রিকেট বা রিকেট দোষ (Rachitis / Rickets) হলো শিশুদের হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যাওয়ার একটি বিশেষ অবস্থা। এটি মূলত ভিটামিন-ডি (Vitamin D), ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের তীব্র অভাবের কারণে ঘটে থাকে। ভিটামিন-ডি শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে; তাই এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে হাড় তার প্রয়োজনীয় শক্ত ভাব ধরে রাখতে পারে না। ফলশ্রুতিতে শিশুদের হাত ও পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া (যেমন—ধনুকের মতো পা বা Bow legs), কবজি ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, বুকের খাঁচার হাড় কবুতরের মতো সামনের দিকে এগিয়ে আসা (Pigeon chest) এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগটি বেশি লক্ষ্য করা যায়।শিশুদের এই হাড়ের দুর্বলতা ও গঠনগত ত্রুটি দূর করতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত গভীর ও স্থায়ীভাবে কাজ করে।এটি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই হাড়ের পুষ্টির অভাব পূরণ করে, হাড়ের কোষগুলোকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে তাকে সুস্থ ও সবল করে তোলে।
রিকেটস রোগের লক্ষণ, শিশুর শারীরিক গঠন ও ধাতুজ প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ব্যবহৃত কিছু প্রধান ঔষধ:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Calcarea Carbonica | রিকেটের জন্য এটি একটি অন্যতম প্রধান ঔষধ। যেসব শিশু একটু মোটা-সোটা, থলথলে শরীর, মাথায় অতিরিক্ত ঘাম হয় (বিশেষ করে ঘুমানোর সময়) এবং যাদের দাঁত উঠতে বা হাঁটতে দেরি হয়। |
| Calcarea Phosphorica | যেসব শিশু দেখতে রোগা-পটকা, রিকেটের কারণে হাড় খুব নরম ও ভঙ্গুর, মাথার খুলির হাড় জোড়া লাগতে দেরি হয় এবং ঘন ঘন সবুজ রঙের পাতলা পায়খানা হয়। |
| Silicea (Silica) | যদি শিশুর মাথা শরীরের তুলনায় বড় দেখায়, হাত-পা চিকন থাকে, নখ ও হাড়ের গঠন খুব দুর্বল হয় এবং পায়ের পাতায় দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম হয়। |
| Phosphorus | যেসব শিশু লম্বা ও পাতলা গড়নের, চটপটে কিন্তু হাড়ের মেটাবলিজমের সমস্যার কারণে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ঠান্ডা লাগার প্রবণতা থাকে। |
| Sulphur | যদি শিশু নোংরা থাকতে ভালোবাসে, গোসল করতে চায় না, চর্মরোগের ইতিহাস থাকে এবং হাতের তালু ও পায়ের তলা গরম থাকে। |
যদি কোন মহিলা পূর্বে রিকেট পীড়াগ্রস্থ সন্তান প্রসব করেন তাহলে প্রবর্তী গর্ভাবস্থায় ক্যাল্কে ফস কিছুদিন সেবন করালে ভবিষ্যতে রিকেটিক সন্তান প্রসব হওয়া নিবারিত হয়। শক্তি ৪x, ৬x, ও পরে ১২x /
*কোন মহিলা ঠোঁটা কাটা (Harelip) সন্তান প্রসব করলে ভবিষ্যতে তা রোধ করার জন্য পরবর্তী গর্ভের ৩-৭ মাস পর্যন্ত ক্যাল্কে সালফ ১২x দিনে ২ বার সেবন করাবে ।
সূর্যালোকের স্পর্শ: রিকেটস প্রতিরোধের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো শিশুকে প্রতিদিন সকালের কুসুম গরম রোদে ১৫-২০ মিনিট রাখা, যা শরীরে প্রাকৃতিক ভিটামিন-ডি তৈরি করে।
সঠিক পুষ্টি: শিশুর খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন—দুধ, ডিমের কুসুম, মাখন, ছোট মাছ এবং তাজা শাকসবজি রাখুন।
বুকের দুধ খাওয়ানো: নবজাতক শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
সতর্কতা: শিশুর হাড় বেঁকে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ঔষধ না খাইয়ে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রিকেটস হলো মূলত বাড়ন্ত শিশুদের হাড়ের একটি রোগ, যার ফলে হাড় নরম, দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। হাড় তার স্বাভাবিক শক্ত ভাব ধরে রাখতে পারে না বলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং শরীরের ওজনে হাত ও পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যেতে পারে।
এই রোগের প্রধান কারণ হলো শরীরে ভিটামিন-ডি (Vitamin D) এবং ক্যালসিয়ামের তীব্র ঘাটতি। ভিটামিন-ডি শরীরকে খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ করতে সাহায্য করে। যদি কোনো শিশু পর্যাপ্ত সূর্যালোক (রোদ) না পায় এবং তার খাবারে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি এর অভাব থাকে, তবে রিকেটস দেখা দেয়।
প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—হাত ও পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া, কবজি ও গোড়ালি অস্বাভাবিক মোটা বা ফুলে যাওয়া, শিশুর বুকের খাঁচার হাড় কবুতরের মতো সামনের দিকে ঝুলে পড়া (Pigeon Chest), শিশুদের দাঁত উঠতে বা হাঁটতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দেরি হওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।
মোট 6টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন