যথাসময়ে প্রসব না হওয়া
Female ৬৪ ভিউ

যথাসময়ে প্রসব না হওয়া

রোগ সম্পর্কে

যথাসময়ে প্রসব না হওয়া (Delayed Labor / Post-term Pregnancy) বলতে বোঝায় গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক সময়সীমা বা চিকিৎসকের দেওয়া প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ (EDD - Expected Date of Delivery) পার হয়ে যাওয়ার পরও স্বাভাবিকভাবে প্রসব বেদনা শুরু না হওয়া। সাধারণত ৩-৫ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ৪২ সপ্তাহ বা তার চেয়েও বেশি দীর্ঘায়িত হতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, জরায়ুর পেশির দুর্বলতা, স্থূলতা, প্রথম সন্তান হওয়া অথবা পূর্বের গর্ভাবস্থায় বিলম্বে প্রসবের ইতিহাস থাকার কারণে এই সমস্যাটি হতে পারে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে গর্ভস্থ শিশুর অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহকারী অমরা বা প্লাসেন্টা (Placenta) দুর্বল হতে শুরু করে, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল পরিস্থিতিতে হোমিওপ্যাথি একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রাকৃতিকভাবে সহায়তাকারি ভূমিকা পালন করতে পারে।কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি জরায়ুর মুখ (Cervix) খুলতে এবং প্রাকৃতিকভাবে প্রসব বেদনা সৃষ্টি করতে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

লক্ষণ অনুযায়ী প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

নির্ধারিত সময়ে প্রসব বেদনা না উঠলে বা প্রসব প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ব্যবহৃত কিছু প্রধান ঔষধ:

ঔষধের নাম ব্যবহারের লক্ষণ
Caulophyllum যথাসময়ে প্রসব বেদনা শুরু করার জন্য এটি অন্যতম সেরা ঔষধ। যদি জরায়ুর মুখ শক্ত থাকে, লেবার পেইন একদম না ওঠে বা হালকা ব্যথা উঠে আবার চলে যায়।
Pulsatilla যদি গর্ভবতী মায়ের মেজাজ খুব কান্নাকাটি করার মতো হয়, খোলা বাতাস পছন্দ করেন এবং প্রসব বেদনা একদমই না ওঠে বা অনিয়মিত হয়।
Secale Cornutum জরায়ুর পেশির সংকোচন ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে যদি প্রসব বিলম্বিত হয় এবং রোগী শরীর গরম অনুভব করেন।
Cimicifuga (Actaea Racemosa) প্রসবের তারিখ পার হওয়ার পর যদি মায়ের মনে প্রচণ্ড ভয়, মানসিক অস্থিরতা বা আতঙ্ক কাজ করে এবং পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত ব্যথা ছড়ায়।
Gelsemium যদি ভয়ের কারণে জরায়ুর মুখ সংকুচিত হয়ে থাকে এবং প্রসব বেদনা উঠতে বাধা পায়।

গর্ভাবস্থা উত্তরণের পর যথাসময়ে প্রসব না হলে শান্ত-শিষ্ট, পর দুঃখ- কাতর ও ঠান্ডা প্রিয় রোগিনীর বেলায় পালসেটিলা হাজার থেকে অন্যান্য শক্তি। আর যে রোগিনী ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না বিধায় গরম চায় তাকে সিমিসিফিউগা ২০০ থেকে। কোন কারণে ঔষধ ব্যর্থ হলে উভয় ক্ষেত্রেই মেডোরিনাম প্রয়োগ করবে। তবে জরায়ুর মুখ খুব শক্ত থাকলে কলোফাইলাম (বেল, জেলস) ব্যবহার করতে হবে ।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সতর্কতা

  • নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: প্রসবের তারিখ পার হয়ে গেলে অবশ্যই নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) এবং সিটিজি (CTG) করে গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া ও চারপাশের পানির (Amniotic Fluid) পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

  • হালকা হাঁটাচলা: চিকিৎসকের অনুমতি সাপেক্ষে হালকা হাঁটাচলা বা স্কোয়াটিং (Squatting) পজিশনে বসার চেষ্টা করুন, এটি শিশুকে নিচের দিকে নামতে সাহায্য করে।

  • মানসিক শান্ততা: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা ভয় শরীরে প্রসবের হরমোন (Oxytocin) তৈরিতে বাধা দেয়। তাই মন শান্ত রাখুন।

  • জরুরি সতর্কতা: যদি আল্ট্রাসোনোগ্রামে বাচ্চার চারপাশের পানি কমে যায়, বাচ্চা পেটে মল ত্যাগ করে (Meconium) বা হার্টবিট কম-বেশি হয়, তবে হোমিওপ্যাথির অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত সিজারিয়ান সেকশন (C-Section) বা হাসপাতালের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

ইডিডি (EDD) বা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ পার হয়ে গেলেও ব্যথা না ওঠার কারণ কী?

চিকিৎসকের দেওয়া সম্ভাব্য তারিখ পার হওয়ার পরও প্রসব বেদনা না ওঠার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন—শরীরে প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের (Oxytocin) সঠিক নিঃসরণ না হওয়া, জরায়ুর পেশি দুর্বল থাকা, মায়ের অতিরিক্ত ওজন, প্রথম সন্তান হওয়া কিংবা হিসাবের সামান্য ভুল থাকা।

. প্রসবের নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেলে কতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা নিরাপদ?

সাধারণত ইডিডি (EDD) পার হওয়ার পর চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং বাচ্চার নড়াচড়া ও হার্টবিট ঠিক থাকলে ৪১ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে ৪২ সপ্তাহ পার হয়ে গেলে তাকে 'পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি' বলা হয়, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এই সময়ে নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

প্রসব বিলম্বিত হলে ঘরোয়াভাবে কী করা যেতে পারে?

এই সময়ে হালকা হাঁটাচলা করা বা অভিজ্ঞ ধাত্রী বা চিকিৎসকের পরামর্শে হালকা 'স্কোয়াটিং' (উবু হয়ে বসা) ব্যায়াম করা যেতে পারে, যা শিশুকে প্রসবের সঠিক পজিশনে আসতে সাহায্য করে। এছাড়া স্তনের বোঁটায় হালকা ম্যাসাজ (Nipple Stimulation) করলে শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রসব বেদনা উদ্দীপিত করতে পারে।

হোসনেআরা হিমু

হোমিও বিশেষজ্ঞ

ডা. হোসনে আরা একজন অভিজ্ঞ ও সেবাপরায়ণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তিনি...

শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন