গর্ভাবস্থায় শোথ (Pregnancy Oedema) বা হাত-পা ফুলে যাওয়া একটি অতি পরিচিত উপসর্গ, যা সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় বা শেষ প্রান্তিকে দেখা দেয়। এই সময়ে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা হওয়া এবং জরায়ুর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে বিশেষ করে পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যায়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বা গরম আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক, তবে হঠাৎ করে মুখ বা হাত অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া উচ্চ রক্তচাপ বা প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি। গর্ভাবস্থার এই সংবেদনশীল সময়ে হোমিওপ্যাথি একটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রচলিত অনেক ঔষধ গর্ভাবস্থায় সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলো প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হওয়ায় মা ও গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি করে না। হোমিওপ্যাথি কেবল ফোলা কমায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং কিডনির কার্যকারিতা সচল রাখতে সাহায্য করে। সঠিক লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে এটি গর্ভবতী মাকে দ্রুত আরাম প্রদান করে এবং গর্ভাবস্থাকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলে।
শোথ বা ফোলা ভাবের ধরণ অনুযায়ী নিচে কিছু নিরাপদ ঔষধের নাম দেওয়া হলো:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Apis Mellifica | যদি সারা শরীর বা পা মোমের মতো ফুলে যায়, হুল ফোটানোর মতো ব্যথা থাকে এবং প্রস্রাব খুব কম হয়। |
| Acetic Acid | গর্ভাবস্থায় যদি পা এবং শরীরের নিচের অংশ খুব বেশি ফুলে যায় এবং সাথে প্রবল তৃষ্ণা থাকে। |
| Ferrum Met | যদি রক্তস্বল্পতার কারণে শরীর ফ্যাকাশে হয়ে ফুলে যায় এবং সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠে। |
| Pulsatilla | যদি কেবল পা ফুলে যায় এবং ঠান্ডা বাতাসে বা হাঁটাচলা করলে রোগী আরাম বোধ করে। |
| Digitalis | যদি হার্টের দুর্বলতার কারণে পা ফুলে যায় এবং নাড়ির গতি খুব ধীর বা অনিয়মিত হয়। |
| Natrum Mur | অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার প্রবণতা থেকে যদি শরীরে পানি আসে এবং হাত-পা ফুলে যায়। |
এই ব্যাপারে (১) রোগিনী তৃষ্ণাহীন ও ঠান্ডা চায় লক্ষণে এপিস ২০০, অথবা পালস ২০০ । আর তৃষ্ণা আছে ও ঠান্ডা চায় লক্ষণে এসেটিক এসিড। (২) পানির পিপাসা আছে এবং গরম ভালবাসে লক্ষণে এপোসাইনাম বা আর্দ্র ৩০/২০০, দিনে ১ বার। (৩) বমিসহ শোথ দেখা দিলে ও শোথে আক্রান্ত স্থান টিপলে টোল পড়লে কলচিকাম ৩০, দিনে ৩/৪ বার খাবে।
বায়োকেমিক, নেট্রাম মিউর ৩x, ক্যাল্কে ফস ১২x ফেরাম ফস ৬x ও নেট্রাম সালফ ৬x প্রত্যেকটি থেকে দুটি করে বড়ি একত্র করে দিনে ২ বার প্রয়োগে সুন্দর ফল পাওয়া যায়। হৃদরোগ জনিত শোথে ক্র্যাটিগাস বা ডিজিটেলিস।
বিশ্রামের ধরণ: ঘুমানোর সময় বা বিশ্রামের সময় পায়ের নিচে একটি বালিশ দিয়ে পা কিছুটা উঁচুতে রাখুন। সবসময় বাম কাতে শোয়ার চেষ্টা করুন।
লবণ নিয়ন্ত্রণ: খাবারে বাড়তি লবণ বা কাঁচা লবণ খাওয়া একদম বন্ধ করুন, কারণ লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে।
হালকা হাঁটাচলা: এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থেকে মাঝে মাঝে ঘরের মধ্যে হালকা পায়চারি করুন।
সতর্কতা: যদি ফোলা ভাবের সাথে তীব্র মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় পা ফুলে যাওয়া বা হালকা শোথ হওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এই সময় শরীরে রক্ত ও তরলের পরিমাণ প্রায় ৫০% বেড়ে যায় এবং জরায়ুর চাপের কারণে রক্ত চলাচলে কিছুটা ধীরগতি আসে, ফলে পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যায়। সাধারণত দিনের শেষে বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে এটি বেশি দেখা যায়।
পা ফোলা কমাতে বিশ্রামের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা হৃদপিণ্ডের উচ্চতার চেয়ে একটু উঁচুতে রাখুন। টাইট মোজা বা জুতো পরা এড়িয়ে চলুন এবং দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত বাম কাতে শুলে জরায়ুর চাপ কমে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, যা ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
একেবারেই না। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাত্রায় এবং প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি করা হয়। এটি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মায়ের শরীরের অতিরিক্ত তরল বের করে দেয় এবং শিশুর বৃদ্ধি বা অবস্থানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
মোট 17টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন