চতুর্থ অধ্যায়
দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীন ব্যাংক:
‘গ্রামীণব্যাংকের কর্মীরা দিন মজুর, ক্ষেত মজুর, তাঁতী, মুচি, ঋনী, ভিক্ষুক, সর্বহারা বিধবা, স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্তা ও পরিত্যক্তা নারীসহ সকল শ্রেণীর ভূমিহীন ও বিত্তহীনদেরকে একটি ঋণ দান কাঠামোর মধ্যে এনে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছেন এবং তাঁদের শ্রম দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েছেন।
১৯৮৮ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, গ্রামীণব্যাংকের ঋণ পরিশোধের শতকরা হার ছিল ৯৮ ভাগ। এরপরই ছিল ব্র্যাকের অবস্থান, তাদের ঋণ পরিশোধের হার ৮৩-৯২%। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থা ছিল রুপালী ব্যাংকের, তাদের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল শতকারা ৭৮%। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংকের, মাত্র ৩২%।
বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বলা হয়। যদিও তখনও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম নিয়ে অনেক বিতর্ক ছিল।
দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে তখনকার গবেষণাগুলোতে এগিয়ে রাখা হতো গ্রামীণব্যাংককে। ‘ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক অস্ত্র। এক অর্থে এটি সম্পদও বটে। এ তরল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ করে ব্যক্তি এবং শ্রেণী আয় ও ক্ষমতা বাড়াতে পারে। বাংলাদেশের ঋণ বিতরণ অভিজ্ঞতা মোটেই সমতাভিত্তিক নয়।
কি শহরে কি গ্রামে এ সম্পদের একচেটিয়া অধিকারী শ্রেণী গড়ে উঠেছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদক শ্রেণী এ থেকে যথেষ্ট লাভবান হতে পারেনি। অবশ্যি গ্রামীণব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ ( রহমান, ১৯৮৯)
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোডের গ্রামীণকর্মসূচী, গ্রামীণব্যাংক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন গ্রামীণদরিদ্রদের সংগঠিত করছে। সংগঠিতদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে মহিলা।
উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা নিয়ে কাজ করে ‘এসোড’ নামের একটি এনজিও। এক গবেষণায় দেখা যায়, তাদের যোগাযাগ কাঠামো ততোটা শক্তিশালী নয়। তাছাড়া প্রকল্পের কার্যক্রমের কোন ফলোআপও ছিল না।
ফলে তাদের প্রকল্পের অগ্রগতি আর অর্জনের কথা মুখে বললেও বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।
পঞ্চম অধ্যায়
বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংক এর ভূমিকা:
বাংলাদেশের ৩১.৫% লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক এ দারিদ্র্য বিমোচন ক্ষেত্রে গুরুপূর্ণ ভূমিকা পালন থাকে। গ্রামীণ দরিদ্র, বঞ্চিত, উন্নয়ন কর্মকান্ড বািহর্ভূত জনগোষ্ঠীকে রক্ষা ভূক্ত দল হিসেবে চিহ্নিত করে শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও ঋণসহ প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোহিতার নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে।
যার দ্বারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের জীবন যাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করতে পারে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করে থাকে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীন ব্যাংকের ভূমিকা অপরিসীম । নিম্নে এর বিসÍারিত আলোচনা করা হলো-
১.ঋণদান ও দারিদ্র্য বিমোচন ঃ দরিদ্র জনগনকে ঋণদানের মাধ্যমে আয়বৃদ্ধি মূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করতে গ্রামীন ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ঋণের মাধ্যমে গ্রামীন জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাগ্য নিজেরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে । গ্রামীন ব্যাংক ডিসেম্বর ২০০২ পর্যন্ত বিতরনকৃত ঋণের পরিমাণ ১৯১৪৪.০৪ কোটি টাকা। উক্ত সময়ের মধ্যে আদায়কৃত ঋণের পরিমাণ ১৭৫৪২.৩০কোটি টাকা । গ্রামীন ব্যাংকের সদস্যদের এ সময় পর্যন্ত আদায়ের পরিমাণ ৯৯৭.২২ কোটি টাকা ।
২. কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনঃ
বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কৃষি নির্ভর । এদেশের অর্থনীতি হলো কৃষি নির্ভর । গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নত করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।
এক্ষেত্রে কৃষকদের প্রশিক্ষণ উন্নত বীজ প্রদান সার বিতরণ আধুনিক চাষাবাদের যন্ত্রপাতি সরবরাহ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে গ্রামীণ ব্যাংক।
৩.কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যে বিমোচনঃ
আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ১.৫ কোটি লোক বেকার । এদের মধ্যে অনেকের কাজ করার ইচ্ছা বা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের অভাবে কাজ করতে পারছে না। গ্রামীণ ব্যাংক বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রদান করে এ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে।
৪.শিক্ষার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনঃ
শিক্ষা হলো একটি সমাজ উন্নয়নের হাতিয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও সার্বজনীন শিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়নি। সুতরাং এই শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এক্ষেত্রে কার্যক্রমগুলো হলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বয়স্ক শিক্ষাসহ শ্রমজীবি শিশু কিশোরদের জন্য শিক্ষা এবং বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি।
৫.টেকসই উন্নয়নেঃ টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণ গ্রামীণ ব্যাংক টেকসই উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবেশ রক্ষায় তাদের কার্যক্রমগুলো হলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি রেশম চাষ রাস্তার পাশে চারা রোপন চারা বিতরণ সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনগণকে সংগঠিতকরণ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার সংগঠিতকরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে গ্রামীণ ব্যাংক।
আমি একজন প্রযুক্তি ও কনটেন্টপ্রেমী ব্যক্তি, যিনি বাংলা ভাষাভাষী ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ, নির্ভুল ও তথ্যসমৃদ্ধ ডিজিটাল সেবা তৈরি করতে আগ্রহী। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, SEO-ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট, ইসলামিক তথ্যভিত্তি...
আমাদের সর্বশেষ এবং জনপ্রিয় ব্লগ পোস্টসমূহ
1 month ago
1 month ago
1 month ago
1 month ago
1 month ago
1 month ago
সর্বশেষ আপডেট এবং আর্টিকেল পান।