সোরিয়াসিস (Psoriasis) হলো একটি অটো-ইমিউন কন্ডিশন যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে। এর ফলে ত্বকের কোষগুলো সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ত্বকের ওপর একটি মোটা, লালচে ও রূপালি আঁশের মতো আস্তরণ তৈরি করে। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে সঠিক চিকিৎসা না করালে এটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জয়েন্টে ব্যথা (Psoriatic Arthritis) সৃষ্টি করতে পারে।
হোমিওপ্যাথি কেবল রোগের লক্ষণ নয়, বরং রোগীর মানসিক ও শারীরিক গঠন (Constitutional Treatment) বিচার করে চিকিৎসা প্রদান করে। সোরিয়াসিসের জন্য বহুল ব্যবহৃত কিছু ওষুধ নিচে দেওয়া হলো:
যদি ত্বক খুব শুষ্ক, খসখসে হয় এবং রূপালি আঁশের মতো চামড়া ওঠে, তবে এটি খুব কার্যকর। বিশেষ করে যখন রোগী অতিরিক্ত অস্থিরতা অনুভব করে এবং গরমে আরাম পায়।
যাদের ত্বকের ফাটল থেকে আঠালো রস বের হয় এবং কান বা কনুইয়ের ভাঁজে সোরিয়াসিস বেশি দেখা যায়, তাদের জন্য গ্রাফাইটিস শ্রেষ্ঠ ওষুধ। এটি সাধারণত স্থূলকায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।
অত্যধিক চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া সোরিয়াসিসের প্রধান লক্ষণ হলে সালফার ব্যবহার করা হয়। গোসল করলে বা রাতে বিছানার গরমে চুলকানি বাড়লে এটি বেশ ফলদায়ক।
শীতকালে যদি সোরিয়াসিসের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়, তবে পেট্রোলিয়াম দারুণ কাজ করে।
মাথার ত্বকে (Scalp Psoriasis) যদি মোটা স্তর পড়ে যায় এবং নিচে পুঁজ জমা হয়, তবে চিকিৎসকরা মেজেরিয়াম সাজেস্ট করেন।
আঠালো রসস্রাবী হইলে গ্রাফাইটিস ২০০, সপ্তাহে ১ মাত্রা এমন ২ মাত্রা দিয়া পরে হাজার মাসান্তে এক মাত্রা (তিন মাস)। পুরাতন অবস্থায় ব্যাসিলিনাম ২০০,সপ্তাহে ১ মাত্রা এমন ২ মাত্রা দিয়া পরে হাজার দশ হাজার মাসান্তে ১ মাত্রা। টিকা দেওয়ার ইতিহাস থাকিলে খুজা ২০০, সপ্তাহে ১ বার (পরে উচ্চশক্তি)।
অত্যন্ত কঠিন ও পুরাতন অবস্থায় এক্স-রে ২০০, সপ্তাহে ১ বার এবং মাসান্তে হাজার শক্তি দিলে আরোগ্য হয়। চামড়ার উপর প্রদাহযুক্ত রক্তবর্ণ শঙ্কযুক্ত ছোপ লক্ষণে টিউবারকুলিনাম ২০০, সপ্তাহে ১ মাত্রা, এমন ২/৩ মাত্রা দিয়া মাসান্তে হাজার / দশ হাজার শক্তি প্রযোজ্য। শুকনা সোরিয়েসিসে থাইরয়েডিনাম ৩০/৩০, দিনে ১ বার। জিহ্বার উপর সোরিয়েসিসে ক্যাষ্টর একুই ২০০, চার দিন অন্তর সেব্য । কেলি আর্স এবং কেলি ব্রোম সোরিয়েসিস রোগের খুব ভাল ঔষধ (ডাঃ বরিক) । ধাতুগত চিকিৎসা উত্তম ।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: ত্বক কখনো শুকনো হতে দেবেন না। নারিকেল তেল বা ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
মানসিক চাপ কমান: দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস সোরিয়াসিস বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ইয়োগা বা মেডিটেশন করুন।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
সূর্যরশ্মি: হালকা সকালের রোদ সোরিয়াসিসের জন্য ভালো, তবে কড়া রোদ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
সতর্কবার্তা: ওপরের ওষুধগুলো শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যক্তিগতকৃত (Personalized), তাই কোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী (Chronic) অটো-ইমিউন সমস্যা। তবে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর লক্ষণগুলো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘসময় সুস্থ থাকা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে এটি পুনরায় ফিরে আসা রোধ করা যায়।
না, সোরিয়াসিস একদমই ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি স্পর্শ, মেলামেশা বা একই কাপড় ব্যবহারের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না।
হ্যাঁ, চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়াতে সাধারণত টক জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত ঝাল-মসলা, চিংড়ি, ইলিশ মাছ এবং অ্যালকোহল পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
মোট 14টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন