কানে শব্দ হওয়া
All ৫১ ভিউ

কানে শব্দ হওয়া

রোগ সম্পর্কে

কানের ভেতরে বাইরের কোনো উৎস ছাড়াই কোনো শব্দ অনুভব করাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'টিনিটাস' (Tinnitus) বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার উপসর্গ। আক্রান্ত ব্যক্তি কানে ভোঁ ভোঁ, শাঁ শাঁ, বাতাসের গর্জন কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো বিচিত্র শব্দ শুনতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া, কানে ময়লা বা ওয়াক্স জমা হওয়া কিংবা দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করার ফলে এই সমস্যা হতে পারে। টিনিটাস বা কানে শব্দ হওয়ার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত গভীর ও স্থায়ী সমাধান দিতে সক্ষম। প্রচলিত চিকিৎসায় অনেক সময় এই সমস্যার কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যায় না, কিন্তু হোমিওপ্যাথি রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বিচার করে শব্দের ধরণ অনুযায়ী ঔষধ নির্ধারণ করে। এটি কানের স্নায়ুর দুর্বলতা কাটিয়ে তোলে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শব্দের তীব্রতা কমিয়ে আনে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

শব্দের প্রকৃতি অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

কানের শব্দের ধরণ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়, তাই ঔষধও ভিন্ন হয়:

ঔষধের নাম শব্দের প্রকৃতি ও লক্ষণ
Chininum Sulph যদি কানে প্রচণ্ড জোরে ঘণ্টা বাজার মতো বা রেলগাড়ির মতো শব্দ হয় এবং সাথে মাথা ঘোরে।
Natrum Salicylicum কানের শব্দের সাথে যদি শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে এবং কানে ভারী বোধ হয়।
Graphites যদি কানে পটপট শব্দ হয় এবং চিবানোর সময় বা হাঁটার সময় শব্দ বেশি অনুভূত হয়।
Kali Iodatum যদি কানে সবসময় বাতাসের মতো শোঁ শোঁ শব্দ হতে থাকে এবং রোগী অত্যন্ত গরম অনুভব করে।
Sulphur যাদের কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়ার পাশাপাশি মাথায় জ্বালাপোড়া বা চুলকানির সমস্যা থাকে।

সকল প্রকারের কানের শব্দে থিওসিনামিন ২x ২ ঘন্টান্তর । কানের মধ্যে গুণ গুণ শব্দ ও ঝিঁ ঝিঁ শব্দে কাঞ্চালাগুয়া Q, ব্যারাইটা মি ২০০ থেকে অথবা কেলিফস ১২x ২ বড়ি দিনে ৩ বার । কানে শোঁ শোঁ, গুণ গুণ, ঠং ঠং প্রভৃতি নানা প্রকার শব্দ হইলে ফেরাম পিক্রি বা কষ্টিকাম ২০০, দিনে ১ বার (ডাঃ ন্যাস)। কানে নিজের কথার প্রতিধ্বনি শুনার পক্ষে-বেল, কলোসিন্থ, কষ্টিকাম সুন্দর ঔষধ । কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ, টুং টাং আওয়াজ হইলে আর্নিকা ৩০ তিন ঘন্টাত্তর। সমুদ্রের গর্জনের মত, ঘন্টা বাজার মত, গুঞ্জনের মত শব্দ হয়--রডোডেনড্রন (ডাঃ কেন্ট) ২০০ থেকে । কানে ঘন্টাধ্বনি, বিভিন্ন ধরনের শব্দ কষ্টিকাম (ডাঃ বরিক) ২০০ থেকে ।

কুইনাইন সেবনের জন্য কানে গর্জনের মত শব্দ সিডন ৩০/২০০ কানের মধ্যে বহুবিধ শব্দ কার্বোনিয়াম সালফ ৩০/২০০। কানে সংগীত ধ্বনি ক্যাল্কে-সালফ ২০০ থেকে। কানে শব্দ (রাত্রে বৃদ্ধি) ডালকামারা (ডাঃ টাইলার) ২০০ থেকে

কানে বিভিন্ন ধরনের শব্দে কোকা, চায়না, চিনিনাম-সালফ ২০০ থেকে ব্যবহার্য । শব্দগুলো কানে প্রতিধ্বনি হয় কলোসিন্থ 30/200 থেকে। কানে শুন শুন অথবা গর্জন শব্দ লাইকোপডিয়াম (ডাঃ বরিক)। কানে গর্জন, ঘন্টা ধ্বনি, টুনটুন ধ্বনি সিলিসাইলিক এসিড ২০০ থেকে ব্যবহার্য। কানে ঘন্টা ধ্বনি ও কট কট শব্দ পেট্রোলিয়াম ২০০। কানে ফোঁস ফোঁস শব্দ হয় ইথুজা ২০০ থেকে। কানে ভোঁ ভোঁ ও টুং টাং শব্দে আর্নিকা ৩০/২০০ থেকে। কানে ঝিঁ ঝিঁ ও ঝাঁ ঝাঁ শব্দ হল ব্যারাইটা মিউর ২০০ থেকে। কানে কট কট ও চড় চড় শব্দ ক্যাঙ্কে-কার্ব ২০০। কানে গুণ গুণ, টুং টং, সমুদ্রের গর্জনের মত সোঁ সোঁ শব্দ হয় ব্যারাইটা-মি, ক্যাঙ্কে সালফ, গ্রাফাইটিস, সাইলিসিয়া ২০০ থেকে ব্যবহার্য । নিজের স্বর কানের মধ্যে গর্জন করে কষ্টিকাম ২০০ । কানে শব্দ প্রতিধ্বনি হয় বেল, কলোসিন্থ, কষ্টি ২০০ থেকে।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • অত্যধিক উচ্চ শব্দ বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

  • হেডফোন বা ইয়ারফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করুন।

  • মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করুন।

  • সতর্কতা: কানের সমস্যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভুল ঔষধ সেবনে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে, তাই সঠিক মাত্রা ও শক্তির জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

কানে শব্দ হওয়া বা টিনিটাস কি পুরোপুরি সেরে যায়?

হ্যাঁ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে যদি এটি কানের ইনফেকশন, ওয়াক্স বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে হয়, তবে মূল কারণটি চিকিৎসা করলে শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।

হোমিওপ্যাথি কীভাবে কানের শব্দ দূর করে?

হোমিওপ্যাথি মূলত কানের অডিটরি নার্ভ বা শ্রবণ স্নায়ুর সংবেদনশীলতা এবং রক্ত সঞ্চালনের ওপর কাজ করে। শব্দের ধরণ (যেমন—ঝিঁঝিঁ শব্দ, ঘণ্টা বা বাতাসের গর্জন) এবং রোগীর মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ঔষধ দেওয়া হয়, যা ধীরে ধীরে শব্দের তীব্রতা কমিয়ে আনে।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে কি কানে শব্দ হতে পারে?

অবশ্যই। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কানের রক্তনালীতে চাপের কারণে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের মতো শব্দ বা ভোঁ ভোঁ আওয়াজ শোনা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করলে কানের শব্দও কমে আসে।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রোগ

এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন

আপনার কি আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ?

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত

যোগাযোগ করুন