ঋতুস্রাবের পরের উপসর্গ
Female ৫২ ভিউ

ঋতুস্রাবের পরের উপসর্গ

রোগ সম্পর্কে

নারীদের মাসিক চক্রের আগে বা চলাকালীন সমস্যার কথা সচরাচর শোনা গেলেও, অনেকের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পরের সময়টুকু বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মাসিক বন্ধ হওয়ার পরপরই শরীর ও মনে যে বিশেষ পরিবর্তনগুলো দেখা দেয়, তাকেই 'ঋতুস্রাবের পরের উপসর্গ' বলা হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন (Mood Swings), তলপেটে হালকা ব্যথা কিংবা যোনিপথে অতিরিক্ত শুষ্কতা। সাধারণত হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন এবং রক্তস্বল্পতার কারণে এই উপসর্গগুলো প্রকট হয়। এই ধরণের উত্তর-ঋতুস্রাবজনিত জটিলতা দূর করতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করে। যেখানে সাধারণ পেইনকিলার বা হরমোন পিল কেবল সাময়িক আরাম দেয়, সেখানে হোমিওপ্যাথি রোগীর সামগ্রিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে শরীরের হরমোন নিঃসরণ এবং রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক করে তোলে। সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শরীর তার স্বাভাবিক শক্তি ফিরে পায় এবং পরবর্তী মাসিক চক্রের জন্য প্রস্তুত হয়।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

লক্ষণ অনুযায়ী প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত:

ঔষধের নাম ব্যবহারের লক্ষণ
China Officinalis পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তস্রাবের কারণে যদি পরে প্রচণ্ড দুর্বলতা ও কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ হয়।
Natrum Mur ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর যদি তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং রোগী নোনতা খাবার খেতে পছন্দ করে।
Kreosotum মাসিক শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর যদি যোনিপথে প্রচণ্ড চুলকানি বা দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব দেখা দেয়।
Borax মাসিক শেষ হওয়ার পর যদি গরম সাদা স্রাব নির্গত হয় এবং রোগী নিচে নামার সময় (যেমন সিঁড়ি দিয়ে নামা) ভয় পায়।
Graphites ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পর যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যায় এবং চর্মরোগের প্রবণতা দেখা দেয়।

 

১। সঙ্গম স্পৃহা বাড়ে-মেডোরিন।

২। হলদে রংয়ের প্রদর বেশী হয় -যেতো।

৩। মাথা, ঘার ও হাত পারে টানিয়া ধরার মত ব্যথা- মেডো।    

*৪। প্ৰদরস্রাব দেখা দেয়- ক্রিয়োজোট, বোভিষ্টা, গ্রাফাইটিস।

৫। সর যাতনা বাড়ে- ক্রিয়োজোট।

৬। কোমড়ে বাধাসহ প্রদর-ইউপিয়ন ।

**৭। সব যাতনা কমে-ল্যাকে, জিম্বাম, এসিড ফ্লোর)

৮। রোগিনী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে-ককুলাস, কার্বো এনি

 

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • আয়রন সমৃদ্ধ খাবার: মাসিক পরবর্তী দুর্বলতা কাটাতে পালং শাক, ডালিম, খেজুর এবং কচু শাকের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম: পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরের ২-৩ দিন শরীরকে অতিরিক্ত ধকল থেকে মুক্ত রাখুন।

  • পানি পান: হরমোনের ভারসাম্য ও মাথাব্যথা কমাতে প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন।

  • পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর কয়েকদিন নিয়মিত ডাবের পানি বা স্যালাইন পান করুন যাতে শরীরে লবণের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

  • গোসলের সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দিন।

  • নিজেকে সতেজ রাখতে নিয়মিত হালকা যোগব্যায়াম বা মর্নিং ওয়াক করার চেষ্টা করুন।

  • সতর্কতা: ঔষধের সঠিক শক্তি (Potency) এবং মাত্রা নির্ধারণের জন্য সর্বদা একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

মাসিক শেষ হওয়ার পর ক্লান্তি বা দুর্বলতা কেন হয়?

ঋতুস্রাবের সময় শরীর থেকে রক্ত ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। যদি রক্তস্রাবের পরিমাণ বেশি হয়, তবে শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দেয়, যার ফলে মাসিক শেষ হওয়ার পর প্রচণ্ড ক্লান্তি, ঝিমুনি বা শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

মাসিক শেষ হওয়ার পর কি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

যদিও মাসিকের ঠিক পরেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম থাকে, তবে যাদের মাসিক চক্র ছোট (Short Cycle), তাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন হতে পারে। তাই এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত মিলনে গর্ভধারণের ঝুঁকি থেকে যায়।

হোমিওপ্যাথি কীভাবে মাসিক পরবর্তী বিষণ্ণতা বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া কমায়?

হোমিওপ্যাথি ঔষধগুলো স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে এবং হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। Pulsatilla বা Sepia-এর মতো ঔষধগুলো পিরিয়ড পরবর্তী মানসিক অস্থিরতা, অকারণে কান্না পাওয়া বা খিটখিটে মেজাজ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন