গলায় কি যেন আটকাইয়া আছে
All ৫৩ ভিউ

গলায় কি যেন আটকাইয়া আছে

রোগ সম্পর্কে

অনেকের মনে হয় গলায় যেন কিছু একটা আটকে আছে, যা গিললে নিচে নামে না আবার কাশির সাথেও বেরিয়ে আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় 'গ্লোবাস ফ্যারিনজিয়াস' (Globus Pharyngeus) বা সাধারণ ভাষায় 'গ্লোবাস হিস্টেরিকাস'। এটি কোনো টিউমার বা কঠিন কোনো বস্তু নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি মানসিক উদ্বেগ (Anxiety), অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির কারণে গলার পেশির সঙ্কোচন থেকে সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো থাইরয়েড বা টনসিলের সমস্যার কারণেও এমন অনুভূতি হতে পারে। রোগী বারবার ঢোক গেলার চেষ্টা করেন কিন্তু অস্বস্তি থেকেই যায়। এই ধরণের সংবেদনশীল ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় হোমিওপ্যাথি বিস্ময়কর ফলাফল দেয়। যেহেতু এই সমস্যাটির সাথে স্নায়ুতন্ত্র এবং মানসিক অবস্থার গভীর সংযোগ রয়েছে, তাই হোমিওপ্যাথি রোগীর মানসিক লক্ষণ এবং শারীরিক কষ্টের ধরন বিশ্লেষণ করে ঔষধ নির্বাচন করে। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমায় না, বরং এর মূলে থাকা গ্যাস্ট্রিক বা মানসিক উদ্বেগকে চিরতরে দূর করতে সাহায্য করে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এটি গলার পেশিকে শিথিল করে স্বাভাবিক ঢোক গেলার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনে।

বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি

লক্ষণ অনুযায়ী প্রধান হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (Treatment Overview)

গলায় আটকে থাকার অনুভূতির ধরন অনুযায়ী নিচে কিছু কার্যকরী ঔষধের নাম দেওয়া হলো:

ঔষধের নাম ব্যবহারের লক্ষণ
Ignatia Amara যদি মানসিক শোক, দুঃখ বা উদ্বেগের কারণে মনে হয় গলায় দলা পাকিয়ে কিছু আটকে আছে। এটি এই সমস্যার প্রধান ঔষধ।
Lachesis যদি গলার বাম পাশে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হয় এবং শক্ত কোনো কিছু গিলতে কষ্ট হয় কিন্তু তরল বা খাবার গিললে আরাম লাগে। কলার বা টাই পরতে অস্বস্তি হয়।
Asafoetida যদি পেটে প্রচুর গ্যাস বা বায়ু জমে এবং সেই গ্যাস উপরের দিকে উঠে এসে গলায় বল বা গোলার মতো আটকে আছে বলে মনে হয়।
Natrum Mur যদি গলায় কিছু বিঁধে থাকার মতো বা মাছের কাঁটার মতো অনুভূতি হয় এবং রোগী লবণাক্ত খাবার পছন্দ করে ও মুখ শুকনো থাকে।
Baryta Carb বিশেষ করে বৃদ্ধ বা শিশুদের ক্ষেত্রে যাদের টনসিল বা গলার গ্ল্যান্ড ফোলা থাকার কারণে এই অস্বস্তি হয়।
Nux Vomica যদি অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত চা-কফি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে গলার অস্বস্তি তৈরি হয়।

১। ইহাতে আর্জ নাইট এবং থুজা সুন্দর ঔষধ । ২। একটি গোলাকার পদার্থ গলছিদ্র অবরোধ করে ও রোগী পর পর ঢোক গিলে লক্ষণে ল্যাকেসিস । ৩। অনবরত ঢোক গিলিবার ইচ্ছা ল্যাক ক্যান, রকাস ক্যকটাই ২০০ দিনে ১ বার। ইহাতে সোডিলা ২০০ ব্যবহার করা যায়। ৪। গলায় কি যেন আটকাইয়া আছে লক্ষণে ইগ্লেসিয়া ২০০, দিনে ১ বার। ৫। গলার ভিতর সূতা ঝুলিতেছে বোধ হইলে ভ্যালেরিয়ানা ২০০, দিনে ১ বার। ৬। একটি গোলাকার পদার্থ গলার উপর ঠেলিয়া উঠিতেছে এই রূপ অনুভূতি হইলে ইগনেসিয়া ২০০, তিন দিন পর পর এক মাত্রা । গরম খাদ্য খেয়ে গলা জলে গেলে ক্যান্থারিস বা কষ্টিকাম ৩০. ২/৩ ডোজ। গলার মধ্যে আঁচিলের ন্যায় উপমাংশ-আর্জ নাইট (ডাঃ ন্যাস)। গিলিবার সময় মনে হয় গলায় যেন একটি পুটলি আছে সোডিলা ৩০ থেকে খাদ্য গলায় আটকে যায় ও শ্বাসরোধ হয় ব‍্যারাইটা কার্ব, ব্যান্টিসিয়া, কেলি-কার্ব, গ্রাফাইটিস, মার্ককর (ডাঃ কেন্ট) 200 থেকে ব্যবহার্য। গলায় যেন পিশু আটকাইয়া আছে সেৰাডিল, এসাফিটিডা ৩০/২০০ থেকে ব্যবহার্য । গলায় খাদ্য আটকাইয়া যায় ব্যারাইটা কার্ব । অন্ননালীর সংকোচন দেখুন (অ-অধ্যায়) । পিন্ড গলার মধ্যে (পেট থেকে অন্ননালীর দিকে) ঠেলিয়া উঠে- এসাফিটিডা, ল্যাকেসিস, ল্যাক ক্যান, ব্যৱাইটাকার্ব (ডাঃ বরিক) ৩০ থেকে ব্যবহার্য । গিলিবার সময় মনে হয় গলায় যেন একটি গোঁজ বিধে আছে-আর্জ-নাই, নাই-এসিড, হিপার এনাকার্ডিয়াম, সাইলিসিয়া ২০০ থেকে ।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ

  • পর্যাপ্ত জল পান: গলা সব সময় ভেজা রাখার চেষ্টা করুন। কুসুম গরম জল পান করলে পেশি শিথিল হয়।

  • গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণ: ভাজাপোড়া ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ অনেক সময় 'অ্যাসিড রিফ্লাক্স' বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে গলার অস্বস্তি বাড়ে।

  • মানসিক প্রশান্তি: যেহেতু এটি উদ্বেগের সাথে জড়িত, তাই নিয়মিত ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

  • সতর্কতা: যদি এই অনুভূতির সাথে খাবার গিলতে প্রচণ্ড ব্যথা হয় কিংবা ওজন কমে যায়, তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

রোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন

গলায় কিছু আটকে থাকার মতো মনে হওয়া কি ভয়ের কিছু?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো গুরুতর রোগ নয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'গ্লোবাস ফ্যারিনজিয়াস' বলা হয়। এটি সাধারণত গলার পেশির সংকোচন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অ্যাসিডিটির কারণে হয়। তবে যদি খাবার গিলতে কষ্ট হয় বা ওজন কমতে থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক দুশ্চিন্তার সাথে গলার এই অস্বস্তির কী সম্পর্ক?

গ্লোবাস সেনসেশনের সাথে মানসিক অবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যখন আমরা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকি বা কোনো শোক বা উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাই, তখন গলার পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মনে হয় গলায় যেন বল বা দলা পাকানো কিছু আটকে আছে।

হোমিওপ্যাথি কি এই সমস্যা পুরোপুরি সারাতে পারে?

হ্যাঁ, হোমিওপ্যাথি এই সমস্যার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গলায় কোনো শারীরিক বাধা (যেমন- টিউমার) পাওয়া যায় না, তখন Ignatia বা Asafoetida-এর মতো ঔষধগুলো খুব দ্রুত কাজ করে। এটি গলার পেশির জড়তা কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।