কামোত্তেজনা (Libido) বা যৌন আকাঙ্ক্ষা একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে যখন এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একজন ব্যক্তির চিন্তা, কাজ ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন তাকে অস্বাভাবিক কামোত্তেজনা (Excessive Libido) বা 'স্যাটিরিয়াসিস' (পুরুষের ক্ষেত্রে) ও 'নিমফোম্যানিয়া' (নারীর ক্ষেত্রে) বলা হতে পারে। এর পেছনে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্নায়বিক উত্তেজনা, অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি আসক্তি কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এই সমস্যার ফলে ব্যক্তি প্রায়ই অনিদ্রা, অপরাধবোধ এবং গভীর মানসিক অবসাদে ভোগেন। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শরীরের হরমোন লেভেলে ভারসাম্য আনে এবং মস্তিষ্কের অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমিত করে। কোনো ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে এবং জীবনীশক্তিকে গঠনমূলক কাজে প্রবাহিত করতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত কামোত্তেজনা এবং এর সাথে জড়িত মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নিচে কিছু ঔষধের নাম দেওয়া হলো:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Phosphorus | যদি রোগীর মধ্যে তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং সাথে শরীর দুর্বল ও হাত-পা জ্বালাপোড়া করার প্রবণতা থাকে। |
| Cantharis | কামোত্তেজনার সাথে যদি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকে এবং যৌন অঙ্গে অস্থিরতা অনুভূত হয়। |
| Staphisagria | যারা অবদমিত যৌন ইচ্ছা বা অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কুফলে ভোগেন এবং মানসিকভাবে খুব সংবেদনশীল। |
| Platinum Met | বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে, যদি কামোত্তেজনা খুব বেশি থাকে এবং সাথে অহংকারী বা গর্বিত স্বভাব থাকে। |
| Hyoscyamus | যদি উত্তেজনার বশে রোগী লজ্জাবোধ হারিয়ে ফেলে এবং অস্বাভাবিক আচরণ বা কথাবার্তা বলে। |
| Picric Acid | যদি পড়াশোনা বা মানসিক পরিশ্রমের সময় কামোত্তেজনা বেড়ে যায় এবং সাথে প্রচণ্ড শারীরিক ক্লান্তি থাকে। |
পুরুষের কামোন্মত্ততা--ক্যান্থারিস, স্যালিক্সনায়াগ্রা, এসিড পিক্রিক, এসিড ফ্লোরিক, থুজা, মেডোরিন । মহিলাদের কামোন্মত্ততা-- ওরিগেনাম, ব্যারাইটা মি । তরুনী মেয়েদের কামোন্মত্ততা--প্লাটিনাম, ওরিগেনাম । স্ত্রী-পুরুষের উভয়ের মধ্যে কামোন্মত্ততা সৃষ্টি করে সেংক্রিজ (ডাঃ বরিক)। Sex কে সংযত ও শান্ত রাখে- স্যালিক্স নায়াগ্রা (ডাঃ বরিক)। কাম প্রবৃত্তি দমন থাকে কিন্তু শক্তি নষ্ট হয় না- এগনাস ক্যাসটাস (ডাঃ সরকার) ২০০ থেকে সেবন করতে হয়।
মানসিক নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ইয়োগা, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। এটি মস্তিষ্কের উত্তেজনা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
সৃজনশীল কাজে মনোযোগ: অবসর সময়ে বই পড়া, বাগান করা বা কোনো গঠনমূলক শখের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ঝাল, গরম মশলা এবং উত্তেজক খাবার পরিহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন।
সতর্কতা: এই সমস্যাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল। তাই স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো ঔষধ বেছে নেওয়ার আগে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।
এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে হরমোনের (যেমন- টেস্টোস্টেরন) ভারসাম্যহীনতা, স্নায়বিক উত্তেজনা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দীর্ঘদিনের অবদমিত কোনো প্রবৃত্তি। এছাড়া বর্তমান যুগে পর্নোগ্রাফি বা উত্তেজক ভিডিওতে আসক্তি মস্তিষ্কের ডোপামিন লেভেল পরিবর্তন করে দেয়, যা অস্বাভাবিক যৌন আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি করতে পারে।
এটি শারীরিক ও মানসিক—উভয় সমস্যার সংমিশ্রণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে 'হাইপারসেক্সুয়ালিটি' বলা হয়। যখন এই চিন্তা বা ইচ্ছা একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায় বা তাকে মানসিকভাবে অশান্ত করে তোলে, তখন একে একটি সমস্যা হিসেবে গণ্য করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হ্যাঁ। অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে সৃষ্ট শারীরিক দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, স্নায়বিক অস্থিরতা এবং দ্রুত বীর্যপাতের মতো সমস্যাগুলো সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া জীবনীশক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
মোট 12টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন