ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার এক বা দুই সপ্তাহ আগে থেকে শরীরে যে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, তার ফলে অনেক নারীই বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গের শিকার হন। একেই বলা হয় প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম (PMS)। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্তনে ব্যথা বা ভারী ভাব, পেটে গ্যাস হওয়া বা ফুলে যাওয়া (Bloating), ব্রণের আধিক্য, মাথাব্যথা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি। এর পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হঠাৎ কান্নাকাটি করা, বিষণ্ণতা বা অনিদ্রার মতো মানসিক সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। এই ধরণের উপসর্গের স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধানে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকর। প্রচলিত ঔষধ অনেক সময় সাময়িক আরাম দিলেও হরমোনের মূল ভারসাম্য ফেরাতে পারে না। কিন্তু হোমিওপ্যাথি রোগীর শারীরিক ও মানসিক গঠন এবং নির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচন করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মাসিকের আগের সেই যন্ত্রণাদায়ক দিনগুলোকে স্বস্তিদায়ক করে তোলে।
মাসিকের আগে দেখা দেওয়া বিশেষ কিছু লক্ষণের জন্য নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Lachesis | মাসিক শুরু হওয়ার আগে তীব্র অস্থিরতা, মেজাজ গরম বা মাথাব্যথা, যা রক্তস্রাব শুরু হওয়া মাত্রই ঠিক হয়ে যায়। |
| Conium | মাসিকের আগে স্তন অত্যন্ত শক্ত এবং ব্যথাপূর্ণ হয়ে উঠলে এটি প্রধান ঔষধ। |
| Sepia | যদি মাসিকের আগে রোগী অত্যন্ত খিটখিটে থাকে, পরিবারের লোকজনের প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং তলপেটে নিচের দিকে চাপ অনুভব হয়। |
| Calcarea Carb | যদি মাসিকের আগে স্তনে ব্যথা হয়, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং খুব ঘাম হওয়ার প্রবণতা থাকে। |
| Pulsatilla | অল্পতেই কেঁদে ফেলা, মনমরা হয়ে থাকা এবং খোলা বাতাসে থাকতে পছন্দ করার মতো লক্ষণ থাকলে। |
১। স্বরলোপ-জেলস । ২। খুব ঘাম হয়- খুজা। ৩। কলেরার মত অবস্থা ক্যাঙ্কে কার্ব । ৪। কয়েক দিন (৩-৭) পূর্ব থেকেই মাথা ব্যথা করে- ক্যাঙ্কে ফস। ৫। একদিন আগে মাথা ব্যথা করে- জাহাকজাইলাম । ৬ । স্তনে ব্যথা হয়-টিউবার, কোনিয়াম । ৭। স্তন ফুলে উঠে বা ব্যথা হয়-ল্যাকক্যান। ৮। গায়ে উদ্ভেদ (Allergy) দেখা নেয়-ডালকা, সার্সা । ৯ । ** যোনিতে চুলকানি-গ্রাফাইটিস। ১০। কাশি হয় গ্রাফা। ১১। বমি ভাব- নেট্রাম মিউর ৬x । ১২। মেজাজ১৩। কান্না পায়-ফস। ১৪। পুনঃ পুনঃ প্রস্রাবের বেগ হয়- ফস, সার্সা, নাক্স। ১৫। অস্বস্তিবোধ হয়- আর্স, ষ্ট্যানাম মেট। ১৬। বুক চাপা স্বপ্নদেখে ও দমবন্ধ ভাব হয়- এসিড সালফ। ১৭। পেট ফাঁপা- ককুলাস । ১৮ । স্তন ফোলে, ব্যথা হয় ও যোনির বাহিরে ঘাম হয়- ক্যাঙ্কে ফস ফস । ১৯। প্রদর দেখা দেয় সিপিয়া। ২০। তল পেটের বাম দিকে ব্যথা- অষ্টিলেগু । ২১। বাম স্তনের নীচে ব্যথা-গ্রাফা, টিউবার। ২২। গলায় ব্যথা হয়- ল্যাকক্যান, ম্যাগ কার্ব। ২৩। সর্দি ও গলা ব্যথা হয়- ম্যাগ কার্ব, গ্রাফা । ২৪। জননেন্দ্রীয়ে তীব্র সুড়সুড়ি হয়- ক্যান্ডে ফস, প্লাটিনাম । ২৫ । ডিম্বকোষের বেদনা-গ্রাফা, থুজা। ২৬। জরায়ুতে বেদনা-সিমিসি, কলোফাইলাম। ২৭। কোমড়ে ও ডিম্বকোষের ব্যথা নিয়ে ঋতুর প্রকাশ-টিউবার। ২৮। ঋতু হবার পূর্বে দুর্দম্য সঙ্গমেচ্ছা দেখা দিলে ক্যাঙ্কে ফস ৬x (৪ বড়ি দিনে ২/৩ বার) ব্যবহার্য খুব উত্তেজিত হয়- ম্যাগ মিউর ।
খাদ্যাভ্যাস: মাসিকের আগের দিনগুলোতে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন। এটি শরীরে পানি জমা (Water Retention) এবং পেট ফাঁপা রোধ করবে।
ক্যাফেইন বর্জন: চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো দুশ্চিন্তা ও স্তনের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্রাম ও ব্যায়াম: পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং নিয়মিত হালকা হাঁটাচলা বা ইয়োগা করার চেষ্টা করুন।
সাধারণত পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার ৭ থেকে ১০ দিন আগে থেকে এই উপসর্গগুলো শুরু হয়। একেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বা PMS বলা হয়। রক্তস্রাব শুরু হওয়ার পর সাধারণত এই লক্ষণগুলো নিজে থেকেই কমে যায়।
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে, বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে স্তনের টিস্যুগুলোতে পানি জমে (Water Retention) এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে স্তন স্পর্শকাতর, শক্ত বা ব্যথাপূর্ণ মনে হতে পারে।
হ্যাঁ, অনেকেরই কেবল মাসিকের আগেই মুখে ব্রণ দেখা দেয়। এটি হরমোনাল ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। নিয়মিত সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিক হয় এবং এই ব্রণের প্রবণতা চিরতরে দূর হয়।
মোট 24টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন