এবারে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে আজ মঙ্গলবার। আবহাওয়ার অধিদপ্তর সৃএ জানিয়েছে, এর আগে কত ৩১ শে ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জ, 7 দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সে তাপমাত্রা কমে হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সেই তাপমাত্রা আজ রেকর্ড হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীতে। আজ ওই রাজশাহী সহ ১০ জেলা সুতো প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা কিন্তু আজ বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আজ রাজশাহীতে যে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, তা ঐ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগামী ৩ থেকে ৪ দিন তাপমাত্রা উঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০/১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়; তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আজ সকাল ৯টায় বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশীতে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নওগাঁয় সকালে কুয়াশার পরিমাণ কমে রোদের দেখা মিললেও উত্তরের হিমেল বাতাস অব্যাহত থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় সকাল ৯টার দিকে কথা হয় রিকশাচালক খবির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোদ উঠিছে, তারপরও ঠান্ডার চোটত হাত-পা ক্যানক্যান করিচ্ছি। মনে হচ্ছে হাত-পার রগ জড়ে যাচ্ছে। ঠান্ডার জন্য হাত দিয়ে ইকশার (রিকশা) হ্যান্ডেল ঠিক মতন ধরতে পারিচ্ছি না। ইকশা চালানাই কঠিন হয়ে পড়ছে।’
নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে কথা হয় দিনমজুর মিরাজ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তিন থেকে চার দিন ধরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বাড়িত থ্যাকে ব্যার হয়নি। আজকে সকালে যদিও খুব ঠান্ডা লাগছে, তারপরও সকালে রোদ ওঠায় কাজ করতে বাড়িত থ্যাকে ব্যার হয়ে আসিছি। কিন্তু ব্যার হয়ে দেখি ব্যাপক বাতাস করোছে। শীতের চোটত গায়ে চাদর জড়ায়েও ঠান্ডা কমোছে না।’
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার পরিমাণ কমে সকালেই রোদ উঠলেও আকাশ পরিষ্কার থাকায় উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি বেড়েছে। এ কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ ধরনের আবহাওয়া আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসেই আরও তিন থেকে চারটা শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
1 week ago
1 week ago
1 week ago
1 week ago
1 week ago
1 week ago