ইনজেকশন বা সুঁই ফুটানোর পরবর্তী জটিলতা (Complications from Injection / Needle Prick) একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কষ্টদায়ক সমস্যা। চিকিৎসা কিংবা টিকাদানের প্রয়োজনে আমাদের প্রায়শই ইনজেকশন নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় ইনজেকশন দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি না জানা, মাংসপেশিতে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়া বা সুঁইয়ের মাধ্যমে ত্বকের গভীরে জীবাণু প্রবেশের কারণে আক্রান্ত স্থানটি লাল হয়ে ফুলে ওঠে, প্রচণ্ড দপদপানি ব্যথা হয় এবং চামড়ার নিচে শক্ত চাকার মতো হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে অনেক সময় 'ইনজেকশন অ্যাবসেস' (Injection Abscess) বা পুঁজবটি বলা হয়। এছাড়া সংবেদনশীল স্থানে ইনজেকশন দেওয়ার সময় সুঁইয়ের অগ্রভাগ যদি কোনো প্রধান স্নায়ু বা নার্ভকে আঘাত করে, তবে দীর্ঘস্থায়ী অবশ ভাব, ঝিনঝিন করা বা পক্ষাঘাতের (Paralysis) মতো মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।ইনজেকশন জনিত যেকোনো ধরণের বাহ্যিক ক্ষত, অভ্যন্তরীণ পেশির ইনজুরি এবং স্নায়ুর আঘাতের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত দ্রুত ও স্থায়ী নিরাময় নিশ্চিত করে।হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ইনজেকশনের স্থানে জমে থাকা রক্ত বা তরল প্রাকৃতিকভাবে শোষণ করতে সাহায্য করে, স্নায়ুর অবশ ভাব দূর করে এবং পুঁজ হওয়া রোধ করে আক্রান্ত অংশটিকে খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
ইনজেকশন নেওয়ার পর উদ্ভূত বিভিন্ন লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত প্রধান কিছু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Ledum Palustre | সুঁই, আলপিন বা যেকোনো সূক্ষ্ম ও ধারালো জিনিসের আঘাতের জন্য এটি এক নম্বর ঔষধ। ইনজেকশন নেওয়ার পর যদি স্থানটি ঠাণ্ডা হয়ে যায়, কালশিটে পড়ে এবং ঠাণ্ডা পানি দিলে ব্যথার আরাম হয়। |
| Hypericum Perforatum | ইনজেকশন দেওয়ার সময় যদি সুঁই গিয়ে সরাসরি কোনো স্নায়ু বা নার্ভে আঘাত করে এবং তার ফলে তীব্র শূলানি, অবশ ভাব বা তীরবিদ্ধ হওয়ার মতো যন্ত্রণা শরীরের ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। |
| Silicea | ইনজেকশনের স্থানটি যদি শক্ত হয়ে পুঁজ হওয়ার উপক্রম হয় বা পুঁজ হয়ে যায়, তবে এটি প্রাকৃতিকভাবে পুঁজ বের করে দিয়ে ক্ষতস্থানটি খুব দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। |
| Arnica Montana | ইনজেকশন নেওয়ার পর যদি চারপাশের মাংসপেশি থেঁতলে যাওয়ার মতো ব্যথা হয়, ফুলে ওঠে এবং স্থানটি নীলচে বা কালচে রঙ ধারণ করে (রক্ত জমাট বাঁধা দূর করতে কার্যকর)। |
| Belladonna | ইনজেকশনের স্থানটি যদি হঠাৎ প্রচণ্ড লাল হয়ে ফুলে যায়, গরম হয়ে থাকে এবং দপদপানি ব্যথার কারণে হাত দেওয়া যায় না (প্রাথমিক প্রদাহের জন্য সেরা)। |
ইঞ্জেকশন দ্বারা প্রমেহ স্রাব বন্ধ করিবার পর অন্ডকোষ প্রদা হইলে বিশেষতঃ ডান অন্ডকোষ (বাম অন্ডকোষে রডোডেনড্রন। ক্লিমেটিস ইরেক্টা ২০০, দিনে ২ বার ব্যবহার্য। এই ব্যাপারে পালসেটিলা ২০০, রডোডেনড্রন ২০০, স্পঞ্জিয়া ২০০, টার্সিলেগো ২০০ ইত্যাদি ঔষধও সুন্দর কাজ দেয়। স্মরনীয়-অনেকের মতে- গণোরিয়ার প্রায় চাপা দেওয়ার জন্য যত প্রকার রোগ হইতে পারে, তাহার প্রায় সবই ক্লিমেটিস যারা আরোগ্য হয় । পালসেটিলা ব্যবহারে অবরুদ্ধ প্রায় ফিরিয়া আসিবার পর ক্লিমেটিস প্রয়োগ করিলে রোগ নির্মূল হয় ইনজেকশন বা অন্য কোন ভাবে গণোরিয়া চাপা পড়ার সমস্যায় ক্লিমেটিস সুন্দর ঔষধ (ডাঃ কেন্ট) । Anti Biotic - ঔষ যারা গণোরিয়া স্রাব চাপ দেয়ার পর যে কোন রোগে খুজা অগ্রগণ্য (ডাঃ ভিখুলকাস)
গরম বা ঠাণ্ডা সেঁক: ইনজেকশন নেওয়ার পরপরই যদি স্থানটি ফুলে বা কালচে হয়ে যায়, তবে প্রথম ২৪ ঘণ্টা বরফ বা ঠাণ্ডা সেঁক দেওয়া উচিত। আর যদি স্থানটি শক্ত চাকার মতো হয়ে যায়, তবে কুসুম গরম পানির সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং শক্ত ভাব দ্রুত কমে।
স্থানটি নাড়াচাড়া না করা: ইনজেকশনের স্থানটি বারবার হাত দিয়ে টেপাটেপি বা মালিশ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে ভেতরের প্রদাহ বা ইনফেকশন আরও বেড়ে যেতে পারে।
বাহ্যিক ব্যবহার: ফোলা ও কালশিটে ভাব দ্রুত কমাতে আর্নিকা মাদার টিঙ্কচার (Arnica Q) অথবা ল্যাকটো কালামাইন লোশন আলতো করে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে।
ইনজেকশনের তরল ঔষধটি যদি মাংসপেশিতে বা ত্বকের নিচে দ্রুত শোষিত হতে না পারে, তবে সেখানে তরল জমা হয়ে স্থানটি শক্ত চাকার মতো হয়ে যায়। এছাড়া সুঁই ফোটানোর সময় চারপাশের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা রক্ত জমাট বাঁধলেও (Hematoma) এমনটি হতে পারে।
ইনজেকশনের স্থানটি যদি অতিরিক্ত লাল হয়ে যায়, গরম থাকে এবং দপদপানি ব্যথা হয়, তবে বুঝতে হবে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ইনজেকশন অ্যাবসেস' (Injection Abscess) বলা হয়। এমন হলে অবহেলা না করে দ্রুত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেওয়া উচিত, যাতে এটি প্রাকৃতিকভাবেই শুকিয়ে যায়।
ইনজেকশন দেওয়ার সময় সুঁই যদি কোনো প্রধান স্নায়ুর ওপর গিয়ে পড়ে, তবে আক্রান্ত স্থান এবং তার আশেপাশের অংশ হঠাৎ অবশ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া তীব্র শূলানি ব্যথা, ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়া কিংবা অঙ্গটি নাড়াচাড়া করতে কষ্ট হওয়ার মতো গুরুতর স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
মোট 10টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন