সন্তান প্রসবের পর সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা জরায়ু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটি বের না হয়, তবে তাকে 'গর্ভফুল আটকে যাওয়া' বা রিটেইনড প্লাসেন্টা বলা হয়। এটি প্রসব পরবর্তী একটি জটিল অবস্থা, যা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। জরায়ুর সংকোচন ক্ষমতা কমে যাওয়া বা জরায়ুর মুখ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। সঠিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ জরায়ুর স্বাভাবিক সংকোচন (Contraction) বাড়িয়ে কোনো রকম শারীরিক আঘাত ছাড়াই গর্ভফুল বের করে আনতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যেখানে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি থাকে, সেখানে হোমিওপ্যাথি একটি নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
গর্ভফুল আটকে যাওয়ার ধরুন ও রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত হয়:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Cantharis | গর্ভফুল আটকে যাওয়ার জন্য এটি অন্যতম প্রধান ঔষধ। জরায়ুর সংকোচন বাড়িয়ে এটি গর্ভফুল বের করতে অত্যন্ত কার্যকর। |
| Pulsatilla | যদি প্রসব বেদনা খুব দুর্বল হয় এবং গর্ভফুল দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। রোগী খোলা বাতাস পছন্দ করলে এটি ভালো কাজ করে। |
| Sabina | গর্ভফুল আটকে থাকার সাথে যদি উজ্জ্বল লাল রঙের প্রচুর রক্তক্ষরণ এবং কোমরে ব্যথা থাকে। |
| Secale Cornutum | জরায়ুর পেশি শিথিল হয়ে পড়লে এবং গর্ভফুল বের করার মতো শক্তি জরায়ুর না থাকলে এটি ব্যবহৃত হয়। |
| Sepia | যদি রোগী অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ করেন এবং জরায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন। |
ইহাতে ক্যান্থারিস ৩০, গসিপিয়াম Q. পালস ৩০/২০০, সেবাইনা ৩০. সিকেলি ৩x, ৩০/২০০, সিপিয়া ৩০ যে কোন একটি ১৫/২০ মিঃ থেকে ৩/৪ ঘন্টাস্তর ব্যবহার্য । **প্রসবের এক/দেড় ঘন্টার মধ্যে ফুল না পড়লে ঔষধ ব্যবহার করবেন।
সুতিকা জ্বর (Puerperal Fever)- কষ্টসহ বিলম্বে প্রসবের ফলে পেরিটোনিয়ামে চাপ লাগার দরুন অথবা ঠিক সময়ে ফুল না পড়ে পচন আরম্ভ হলে প্রসূতির রক্ত বিষাক্ত হয়ে সুতিকা জ্বর দেখা দেয়। সন্তান জন্মানোর ৩ দিন পর ইহা দেখা দিয়া থাকে । প্ৰসৰান্তে রক্তের বিকৃত অবস্থা আঁচ করতে পারলেই ইচিনেসিয়া Q ৪/৫ ফোঁটা মাত্রায় দিনে ৪ বার ব্যবহার এই রোগ ভাল হয়ে যায়, স্রাবে দুর্গন্ধ থাকলে পাইরোজেন ব্যবহার্য।
ডাঃ বোরিক বলেছেন প্রসবাস্তে পাইরোজেন হোমিওপ্যাথিক মতে শক্তিব্যঞ্জক পচন নিবারক একটি মহামূল্যবান ঔষধ বলে প্রতিষ্ঠা করেছে। মোট কথা, প্রসবের পর ঠিক সময় মত পাইরোজেন অথবা ইচিনেসিয়া প্রয়োগ করতে পারলে সূতিকা জ্বর প্রতিরোধ করা যায় ।
**প্রসবের পর দুর্বলতা রোধ করে প্রসুতির স্বাস্থ্য ঠিক করতে এভেনা স্যাটাইভা Q. ১০ ফোঁটা দিনে ২ বার, সাথে কেলিফস ৬x চার বড়ি সকাল সন্ধ্যায় সেবনীয় ।
গর্ভফুল না পড়া একটি গুরুতর জরুরি অবস্থা (Medical Emergency)। যদি প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় বা রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তবে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
জোর করে নাড়ি (Umbilical Cord) ধরে টান দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক
পরামর্শ: এই অবস্থায় অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ঔষধ সেবন করা উচিত।
সাধারণত সন্তান প্রসবের ৩০ মিনিটের মধ্যে গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে আসে। যদি এক ঘণ্টার মধ্যেও এটি বের না হয়, তবে একে 'রিটেইনড প্লাসেন্টা' বা গর্ভফুল আটকে যাওয়া বলা হয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।
হ্যাঁ, হোমিওপ্যাথি জরায়ুর পেশির সংকোচন ক্ষমতা (Contraction) বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে গর্ভফুল বের করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে জরায়ুর মুখ সরু হয়ে যাওয়া বা মাংসপেশির জড়তা কাটাতে নির্দিষ্ট কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ অত্যন্ত কার্যকর।
গর্ভফুল আটকে থাকলে জরায়ুর মুখ পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে না, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (PPH) হতে পারে। এছাড়া এটি জরায়ুতে পচন বা ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তীতে মায়ের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মোট 7টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন