প্রদর স্রাব (Leucorrhea) বা সাধারণভাবে যাকে আমরা 'সাদা স্রাব' বলে থাকি, তা নারীদের প্রজননতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক নিঃসরণ। এটি মূলত জরায়ু ও যোনিপথকে পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই নিঃসরণ যখন পরিমাণে অত্যধিক হয়, দুর্গন্ধযুক্ত হয় কিংবা এর ফলে চুলকানি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়, তখন তাকে রোগ হিসেবে গণ্য করা হয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টির অভাব, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণ এই সমস্যার প্রধান কারণ। প্রদর স্রাব দীর্ঘস্থায়ী হলে কোমর ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই সংবেদনশীল সমস্যার স্থায়ী ও নিরাপদ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকরী। যেখানে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক বা ক্রিম কেবল বাহ্যিক উপসর্গ দূর করে, সেখানে হোমিওপ্যাথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণের মূল কারণ নির্মূল করে। রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সঠিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে প্রদর স্রাব বন্ধ হয় এবং জরায়ুর স্বাস্থ্য উন্নত হয়।
স্রাবের প্রকৃতি ও রঙের ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো হোমিওপ্যাথিতে বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Alumina | স্রাব যদি অত্যন্ত আঠালো এবং স্বচ্ছ হয় এবং ধোয়ার পরেও চুলকানি না কমে। রোগী খুব কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। |
| Sepia | স্রাব যদি হলদেটে বা সবুজ রঙের হয় এবং তলপেটে নিচের দিকে চাপ বা ভারবোধ অনুভূত হয়। |
| Pulsatilla | স্রাব যদি দুধের মতো সাদা ও ঘন হয় এবং খোলা বাতাসে রোগী আরাম বোধ করে। |
| Kreosotum | স্রাব যদি অত্যন্ত কষযুক্ত বা হাজাকর হয়, যার ফলে যোনিপথে ঘা বা প্রচণ্ড চুলকানি হয় এবং কাপড়ে দাগ লাগে। |
| Borax | স্রাব যদি গরম ডিমের লালার মতো হয় এবং রোগী নিচে নামার সময় ভয় পায়। |
| Calcarea Carb | স্থূলকায় বা মেদবহুল মহিলাদের ক্ষেত্রে দুধের মতো সাদা স্রাব এবং অতিরিক্ত ঘামের প্রবণতা থাকলে। |
১। কোষ্ঠবন্ধ স্বভাবী, পাতলা শরীর বিশিষ্ট রোগিনীর ডিমের লালার মত হড়হড়ে স্রাব, এত বেশী যে উহা পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত নেমে আসে লক্ষণে এলুমিনা (সিফিলিনাম) হাজার থেকে ।
২। ডিমের লালার মত হড়হড়ে প্রচুর পরিমাণ গরম ভাবে বোরাক্স ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি ব্যবহার্য ।
৩। ঋতুস্রাব না হজয়ে প্রদর স্রাবে গ্রাফাইটিস, চায়না ২০০ থাকে
৪। মোটাসোটা ও কোষ্ঠবদ্ধ স্বভাবী স্ত্রী লোকদের দূর্গন্ধযুক্ত প্রচুর সাদাস্রাবে গ্রাফাইটিস ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি ।
৫। মোটাসোটা আলসে ও মাথায় ঘাম বিশিষ্ট রোগিনার সাদা ক কারো যোনিয়ারে চুলকানি ও জ্বালা থাকে) ক্যাঙ্কে কার্ব হাজার থেকে ।
৬। ছোট ছোট বালিকাদের সাদা স্রাবে ক্যাছে কার্ব, কার্বলিত এসিড ( ডাঃ বয়িক), কলোফাইলাম, মার্কসল, সিপিয়া, পালস, ক্যালাই (ডাঃ কেষ্ট) ।
৭। গর্ভাবস্থায় প্রদর স্রাবে ককুলাস, সেবাইনা ২০০
৮। দুই ঋতুর মাঝখানে প্রদর স্রাবে ককুলাস ইন্ডিকা ২০০ থেকে
৯। ঠান্ডা প্রিয়, পর দুঃখ কাতর (নরম মন), পিপাসাহীন রোগীনীর ডিমের লালার মত বা দুধের মত সাদা স্রাবে পালসেটিলা হাজার থেকে
১০। প্রস্রাবের পর যন্ত্রনাহীন শ্লেম্মার মত সাদা স্রাবে এমন মিউর ২০০ থেকে
১১। হাজাকর ও জ্বালাকর যাবে- আর্সেনিক বা ক্রিয়োজোট ২০০ থেকে
১২। ফতুর কয়েক দিন পূর্বে বা পরে শ্বেত প্রদর স্রাব অত্যন্ত গাছ, চটচেট ও দড়াকড়া, ত্বক ক্ষয়কারক (acid) বোভিটা ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি সেবা।
১৩। ঋতুস্রাব বন্ধের বয়সের (৪৫-৫০) সময় সাদা বা হলুদ রংয়ের প্রদর স্রাবে ট্রিলিয়ামস ২X চার ফোঁটা মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার ব্যবহার্য। ১৪। দূরারোগ্য প্রদর স্রাবে অরাম মিউর নেট্রানেটাম ৩X /SX.২ যোগ দিনে ২/৩ বার সেবা ।
১৫। যোনি কপাটে চুলকানিসহ প্রদর স্রাবে ফেগোফাইরাম ৩৭, বোৱা ৩০ (ড) বরিক) ।
১৬। চুলকানি ও জ্বালাসহ প্রদর প্রার কার্বলিক এসিড (ক্রিয়োজোট) ৩০ দিনে ২ বার। এই উপসর্গের সুন্দর ঔষধ ক্যান্ডে কার্ব (ডাঃ কেন) ২০০, রোজ ১ বার।
১৭। ঋতুর পরে পিঠে রাখাসহ প্রদর স্রাব ইউপিয়ন ৩০ (ডাঃ বরিক), দিনে ৩ বার ব্যবহার্য ।
১৮। প্রদর প্রান হুড় করে বের হাতে থাকে ইউপিয়ন
১৯। প্রস্রাবের পর প্রদর স্রাব কোনিয়াম ( বর্ধিত) ২০০ থেকে ব্যবহার্য। প্রত্যেক বার প্রস্রাবের পর প্রদর স্রাব এমন মিউর (ডাঃ বরিক)। প্রস্রাব বের হওয়ার সময় প্রদর স্রাব সাইলিসিয়া ।
২০। রক্ত মিশ্রিত হলদে যাবে বায়োকেমিক ক্যারে সাল ७x, ১. সপ্তাহ (২ বড়ি দিনে ২ বার); পরের সপ্তাহে ১২২ বড়ি রোজ একবার) পরে দরকারবশ ৩०x 200x ব্যবহার করবে। সাদা স্রাবে ক্যাল্কে ফস ৬x, কেলিফস ৬x কেলি সালফ ৬x প্রত্যেকটি থেকে ২ বড়ি দিনে ২ বার ব্যবহার করা যায়।
২১। রক্তপ্রদরে চায়না, ৩০ থেকে ব্যবহার্য (ডাঃবরিক)
২২। মাছের আচার বা পুরাতন পনিরের গন্ধবিশিষ্ট প্ৰদর স্রাব- স্যানিকিউলা ২০০ থেকে সেব্য ।
পরিচ্ছন্নতা: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং সবসময় সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
পুষ্টিকর খাবার: রক্তস্বল্পতা দূর করতে আয়রন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন—ডিম, দুধ, শাকসবজি) বেশি খান।
বিশ্রাম: অতিরিক্ত প্রদর স্রাব শরীরকে দুর্বল করে দেয়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
সতর্কতা: ওষুধের সঠিক শক্তি (Potency) এবং মাত্রা নির্ধারণের জন্য সর্বদা একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হ্যাঁ, দীর্ঘস্থায়ী প্রদর স্রাব বা লিউকোরিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বেরিয়ে যায়, ফলে শরীরে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলেই কোমর ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা এবং পায়ে চিলিক মারা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে মূলত রক্তস্বল্পতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে প্রদর স্রাব হতে পারে। এক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি দ্রুত সেরে যায়।
অবশ্যই। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার, ভাজা পোড়া এবং মসলাযুক্ত খাবার সাদা স্রাবের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিপরীতে প্রচুর পানি পান করা, টক দই এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে যা সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।
মোট 23টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন