কর্ণমূল বা মাম্পস (Mumps) হলো লালা গ্রন্থির (Parotid Gland) এক ধরণের ভাইরাসজনিত প্রদাহ। এর ফলে কানের নিচে এবং চোয়ালের পেছনের অংশ ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় এই ফোলার সাথে জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা এবং খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা লালার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি শরীরের অন্যান্য গ্ল্যান্ড বা স্নায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। কর্ণমূলের যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত দ্রুত এবং নিরাপদ ফল দেয়। প্রচলিত চিকিৎসায় কেবল জ্বরের ঔষধ দেওয়া হলেও হোমিওপ্যাথি ঔষধ গ্ল্যান্ডের ফোলা কমাতে এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণকে ভেতর থেকে নির্মূল করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক কারণ এই ঔষধগুলো খেতে সুস্বাদু এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
কর্ণমূলের তীব্রতা ও লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Belladonna | যদি ফোলা হঠাৎ দেখা দেয়, আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড দপদপানি ব্যথার সাথে উচ্চ মাত্রার জ্বর থাকে। |
| Mercurius Sol | লালা গ্রন্থিটি যদি খুব শক্ত হয়ে যায়, মুখ দিয়ে লালা পড়ে এবং রাতে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। |
| Pulsatilla | যদি কর্ণমূলের ফোলা এক পাশ থেকে অন্য পাশে স্থানান্তরিত হয় এবং রোগীর পানির পিপাসা একদম না থাকে। |
| Rhus Tox | যদি ফোলাটি বাম পাশে হয় এবং বর্ষাকালে বা ঠান্ডার প্রভাবে ব্যথা ও শক্ত ভাব বেড়ে যায়। |
| Baryta Carb | শিশুদের ক্ষেত্রে যাদের ঘনঘন গ্ল্যান্ড ফলে এবং ঠান্ডা লাগার প্রবণতা বেশি থাকে। |
| Lachesis | যদি গ্ল্যান্ডটি কালচে লাল বর্ণ ধারণ করে এবং গলার বাম দিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে ডান দিকে যায়। |
কর্ণমূল-বাম দিকে ফাইটো, ব্রোমিয়াম, মার্ক-বিনআয়োড । ডান মাম্পস (Mumps)-ইহাতে জ্যাবরাপ্তি ৬ (A valuable remedy in limiting the duration of mumps-Dr. Boericke Metastasis of mumps to Testes or Mammae. Also a দি prophylactic ) দুই ঘন্টাস্তর। পেনিসিলিন ২০০ বা মাইরিষ্টিকা ২০০ তিন ঘন্টাত্তর আশ্চর্য ফল দেয় । পেরোটিডিনাম ২০০ (দিনে ২ বার) আরোগ্যকারক ও প্রতিষেধক ঔষধ (প্রতিষেধক হিসাবে দিনে ১ বার করে ৩ তিন দিন দিবেন) । ডান দিকের মাম্পসে মার্ক-প্রোটো আয়োড ২০০, আর বাম দিকের হইলে ব্রোমিয়াম ৩০ বা মার্ক বিন আয়োড ৩০, চার ঘন্টাত্তর সেব্য । *বাহ্য প্রয়োগের জন্য ট্রাইফোলিয়াম প্রাটেন্সি Q গ্লিসারিনের সাথে মিশাইয়া ব্যবহার করিবেন । এ রোগে ফাইটোলাক্কা ৩০ সুন্দর ঔষধ । রাসটক্স এবং মার্কসল আরোগ্যকারী ঔষধ (ডাঃ সরকার) ।দিকে ব্যারাইটা মিউর, মার্ক-প্রটো আয়োড ।
বিশ্রাম ও বিচ্ছিন্নতা: কর্ণমূল ছোঁয়াচে হওয়ায় রোগীকে আলাদা ঘরে রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন।
তরল খাবার: চিবিয়ে খেতে কষ্ট হলে রোগীকে নরম বা তরল খাবার (যেমন—স্যুপ, ডাবের পানি) দিন। টক জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন কারণ এতে ব্যথা বাড়তে পারে।
গরম সেঁক: ফোলা জায়গায় হালকা গরম কাপড়ের সেঁক দিলে ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
সতর্কতা: কর্ণমূলের কারণে যদি অণ্ডকোষে ব্যথা বা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন কারণ এটি মাম্পসের পরবর্তী জটিলতা হতে পারে।
হ্যাঁ, কর্ণমূল একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত থালা-বাসন বা তোয়ালে ব্যবহার করলেও অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে।
টক বা অম্লজাতীয় খাবার (যেমন—লেবু, আচার) খেলে লালা গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত লালা নিঃসৃত হয়। যেহেতু মাম্পসের কারণে লালা গ্রন্থিটি ফুলে ও অবরুদ্ধ হয়ে থাকে, তাই অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হলে ফোলা জায়গায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয় এবং ব্যথা অনেক বেড়ে যায়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্ণমূলের শুরুতে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর হয়। তবে ফোলা বাড়ার সাথে সাথে জ্বরের তীব্রতা বাড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর ছাড়াও কেবল কানের নিচে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
মোট 14টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন