বিচ্ছু বা কাঁকড়া-বিছার দংশন কেবল যন্ত্রণাদায়কই নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দংশন স্থানে তীব্র জ্বালাপোড়া, হুল ফোটানোর মতো ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া এবং অনেক সময় পুরো অঙ্গে অসাড়তা অনুভূত হয়। গ্রামীণ এলাকায় বা ঝোপঝাড়ের আশেপাশে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিচ্ছুর বিষ এবং তীব্র যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথি ঔষধগুলো বিস্ময়করভাবে কাজ করে। বিশেষ করে যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা পৌঁছাতে সময় লাগে, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথি দংশনের বিষ ছড়ানো বন্ধ করতে এবং স্নায়বিক যন্ত্রণা দ্রুত প্রশমিত করতে সাহায্য করে। এই ঔষধগুলো সরাসরি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগীকে আরাম দেয়।
লক্ষণ এবং দংশন স্থানের অবস্থা অনুযায়ী নিচের ঔষধগুলো ব্যবহৃত হয়:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Ledum Pal | কাঁকড়া-বিছা বা যেকোনো হুল ফোটানো পোকার কামড়ে এটি প্রধান ঔষধ। যদি স্থানটি ঠান্ডা হয়ে যায় কিন্তু রোগী গরম সহ্য করতে পারে না। |
| Hypericum | যদি দংশনের স্থানে প্রচণ্ড স্নায়বিক ব্যথা হয় এবং ব্যথা শরীরের উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। |
| Apis Mellifica | যদি দংশন স্থানটি লাল হয়ে ফুলে যায়, হুল ফোটানোর মতো জ্বালা করে এবং ঠান্ডা প্রয়োগে আরাম পায়। |
| Lachesis | যদি কামড়ানো স্থানটি নীল বা কালচে হয়ে যায় এবং রোগী খুব অস্থির বোধ করে। |
| Cedron | বিষাক্ত পতঙ্গ বা বিচ্ছুর কামড়ের বিষক্রিয়া নষ্ট করতে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর আসা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর। |
ইহাতে নেট্রাম মিউর ৩x৩ বড়ি তিন ঘন্টাগুর খাইলে এবং ৪/৫ বড়ি দিয়া লোশন তৈরি করিয়া আক্রান্ত স্থানে বাহ্য প্রয়োগ করিয়া ভাল ফল পাওয়া যায়। সিডন ৩x, ১০ মিনিট অন্তর সেবনে সুন্দর ফল পাওয়া যায়। লিডাম ২০০, তিন ঘন্টাস্তর ৪/৫ ডোজ ও আক্রান্ত স্থানে ইচিনেশিয়া Q তুলা দ্বারা লাগাইলে মন্ত্রের মত কাজ করে ।
আক্রান্ত স্থান স্থির রাখা: দংশনের স্থানটি বেশি নড়াচড়া করবেন না, এতে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাঁধন দেওয়া: দংশনের কিছুটা উপরে হালকা করে একটি কাপড় দিয়ে বাঁধুন (খুব টাইট করবেন না), যাতে বিষ রক্তে দ্রুত মিশতে না পারে।
বরফ সেঁক: ফোলা ও জ্বালা কমাতে আক্রান্ত স্থানে বরফ বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন।
সতর্কতা: যদি রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়, লালা ঝরতে থাকে বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
বিচ্ছু বা কাঁকড়া-বিছা কামড়ালে আক্রান্ত স্থানে তীব্র জ্বালাপোড়া এবং হুল ফোটানোর মতো ব্যথা হয়। ওই স্থানটি লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে, ঘাম হতে পারে এবং ব্যথার তীব্রতায় আক্রান্ত অঙ্গটি সাময়িকভাবে অবশ মনে হতে পারে।
বেশিরভাগ বিচ্ছুর কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হলেও সাধারণত প্রাণঘাতী হয় না। তবে শিশু, বৃদ্ধ বা যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হতে পারে। যদি শ্বাসকষ্ট, বমি বা ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হ্যাঁ, বিচ্ছুর কামড়ে যদি প্রচণ্ড জ্বালা এবং ফোলা থাকে, তবে বরফ বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়। তবে Ledum Pal এর রোগীদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানিতে ব্যথা কমে, কিন্তু Arsenic Album এর মতো রোগীদের ক্ষেত্রে আবার গরম সেঁকে আরাম মেলে। তাই লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
মোট 4টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন