কথা বলা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এই কথা বলা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং ব্যক্তি ক্রমাগত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে কথা বলতে থাকেন, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'লোকোয়াসিটি' (Loquacity) বা বাচালতা বলা হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত কথা বলা কেবল স্বভাবজাত নয়, বরং এটি স্নায়বিক উত্তেজনা, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, হিস্টিরিয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্যাফেইন সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যারা খুব দ্রুত কথা বলেন এবং অন্যের কথা বলার সুযোগ দেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি মানসিক ও স্নায়বিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। অস্বাভাবিক বাচালতা ও মানসিক চঞ্চলতা দূর করতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত গভীর ও ফলপ্রসূ কাজ করে। হোমিওপ্যাথি কেবল উপসর্গটিকে দমন করে না, বরং ব্যক্তির মানসিক গঠন ও স্নায়বিক অবস্থার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সঠিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্নায়ু শান্ত হয় এবং অহেতুক কথা বলার প্রবণতা কমে আসে। এটি ব্যক্তিকে মানসিকভাবে আরও স্থিতিশীল ও মনোযোগী হতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত কথা বলার ধরণ ও কারণ অনুযায়ী নিচের ঔষধগুলো হোমিওপ্যাথিতে বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Lachesis | এটি বাচালতার প্রধান ঔষধ। রোগী এক কথা থেকে অন্য কথায় দ্রুত চলে যায় এবং এক মুহূর্ত চুপ থাকতে পারে না। |
| Stramonium | যদি রোগী ভয়ের কারণে বা উত্তেজিত হয়ে অনর্গল কথা বলে এবং সাথে অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি থাকে। |
| Hyoscyamus | যদি রোগী হাসাহাসি করে, খুব দ্রুত কথা বলে এবং অনেক সময় অশ্লীল কথা বা গান গাওয়ার প্রবণতা থাকে। |
| Agaricus Muscarius | যদি কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যায় বা রোগী ভুল শব্দ ব্যবহার করে, তবুও কথা বলা বন্ধ করে না। |
| Cannabis Indica | যদি রোগী কাল্পনিক বিষয় নিয়ে অনর্গল কথা বলে এবং নিজের মধ্যেই এক প্রকার ঘোরে থাকে। |
১। অনবরত কথা বলে ট্র্যামোনিয়াম ৩০ থেকে। নাকিসুরে কথা বলে ব্যারাইটা মিউর ২০০ থেকে।
২। চুপচাপ নীরবে বসে থাকে কোন কথা বলে না এসিড ফস, পালস, ফুরিক এসিড (ডাঃ কেন্ট)
৩ । একা থাকলে নিজের সাথে কথা বলে ক্যাঙ্কে কার্ব (ডাঃ কেন্ট)। নিজ মনে বিড় বিড় করে কথা বলে হায়োসিয়েমাস ( ডাঃ কেন্ট)। কথা বলার সময় জিহবা বা গাল কামড়ে ফেলে ইগ্লেসিয়া, কষ্টিকাম, ৩০ দিনে ১ বার।
মেডিটেশন: নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন স্নায়বিক উত্তেজনা কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম: অনিদ্রা বা ঘুমের অভাব অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে করে এবং বাচালতা বাড়িয়ে দেয়, তাই প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চা, কফি বা উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলুন, যা মস্তিষ্ককে অতি-সক্রিয় করে তোলে।
রোগীর কথা ধৈর্য ধরে শোনার চেষ্টা করুন, তাকে হঠাৎ করে থামিয়ে দিলে সে আরও বেশি উত্তেজিত হতে পারে।
তাকে সৃজনশীল কাজে (যেমন—লেখালেখি বা ছবি আঁকা) ব্যস্ত রাখুন যাতে তার মানসিক শক্তি অন্যদিকে প্রবাহিত হয়।
পরিবারের সদস্যদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এই ধরণের মানসিক অস্থিরতা কমাতে সহায়ক।
সতর্কতা: ঔষধের সঠিক পটেনসি ও মাত্রা নির্ধারণের জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত কথা বলা সবসময় কোনো রোগ নয়, এটি কারও স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হতে পারে। তবে যদি এটি অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যায়, যেখানে ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান বা অসংলগ্ন কথা বলেন, তবে একে মানসিক বা স্নায়বিক অস্থিরতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
হ্যাঁ, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার সময় (Menopause) বা গর্ভাবস্থায় হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে মেজাজের তারতম্য ঘটে এবং কথা বলার প্রবণতা বা বাচালতা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
হোমিওপ্যাথি ঔষধ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে। এটি মস্তিষ্কের অতিরিক্ত উত্তেজনা বা হাইপার-অ্যাক্টিভিটি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। Lachesis বা Hyoscyamus-এর মতো ঔষধগুলো মানুষের অবদমিত আবেগ বা অস্থিরতা দূর করে তাকে স্বাভাবিক ও শান্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
মোট 10টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন