কামোন্মাদ বা নিস্ফোম্যানিয়া (Nymphomania) হলো নারীদের এমন একটি মানসিক ও শারীরিক অবস্থা, যেখানে যৌন আকাঙ্ক্ষা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এটি কোনো সাধারণ ইচ্ছা নয়, বরং একটি স্নায়বিক ও হরমোনজনিত সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জার ভয়ে রোগীরা এই বিষয়ে কথা বলতে চান না। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এই ধরনের সংবেদনশীল সমস্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী, কারণ এটি রোগীর মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক লক্ষণের উপর ভিত্তি করে গভীর থেকে কাজ করে।
মানসিক অবস্থা ও লক্ষণের ভিন্নতা অনুযায়ী নিচের ঔষধগুলো হোমিওপ্যাথিতে বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Hyoscyamus Niger | যদি উত্তেজনার আতিশয্যে রোগী লজ্জাবোধ হারিয়ে ফেলে, অসংলগ্ন কথা বলে এবং পোশাক খুলে ফেলার প্রবণতা দেখায়। |
| Platinum Met | যদি অহংকারী স্বভাবের সাথে কামোন্মাদনা থাকে এবং জননেন্দ্রিয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হয় (সামান্য ছোঁয়ায় উত্তেজনা)। |
| Phosphorus | রোগী যদি খুব আবেগপ্রবণ হয়, একা থাকতে ভয় পায় এবং তার মধ্যে অত্যধিক যৌন আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। |
| Murex Purpurea | যদি জরায়ুর কোনো সমস্যার সাথে তীব্র কামবাসনা থাকে এবং সামান্য স্পর্শেও তা প্রকট হয়ে ওঠে। |
| Gratiola | মহিলাদের কামোন্মাদনার এটি একটি বিশিষ্ট ঔষধ, বিশেষ করে যারা স্নায়বিক দুর্বলতায় ভুগছেন। |
| Staphisagria | যদি দীর্ঘদিনের অবদমিত কামবাসনা বা মনের কোনো গোপন কষ্টের ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। |
প্লাটিনা (Platina): যদি রোগীর মধ্যে অত্যন্ত গর্ব বা অহংকারবোধ থাকে এবং সেই সাথে অতিরিক্ত কামবাসনা দেখা দেয়, তবে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
হায়োসাইয়ামাস (Hyoscyamus): যখন কামোন্মাদের সাথে রোগী আবোল-তাবোল বকে, কাপড় খুলে ফেলতে চায় বা নির্লজ্জ আচরণ করে, তখন এই ওষুধটি দেওয়া হয়।
অরাম মেটালিকাম (Aurum Met): রোগী যদি বিষণ্ণতায় ভোগে এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে এটি বিশেষ ফলদায়ক।
মিউরেক্স (Murex): জরায়ুর সমস্যার সাথে যদি অত্যধিক কামাসক্তি থাকে, তবে মিউরেক্স খুব দ্রুত কাজ করে।
ক্যান্থারিস (Cantharis): যদি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সাথে যৌন উত্তেজনা তীব্র হয়, তবে এটি ব্যবহৃত হয়।
১। জরায়ুতে সুড়সুড়ি অনুভব করে, সামনে যাকে পায় তাকেই আলিঙ্গন করে, জরায়ুর স্থানচ্যুতির সাথে সাংঘাতিক কামোদ্রক। গর্ভাবস্থায় কামেচ্ছা বাড়ে। যাহাদের স্বামী সহবাস ঘটে না তাদের কামোন্মাদ। অবিবাহিত তরুণী মেয়েদের কামোন্মাদ-প্লাটিনাম ৩০, দিনে ৩ বার, পরে উচ্চশক্তি ব্যবহার্য ।
২ । রমণীদের দুর্দমনীয় কাম পিপাসা, সহবাসের পরও কাম প্রবৃত্তি নিবৃত হয় না, বরং বৃদ্ধিই হয়-টেরেনটুলা হিস, ৬. ২ ফোঁটা মাত্রায় দিনে ৩/৪ বার ।
৩। মেয়েদের দুর্দ্দমনীয় কাম প্রবৃত্তি সেজন্য কৃত্রিম মৈথুন করিতে বাধ্য হয়, একদিন ও মৈথুন না করে থাকতে পারে না-ওরিগেনাম ৬/৩০।
৪ । কামোন্মাদ হেতু রমণীদের কৃত্রিম মৈথুনের দুর্দমনীয় প্রবৃত্তি নিবারণের জন্য গ্রাটিওলা ৩০, দিনে ২ বার, সপ্তাহ পরে অন্যান্য শক্তি ।
৫ । রমণী প্রেমোম্মত ও কামোনত হলে ওরিগেনাম ৬/৩০, দিনে ২/৩ বার ।
৬। কামোন্মাদনায় বার বার উলঙ্গ হলে বা জননেন্দ্রীয়ে হাত দিলে হায়োসিয়েমাস ৩০, দিনে ২ বার, সপ্তাহ পরে অন্যান্য উচ্চশক্তি ব্যবহার্য ।
৭। স্ত্রীলোকদের পাগল করা কামেচ্ছায় ক্যান্ডে ফস ৬x. ১২x তিন বড়ি দিন ৩ বার ।
৮। স্ত্রীলোকদের কামোন্মাত্ততা ক্যান্থারিস ৩০ দিনে ২ বার।
৯। মহিলাদের যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত হবার প্রবল বাসনাজনিত পাগলামী ব্যারাইটা মিউর ২০০, দিনে ১ বার (ডাঃ কেন্ট) ।
১০। কামবিষয়ক স্বপ্ন দর্শন সেলিক্স নায়াগ্রা Q, আর্জ নাই, ডায়স্কোরিয়া ৩০. দিন ২ বার (ডাঃ বরিক)।
বিঃ দ্রঃ- জননেন্দ্রীয়ের উত্তেজনা সংযত করে কাম চরিতার্থ করার ইচ্ছাকে শান্ত রাখে সেলিক্স নায়গ্রা Q (ডাঃ বরিক)।
মানসিক সহায়তা: এটি কোনো চরিত্রগত দোষ নয়, বরং একটি রোগ। তাই রোগীকে তিরস্কার না করে মানসিক সাহস এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দেওয়া জরুরি।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত যোগব্যায়াম, ধ্যান (Meditation) এবং সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা স্নায়বিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে।
পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা উত্তেজক পানীয় বর্জন করুন।
ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক চর্চা এবং সৃজনশীল কাজে সময় ব্যয় করলে মনের অস্থিরতা কমে।
পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম স্নায়ুচাপ কমাতে সহায়তা করে।
সতর্কতা: এই সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক, তাই নিজে নিজে কোনো ঔষধ সেবন না করে একজন অভিজ্ঞ ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। সঠিক 'পোটেন্সি' বা শক্তি নির্বাচনই এখানে আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।
এটি মূলত নারীদের একটি মানসিক ও শারীরিক অবস্থা যেখানে যৌন আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত তীব্র এবং অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বর্তমানে 'হাইপারসেক্সুয়ালিটি ডিসঅর্ডার' (Hypersexuality Disorder) হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এটি কোনো চারিত্রিক স্খলন নয়, বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা।
এর পেছনে প্রধানত হরমোনের অসামঞ্জস্য (যেমন—ইস্ট্রোজেন বা ডোপামিনের আধিক্য), মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের ত্রুটি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, কিংবা অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো মানসিক ট্রমা বা আঘাত কাজ করতে পারে।
পরিবারের সদস্যদের উচিত রোগীকে ঘৃণা বা তিরস্কার না করে সহমর্মিতার সাথে দেখা। এটি একটি স্নায়বিক রোগ, তাই রোগীকে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে সুস্থ হওয়ার জন্য মানসিকভাবে আশ্বস্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
মোট 9টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন