কানে চুলকানি একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর অনুভূতি, যা অনেক সময় আমাদের জনসম্মুখে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। কানে অতিরিক্ত খৈল বা ওয়াক্স জমে যাওয়া, ছত্রাক সংক্রমণ (Fungal Infection), একজিমা, সোরাইসিস কিংবা কানে পানি ঢোকার ফলে এই চুলকানির সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় আমরা না জেনে কাঠি, পালক বা ধারালো কিছু দিয়ে কান চুলকানোর চেষ্টা করি, যা কানের পর্দা বা কানের নরম টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি অনেক সময় কানে ঘা বা পুঁজ তৈরির পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। কানে চুলকানির নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধানে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকর। কারণ হোমিওপ্যাথি কেবল বাহ্যিক চুলকানি কমায় না, বরং এটি কেন হচ্ছে—যেমন ছত্রাক বা অ্যালার্জি—তার মূল কারণ নির্মূল করে। কোনো প্রকার কড়া কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড ড্রপ ছাড়াই লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে কানের স্পর্শকাতর অংশগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং পুনরায় চুলকানি হওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়।
কানের চুলকানির প্রকৃতি ও আনুষঙ্গিক লক্ষণ অনুযায়ী নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Graphites | যদি কানের ভেতরে ও পেছনে অসহ্য চুলকানি থাকে এবং আঠালো বা মধুর মতো রস বের হয়। |
| Pulsatilla | যদি কানে চুলকানির সাথে ভারী ভাব থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসে আরাম বোধ হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর। |
| Sulphur | যদি কানে প্রচণ্ড চুলকানি ও জ্বালাপোড়া থাকে এবং গোসল করার পর বা রাতে বিছানার গরমে চুলকানি বেড়ে যায়। |
| Tellurium | কানের ভেতরে মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত রস নিঃসরণ এবং সেই সাথে তীব্র চুলকানি থাকলে এটি মহৌষধ। |
| Hepar Sulph | চুলকানির সাথে যদি কান খুব স্পর্শকাতর হয় এবং সামান্য বাতাসেও কানে ব্যথা অনুভূত হয়। |
ইহাতে পেট্রোলিয়াম ২০০ থেকে সুন্দর ঔষধ । কেলি সালফ ৬x ২ বড়ি ৩ ঘন্টাত্তর ভাল কাজ দেয়। ক্রাইসারোবিনাম ৬ অথবা সালফার ২০০ আরোগ্যকারী ঔষধ ।
কান পরিষ্কার রাখুন: গোসলের সময় কানে যেন সাবান বা পানি না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। গোসল শেষে কানের বাইরের অংশ নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
ধারালো বস্তু বর্জন করুন: ইয়ার বাড, ম্যাচের কাঠি বা কোনো ধাতব বস্তু দিয়ে কান চুলকাবেন না। এতে কানের নালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুকনো রাখুন: কানে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস সংক্রমণ এড়াতে কান সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।
সতর্কতা: যদি কানে চুলকানির সাথে প্রচণ্ড ব্যথা, রক্তপাত বা পুঁজ দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কানে চুলকানির অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রধান হলো কানের ভেতরে ছত্রাক সংক্রমণ (Otomycosis), অতিরিক্ত খৈল বা ওয়াক্স জমে যাওয়া, কানে পানি ঢোকা, অ্যালার্জি কিংবা কানের ভেতরে একজিমা বা চর্মরোগ হওয়া।
একদমই না। ইয়ার বাড বা কটন বাড ব্যবহার করলে কানের খৈল আরও গভীরে চলে যেতে পারে এবং কানের পর্দার ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া এটি কানের ভেতরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক তেল সরিয়ে ফেলে, ফলে কান আরও বেশি শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত হয়ে পড়ে।
কানের ফাঙ্গাস দূর করতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত দ্রুত ও স্থায়ী কাজ করে। Tellurium বা Graphites-এর মতো ঔষধগুলো কানের নালীর আর্দ্রতা ও পিএইচ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে, ফলে ফাঙ্গাস আর জন্মাতে পারে না। এটি ড্রপ ব্যবহারের চেয়েও বেশি কার্যকর কারণ এটি শরীরের ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
মোট 8টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন