রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ (Menopause) প্রতিটি নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, তবে এই সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর ও মনে নানা জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীর জীবনের একটি নির্দিষ্ট বয়সে (সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে) যখন ঋতুস্রাব বা মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাকে 'রজোনিবৃত্তি' বা মেনোপজ (Menopause) বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়, বরং প্রকৃতির এক স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এই সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করায় নারীরা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গে ভোগেন। হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া (Hot Flashes), রাতে অতিরিক্ত ঘাম, অনিদ্রা, হাড়ের ক্ষয়, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং অকারণ দুশ্চিন্তার মতো সমস্যাগুলো এই সময়ে প্রকট হয়ে ওঠে। মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তিকালীন এই কঠিন সময়টিকে সহজ ও আরামদায়ক করতে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হোমিওপ্যাথি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
রজোনিবৃত্তিকালীন বিভিন্ন উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে নিচের ঔষধগুলো বহুল ব্যবহৃত:
| ঔষধের নাম | ব্যবহারের লক্ষণ |
| Lachesis | মেনোপজের সময়ের প্রধান ঔষধ। বিশেষ করে 'হট ফ্লাশ' বা হঠাৎ শরীর জ্বালা করা এবং আঁটসাঁট পোশাক পরতে অস্বস্তি বোধ করলে। |
| Sepia | যদি রোগী খিটখিটে হয়ে যায়, পরিবারের প্রতি উদাসীনতা দেখা দেয় এবং তলপেটে নিচে নামার মতো ভারবোধ থাকে। |
| Pulsatilla | মেজাজ বারবার পরিবর্তন হওয়া, সামান্য কারণে কান্না পাওয়া এবং খোলা বাতাসে ভালো বোধ করলে। |
| Sulphur | যদি রাতে পায়ের তালু ও মাথার তালুতে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া হয় এবং রোগী গোসল করতে অনিচ্ছুক হয়। |
| Calcarea Carb | অতিরিক্ত ঘাম (বিশেষ করে মাথায়), স্থূলতা এবং হাড়ের ব্যথার প্রবণতা থাকলে। |
| Ignatia | মেনোপজ চলাকালীন যদি অতিরিক্ত মানসিক শোক, বিষণ্ণতা বা হিক্কার সমস্যা থাকে। |
১. জরায়ু থেকে প্রচুর রক্তস্রাবে ট্রিলিয়াম পেভু ২x,. সিনামন O/2x, ৩/৪ ফোঁটা দিনে ২/৩ হব সেব্য। আর্জেন্টাম মেট ২০০ থেকে উচ্চতর শক্তি, মিলিফোলিয়াম ও সুন্দর কাজ দেয়। মেডোরিনাম উচ্চ শক্তিতে ব্যবহার্য । অরাম মিউর এবং ইপিকাক হাজার ও তদোর্ধ সুন্দর ঔষধ।
২। উত্তাপাবেশে সালফার ব্যবহার্য। এটা বার্থ হলে সালফিউরিক এসিড। শক্তি ২০০ থেকে হাজার।
৩। শরীরে খুব ঘাম হতে থাকলে ল্যাকেসিস (ক্যাভে, হিপার) ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি ।
৪। হলুদ বা সাদা প্রদর স্রাবে ট্রিলিয়াম ২x উত্তম, ৩/৪ ফোঁটা দিনে ২/৩ বার খাবে ।
৫। রক্তস্রাবে খুব দুর্বলতা দেখা দিলে প্রথমে চায়না ৩০ ও পরে এসিড ফস ৩০ ব্যবহার্য ।
৬। যার বন্ধের সময় বিভিন্ন উপসর্গে ব্রায়ো, পালস, সিমিসি, নিকেলি,সিপিয়া, মেডো, খুজা ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহৃত হতে পারে
৭। বুক ধড়ফর করলে ক্র্যাটিগাস Q বা ডিজিটেলিশ ৩০ ব্যবহা তাতে উপকার না হলে ল্যাকে, ন্যাজা, ক্যাটাস ব্যবহার করা যায়।
৮। মোটা মহিলাদের উপসর্গে ক্যাল্কে-আর্স (ডাঃ বরিক)
বিঃ দ্রঃ রজোনিবৃত্তিকালের বিভিন্ন উপসর্গের জন্য একটি বিশিষ্ট ঔষধ হল ল্যাকেসিস। ২০০ থেকে অন্যান্য শক্তি ব্যবহার্য
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে দুধ, দই, ছানা এবং ছোট মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন।
নিয়মিত ব্যায়াম: হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা যোগব্যায়াম করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং হট ফ্লাশ কমাতে প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
সতর্কতা: ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার আগে বা পরে রক্তস্রাবের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে বংশগত কারণ বা জীবনযাপনের ওপর ভিত্তি করে এটি কিছুটা আগে বা পরেও হতে পারে। যদি ১২ মাস টানা মাসিক বন্ধ থাকে, তবে তাকে মেনোপজ হিসেবে ধরা হয়।
হট ফ্লাশ হলো মেনোপজের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। এতে হঠাৎ করে শরীরের উপরের অংশ, বিশেষ করে মুখ, ঘাড় ও বুক প্রচণ্ড গরম হয়ে যায় এবং ঘাম হতে থাকে। ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা (Thermostat) বিঘ্নিত হওয়ার ফলে এমনটি ঘটে।
ইস্ট্রোজেন হরমোন হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। মেনোপজের পর এই হরমোন কমে যাওয়ায় হাড় দ্রুত ক্যালসিয়াম হারায় এবং ভঙ্গুর হয়ে পড়ে (Osteoporosis)। এর ফলে কোমর, হাঁটু ও জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়।
মোট 18টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন