খাঁকারি দিতে ইচ্ছে করবে, তখন জোর করে শব্দ না করে এক ঢোক সাধারণ বা হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। এটি গলার ভেতরের আঠালো ভাব দূর করতে সাহায্য করবে।
হাইড্রেটেড থাকুন: সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। পানি গলার মিউকাস বা শ্লেষ্মাকে পাতলা রাখে, ফলে তা সহজে গলার দেওয়ালে আটকে থাকে না।
অ্যালার্জি ও ধুলোবালি থেকে দূরে থাকুন: ধোঁয়া, ধুলোবালি বা ঠাণ্ডা বাতাস এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।
অনবরত গলা খাঁকারি দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পোস্ট-নাজাল ড্রিপ (Post-Nasal Drop), যেখানে সাইনাস বা নাকের অতিরিক্ত কফ গলার পেছনের অংশ দিয়ে নিচে নামতে থাকে। এছাড়া ক্রনিক অ্যালার্জি, সাইনুসাইটিস, গ্যাস্ট্রিকের এসিড গলায় উঠে আসা (LPR) এবং গলার অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণেও এই সমস্যা হয়।
এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি লক্ষণ। গলার ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন বা ঝিল্লি যখন কোনো ইনফেকশন, অ্যালার্জি বা এসিড রিফ্লাক্সের কারণে ফুলে যায় বা উত্তেজিত থাকে, তখন কোনো কফ না থাকলেও মনে হয় গলার ভেতর কিছু একটা আটকে আছে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'গ্লোবাস সেনসেশন' বলা হয়।
হোমিয়োপ্যাথিতে সাময়িকভাবে কফ শুকানোর ঔষধ না দিয়ে, সমস্যাটির মূল উৎস খোঁজা হয়। যদি এটি অ্যালার্জি বা সাইনাসের কারণে হয়, তবে Hydrastis বা Wyethia-র মতো ঔষধ ক্ষরণের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। আর যদি এটি গ্যাস্ট্রিকের কারণে হয়, তবে পরিপাকতন্ত্র ঠিক করার মাধ্যমে গলার অস্বস্তি ও খাঁকারি দেওয়ার অভ্যাস স্থায়ীভাবে দূর করা হয়।
মোট 8টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন