শিশুদের ত্বক অত্যন্ত কোমল এবং সংবেদনশীল, তাই খুব সামান্য কারণেই তাদের ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঘাম, নতুন কোনো খাবার বা কাপড়ের ডিটারজেন্টের অ্যালার্জি থেকে এই সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় এই চুলকানি শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং তাকে খিটখিটে করে তোলে।
শিশুর চুলকানি বা র্যাশের সমস্যা নিয়ে একটি বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো I
শিশুর কোমল ত্বকে লালচে দানা বা চুলকানি দেখলে যেকোনো বাবা-মা চিন্তিত হয়ে পড়েন। শিশুদের ত্বক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় তারা দ্রুত চর্মরোগে আক্রান্ত হয়।
ঘামাচি (Heat Rash): অতিরিক্ত গরম বা ঘামের কারণে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে গেলে লালচে দানা দেখা দেয়।
ডায়াপার র্যাশ: দীর্ঘক্ষণ ভেজা বা নোংরা ডায়াপার পরিয়ে রাখলে শিশুর নিতম্বে ও কুঁচকিতে লালচে র্যাশ হয়।
একজিমা (Atopic Dermatitis): এটি একটি বংশগত বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড চুলকায়।
খাবারে অ্যালার্জি: গরুর দুধ, ডিম বা নির্দিষ্ট কোনো নতুন খাবার শুরু করলে অনেক সময় অ্যালার্জি থেকে চুলকানি হতে পারে।
ডিটারজেন্ট বা সাবান: কড়া সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা কাপড়ের ডিটারজেন্ট শিশুর ত্বকে ইরিটেশন তৈরি করতে পারে।
কীটপতঙ্গের কামড়: মশা বা পিঁপড়ার কামড় থেকেও ছোট ছোট লাল চাকা হতে পারে।
ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা: শিশুকে নিয়মিত কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করান এবং ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
সুতি ঢিলেঢালা পোশাক: গরমের সময় শিশুকে পাতলা সুতি কাপড় পরান যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
অ্যালোভেরা জেল: চুলকানি কমাতে প্রাকৃতিক অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বককে শীতল রাখে।
নারকেল তেল: গোসলের পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে খাঁটি নারকেল তেল বেশ কার্যকর।
ডায়াপার পরিবর্তন: প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা পরপর বা ভিজে গেলে দ্রুত ডায়াপার বদলে দিন এবং মাঝেমধ্যে ডায়াপার ছাড়া রাখুন।
ঠাণ্ডা সেঁক: র্যাশের জায়গায় পরিষ্কার কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে আলতো করে চেপে ধরলে চুলকানি কমে।
যদি ঘরোয়া উপায়ে র্যাশ না কমে এবং নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
যদি র্যাশের জায়গায় পুঁজ জমে বা ফুলে যায়।
যদি শিশুর প্রচণ্ড জ্বর আসে।
চুলকানির কারণে শিশু যদি একেবারেই খেতে বা ঘুমাতে না পারে।
নবজাত শিশুর দেহের নানা স্থানে (যেমন বগলে, কানের পিছে কুঁচকি স্থানে) যা হইলে ও চুলকানি থাকিলে সালফার ৩০ সপ্তাহে ১ বার। শিশু মোটা সোটা হইলে ক্যাল্কে কার্ব ৩০, দিনে ১ বার আর পাতলা শরীর বিশিষ্ট হইলে লাইকোপডিয়াম ৩০, দিনে ১ বার। পাতলা রস বাহির হইলে পেট্রোলিয়াম ৩০, দিনে ১ বার আর ইহাতে চুলকানি থাকিলে রাসটক্স ৩০, দিনে ২ বার। লাল ফুস্কুড়ি উঠিলে ক্যামোমিলা ১২ দিনে ২ বার আর ইহাতে চুলকানি থাকিলে রাসটক্স ৩০. দিনে ২ বার ।
উত্তর: সাধারণ ক্ষারযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খুব মাইল্ড বা পিএইচ (pH) ব্যালেন্সড বেবি সোপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে র্যাশ খুব বেশি হলে কয়েকদিন সাবান ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
উত্তর: হ্যাঁ, খাঁটি নারকেল তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে যা ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে চুলকানি থেকে আরাম দেয়। তবে র্যাশে ইনফেকশন বা পুঁজ থাকলে তেল ব্যবহার না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।
উত্তর: না, র্যাশ হলে পাউডার লাগালে তা লোমকূপ বন্ধ করে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে ভালো মানের ডায়াপার র্যাশ ক্রিম বা ল্যানোলিন সমৃদ্ধ মলম ব্যবহার করা ভালো।
মোট 3টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন