অনেকেরই বসা থেকে ওঠার সময় বা হাঁটার সময় হাঁটু, ঘাড় বা হাতের জয়েন্টে 'কটমট' বা 'ফটফট' শব্দ হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্রেপিটাস বলা হয়। সাধারণত জয়েন্টের ভেতরে থাকা সাইনোভিয়াল ফ্লুইড (এক ধরণের পিচ্ছিল তরল) কমে গেলে বা বাতাসের বুদবুদ তৈরি হলে এমন শব্দ হয়। এটি অনেক সময় হাড়ের ক্ষয়ের (Osteoarthritis) প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। হোমিওপ্যাথি এই সমস্যার মূল কারণ দূর করে জয়েন্টের নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কাজ করে।
জয়েন্টের শব্দের জন্য রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী নিচের ওষুধগুলো ব্যবহার করা হয়:
সন্ধিতে কটমট শব্দ-কষ্টি, নেট্রাম-মি, প্রেট্রোল, নাইট্রিক এসিড, লিডাম, ককুলাস, বেঞ্জোয়িক এসিড। সন্ধিতে কড় কড় শব্দ-থুজা, ক্যাঙ্কার। জানুগুলোতে কটমট শব্দ বেঞ্জোয়িক এসিড, ককুলাস, ক্রোকাস স্যাট, কষ্টি, কলো । সন্ধিতে ছিড়ে যাবার মত ব্যথা-কষ্টি, মেডো ২০০ থেকে ব্যবহার্য। মাথা নাড়ার সময় ঘাড়ের মেরু দন্ডাস্থির কটমট শব্দ ককুলাস (ডাঃ বরিক) ২০০ থেকে ।
যদি হাড়ের জয়েন্টে শব্দের সাথে ভীষণ আড়ষ্টতা (Stiffness) থাকে এবং মনে হয় যেন পেশি ছোট হয়ে গেছে, তবে কাস্টিকাম সবচেয়ে কার্যকর।
নড়াচড়া করলে যদি জয়েন্টে শব্দ হয় এবং ব্যথা বেড়ে যায়, আর বিশ্রাম নিলে আরাম বোধ হয়, তবে এটি সেরা ওষুধ। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানটি শুষ্ক অনুভূত হতে পারে।
হাড়ের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হাড় ক্ষয়ের কারণে যদি জয়েন্টে কটমট শব্দ হয়, তবে এটি হাড়ের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
যদি পায়ের গোড়ালি বা ছোট ছোট জয়েন্টে কটমট শব্দ হয় এবং ঠান্ডা প্রয়োগে আরাম লাগে, তবে লিডাম পাল অত্যন্ত কার্যকরী।
যদি অনেকক্ষণ বসে থাকার পর প্রথম নড়াচড়ায় শব্দ ও ব্যথা হয়, কিন্তু কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে আরাম লাগে, তবে রাস টক্স দেওয়া হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান: সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বজায় রাখতে প্রচুর পানি পান করা জরুরি।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: হাড়ের মজবুত গঠনের জন্য দুধ, ডিম এবং সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।
ব্যায়াম: জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়াতে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সঠিক শক্তির (Potency) ওষুধ নির্বাচনের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা জরুরি।
হ্যাঁ, যদি লিগামেন্ট বা টেন্ডন হাড়ের ওপর দিয়ে মুভ করার সময় সামান্য সরে যায় এবং আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসে, তখন এক ধরণের 'স্ল্যাপিং' বা শব্দ হতে পারে।
সব সময় নয়। যদি শুধু শব্দ হয় কিন্তু কোনো ব্যথা বা ফোলা না থাকে, তবে এটি সাধারণত জয়েন্টের ভেতরে গ্যাসের বুদবুদ ফাটার কারণে হয়। তবে শব্দের সাথে ব্যথা থাকলে তা হাড়ের ক্ষয় বা বাতের লক্ষণ হতে পারে।
আমাদের জয়েন্টের ভেতরে 'সাইনোভিয়াল ফ্লুইড' নামক একটি তরল থাকে। জয়েন্ট স্ট্রেচ করলে ওই তরলে নাইট্রোজেন গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হয় এবং তা ফেটে গেলে শব্দ হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ক্যাভিটেশন' বলা হয়।
মোট 11টি ওষুধ
এই রোগের সাথে সম্পর্কিত আরও রোগ সম্পর্কে জানুন
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত
যোগাযোগ করুন