অজ্ঞান হওয়া বা ‘সিনকোপ’ (Syncope) হলো মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার ফলে হঠাৎ চেতনাশূন্য হয়ে পড়া। এটি কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরম, ভয় পাওয়া, রক্ত স্বল্পতা বা হৃদরোগের কারণেও মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। বারবার অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনো রোগের সংকেতও হতে পারে। অজ্ঞান হওয়ার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত গভীর ও কার্যকর প্রভাব ফেলে। এটি কেবল তাৎক্ষণিক চেতনা ফেরাতে সাহায্য করে না, বরং কেন ব্যক্তি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন—সেই মূল কারণটি খুঁজে বের করে স্থায়ী সমাধান দেয়। প্রাকৃতিক ও মৃদু হওয়ার কারণে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শরীরের স্নায়বিক ও সংবহনতন্ত্রকে পুনরায় সচল করতে অনন্য ভূমিকা রাখে।
অজ্ঞান হওয়ার কারণ ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো সাধারণত ব্যবহৃত হয়:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Aconite | অত্যধিক ভয় বা আতঙ্কের কারণে হঠাত অজ্ঞান হয়ে গেলে এবং মৃত্যুভয় থাকলে। |
| Moschus | সাধারণত স্নায়বিক দুর্বলতা বা হিস্টিরিয়া জনিত কারণে মূর্ছা গেলে এটি দ্রুত কাজ করে। |
| Gelsemium | প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং খারাপ কোনো সংবাদ শুনে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতায় কার্যকর। |
| China | শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত বা তরল পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট দুর্বলতা থেকে অজ্ঞান হলে। |
| Glonoine | প্রচণ্ড গরমে বা রোদে যাওয়ার ফলে মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে গেলে এটি প্রধান ঔষধ। |
১। খারাপ (শোক) সংবাদ পেয়ে অজ্ঞান হলে ইগ্নেশিয়া ৩০, আর সংবাদ পেয়ে অজ্ঞান হলে কফিয়া ৩০, ২/৪ মিঃ পর পর ।
২। সূর্য তাপে বা প্রচন্ড গরমে হঠাৎ অজ্ঞান হলে গ্লোনইন ৩০
৩। রক্ত দেখে অজ্ঞান হলে নাক্স মশ্চেটা ৩০।
8। রক্তস্রাবের কারণে অজ্ঞান হলে চায়না ।
৫।আঘাতের পর অজ্ঞান হলে আর্নিকা ।
৬। তড়িতাহত বা বজ্রাঘাত জনিত অজ্ঞানে মর্ফিনাম, ফসফরাস।
৭। অস্ত্রোপচার দেখে অজ্ঞান হলে একোন বা হাইপেরিকাম।
৮। পরীক্ষা দিতে বসে অজ্ঞান হলে জেলসিমিয়াম ।
৯।রাগ হয়ে অজ্ঞান হলে জেলস, কলোসিন্থ, ক্যামো।
১০। ভয় পেয়ে অজ্ঞান হলে ওপিয়াম বা একোনাইট ৩০।
ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সমতলে শুইয়ে দিন এবং পা দুটি সামান্য উঁচুতে রাখুন যাতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে।
শরীরের টাইট পোশাক ঢিলে করে দিন এবং ভিড় সরিয়ে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা করুন।
মুখে পানির ঝাপটা দিন কিন্তু জোর করে কিছু গেলাতে চেষ্টা করবেন না।
সতর্কতা: অজ্ঞান হওয়া একটি জটিল উপসর্গ হতে পারে। ঔষধ সেবনের আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (যেমন: ECG বা Blood Test) করিয়ে নিন।
অজ্ঞান হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যাওয়া। এটি অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা, হঠাৎ ভয় পাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া (Low BP), বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। যেমন—ভয় পেয়ে অজ্ঞান হলে একরকম ঔষধ, আবার রোদ লেগে অজ্ঞান হলে অন্যরকম ঔষধ। এটি শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে সমতলে শুইয়ে দিন এবং তার পা দুটি শরীরের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে (বালিশ বা কিছুর ওপর) রাখুন। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়। তার গায়ের কাপড় ঢিলে করে দিন এবং পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা করুন।
মোট 15টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন